তিন কন্যা সন্তানের মা, বিধবা মহিলাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করলেন রঘুনাথপুর থানার পুলিশ অফিসার 

তিন কন্যা সন্তানের মা, বিধবা মহিলাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করলেন রঘুনাথপুর থানার পুলিশ অফিসার 
31 Jan 2021, 07:00 PM

তিন কন্যা সন্তানের মা, বিধবা মহিলাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করলেন রঘুনাথপুর থানার পুলিশ অফিসার 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়পুরুলিয়া

তিন কন্যা সন্তানের মা স্বামী হারানো বিধবা মহিলার আর্থিক অসুবিধায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন এক পুলিশ অফিসার। মানবিক ওই পুলিশ অফিসারের নাম জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত।  জানা যায়, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানার বেড়ো অঞ্চলের ঠেকারা গ্রামের বাসিন্দা বছর ৪৫-এর সুভাষ কৈবর্ত্যর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল গ্রামের অদূরে ঠেকারার জঙ্গল থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাসে। কিন্তু, গত ছয় মাস ধরে তার পরিচয় জানতে পারছিল না পুলিশ। ঘটনার ছয় মাস পর মৃত সুভাষ কৈবর্ত্যর স্ত্রী শিবানী কৈবর্ত্য ছবিতে স্বামীর শরীরের পরিহিত কাপড় দেখে সনাক্ত করে পুলিশকে জানিয়েছিল দেহটি তার স্বামীর। এরপরই রঘুনাথপুর থানার পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে ঠেকারা গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ কৈবর্ত্যর দু দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তারই মধ্যে আবার তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে সেই অবস্থায় তার বাপের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে সুভাষ। এমত অবস্থায় আর্থিক অনটনের চাপ বাড়তে থাকে সুভাষের। কী করলে কী হবে ভেবেও কিনারা করতে না পেরে সে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই কারণে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাড়িতে তার বৃদ্ধ মাকে রেখে মানসিক অবসাদে গ্রামের অদূরে জঙ্গলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। ঘটনার কয়েকদিন পর রঘুনাথপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে জঙ্গল থেকে ঝুলন্ত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুরুলিয়া দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালের মর্গে। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তার কোন পরিচয় পায়নি রঘুনাথপুর থানার পুলিশ। ঘটনার ছয় মাস পর সালঞ্চি গ্রামের বাপের বাড়ি থেকে শিবানী কৈবর্ত্য রঘুনাথপুর থানার পুলিশের দেখানো মৃতদেহের ছবিতে তার স্বামীর কাপড় চিনতে পেরে দেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। ওই মহিলা আরও একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। 

এরপরই পুলিশ জানতে পারে তিন কন্যা সন্তান ও স্ত্রী ছাড়া সুভাষ কৈবর্ত্যর বৃদ্ধা মা রয়েছেন। কোনও ভাবে ভিক্ষাবৃত্তি করে ওই বৃদ্ধা জীবনযাপন করে। এই দৃশ্য তদন্তকারী রঘুনাথপুর থানার পুলিশ অফিসার জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ওই পুলিশ অফিসার বিষয়টি তৎকালীন রঘুনাথপুর ১ব্লকের বিডিও-কে জানান ও সাহায্য করার অনুরোধ রাখেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিডিও ওই পরিবারটিকে মাসে মাসে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু, বাকি সমস্তকিছু কিভাবে জোড়াগ করবে ওই তিন শিশুকন্যা ও বৃদ্ধা শাশুড়ি মাতাকে নিয়ে। তাই ওই মহিলাকে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন পুলিশ অফিসার জয়ন্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি ঘোষণা করে, যতদিন বাঁচতে ততদিন ওই মহিলার ব্যাঙ্ক একাউন্টে প্রতিমাসে এক হাজার করে টাকা পাঠিয়ে দেবেন। সেই কথামতো নতুন বছরের প্রথম মাসের টাকা এদিন তিনি পাঠিয়েও দেন। এ বিষয়ে পুলিশ অফিসার জয়ন্তবাবু খবরে আসতে না চেয়ে বলেছেন, এ আর তেমন কী করলাম। মানুষ হয়ে এটা করা দরকার মনে করলাম তাই ওই মহিলাকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছি। আমি যতদিন বাঁচব ততদিন আমি ওই মহিলার ব্যাঙ্ক একাউন্টে এক হাজার করে টাকা পাঠাব।

ads

Mailing List