রেলপথে কয়লা এনে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে রঘুনাথপুরের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে

রেলপথে কয়লা এনে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে রঘুনাথপুরের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে
20 Feb 2021, 07:04 PM

রেলপথে কয়লা এনে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে রঘুনাথপুরের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

সড়ক পথের পাশাপাশি রেল পথেও কয়লা নিয়ে আসা এনে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে রঘুনাথপুরের ডিভিসির তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে । এই কারণে আজকেই মালগাড়ি করে কয়লা নিয়ে আসা হল পুরুলিয়া জেলার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

শনিবার সকালে দক্ষিণ পূর্ব রেলের পুরুলিয়া জেলার জয়চন্ডী রেলস্টেশন থেকে কয়লা নিয়ে মালগাড়ি পৌঁছাল রঘুনাথপুরের এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। ডিভিসির পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে,  ওই মালগাড়ির ইঞ্জিনে চালকের সাথেই ছিলেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) দেবাশিস দেব সহ ডিভিসি,  রেলের অধীন সংস্থা রাইটস এবং রেলের আধিকারিকেরা। এদিন রেলপথে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন কয়লা পৌঁছেছে সেখানে।

ডিভিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  ৩১ মার্চ ২০১৬ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচনালগ্ন থেকেই সড়কপথে ডাম্পারের মাধ্যমে কয়লা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাতে খরচ যেমন বাড়ছিল,  তেমনই পর্যাপ্ত কয়লা না পাওয়ায় ১২০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তার পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছিল না।

ডিভিসির রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রজেক্ট হেড অসীম নন্দী জানান,  “বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন পেতে প্রতিদিন ১৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন। কিন্তু সড়কপথে তা পাওয়া যাচ্ছিল ১০-১১ হাজার মেট্রিক টন বা তারও কম।” তিনি জানান, রেলপথে মালগাড়ির মাধ্যমে দ্রুত বেশি পরিমাণ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও অনেকটাই কমবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত লাইন পাতার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল আগেই। ডিভিসি সূত্রে জানানো হয়েছিল, ওই লাইন ট্রেন চলাচলের যোগ্য কিনা তা খতিয়ে দেখেছিল কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি। তাদের সবুজ সঙ্কেত মেলায় গত মাসে ডিজেল ইঞ্জিন চালিয়ে সেই লাইন পরীক্ষা করেছিলেন ডিভিসি ও রেলের আধিকারিকেরা। তারপরও ইলেকট্রিক, সিগ্যালিং সহ আরও কিছু কাজ সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার ইলেকট্রিক ইঞ্জিন দিয়ে আরও এক দফা সামগ্রিক ব্যবস্থা পরীক্ষা করার হয়। সেই পরীক্ষার পরই এদিন কয়লা সহ মালগাড়ি পৌঁছাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

২০০৯ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ধে এবং রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের শিলান্যাস করেন এবং তিন বছরের মধ্যে রেললাইন পাতার কাজ শুরু হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় রেললাইন পাতার কাজ। ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে,  জমি জটিলতা এবং অন্যান্য প্রতিকূলতা কাটিয়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন পাতার কাজে এখন জয়চন্ডী রেল রেলস্টেশন থেকে ২৪ কিলোমিটার সিঙ্গল লাইন পাতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন  ডবল লাইনের কাজ চলছে। এই রেলপথের ট্রেন চলাচলের জন্য জয়চন্ডী স্টেশনে প্যানেল কেবিনের পাশাপাশি, চিনপিনা,  উপর খাজুরা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে লিঙ্ক কেবিন। অসীমবাবু জানান, “প্রতিদিন কমপক্ষে চারবার মালগাড়িতে কয়লা নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে  এখনই সড়ক পথে কয়লা নিয়ে আসা বন্ধ করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিছুদিন দুই পথেই কয়লা এনে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

ads

Mailing List