আসছে টুসু পরব,  ‘চৌডল’ তৈরিতে ব্যস্ত পুরুলিয়ার শিল্পীরা

আসছে টুসু পরব,  ‘চৌডল’ তৈরিতে ব্যস্ত পুরুলিয়ার শিল্পীরা
08 Jan 2021, 06:45 PM

আসছে টুসু পরব,  ‘চৌডল’ তৈরিতে ব্যস্ত পুরুলিয়ার শিল্পীরা

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই মকর সংক্রান্তির উৎসবে মেতে উঠবে সকল বাঙালি। সারা রাজ্যের সঙ্গে পুরুলিয়া জেলাতেও অনুষ্ঠিত হবে উৎসব। অবশ্য পুরুলিয়াবাসীর কাছে এই মকর সংক্রান্তির পোশাকি নাম হল 'মকর পরব' । নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলে এই উৎসব। আর পুরুলিয়া জেলায় এই মকর পরবের প্রধান অঙ্গ হল 'টুসু পরব' । টুসু ছাড়া মকরের মেলা জমে না। টুসু মায়ের নিমিত্তে বাঁশ, পাটের কাঠি, রঙিন কাগজ আর কৃত্রিম মালা দিয়ে তৈরি কাঠামোকে পুরুলিয়ার ভাষায় বলা হয় ‘চৌডল’ । সেই ‘চৌডল’ তৈরি করে থাকে জেলার গ্রামগঞ্জের অনেক ছোট ছোট শিল্পীরা। কোনও কোনও পরিবার আবার ‘চৌডল’ তৈরিকে তাদের পূর্ব পুরুষদের প্রতিষ্ঠিত জাতিগত পেশা রূপে প্রাণ দিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তেমনই কিছু পরিবার বসবাস করেন জেলার  আড়শা ব্লকের বেলডি গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনডিহা গ্রামে। এদের পদবী হল ‘যোগী’। এই

গ্রামে পঁচিশটি যোগী পরিবারের বসবাস। তাদের মধ্যে ‘চৌডল’ শিল্পী দিলীপ যোগী ও সিদাম যোগী জানালেন, নানা দেবদেবীর কৃত্রিম অলংকার ডাক সাজপোশাক ইত্যাদি বানানোর পাশাপাশি প্রতিবছর এই সময় তারা ‘চৌডল’ তৈরীর কাজে বিশেষ জোর দিয়ে থাকেন। কেননা দেবদেবীর সাজ-পোশাক তো অনেক জায়গাতেই তৈরি হয় কিন্তু মকর পরবে টুসুর জন্য চৌডল নিয়ে মেলা একমাত্র পুরুলিয়া জেলাতেই হয়ে থাকে। তাই কাজের বরাতও পান ভালোই। কিন্তু, এ বছর করোনার জেরে তেমন একটা বরাত পাননি। তবে, দেখা যাক শেষ অবধি কী হয়। বিশেষ করে গত দুবছর থেকে আশেপাশের দশটি গ্রামের লোকজনের উদ্যোগে আড়শা এলাকায় একটি বড়সড় পৌষ মেলা শুরু হয়েছে। সেই মেলার প্রধান আকর্ষণ হল ‘চৌডল প্রতিযোগিতা’। কে

কত ভালো ‘চৌডল’ প্রদর্শন করতে পারে তা নিয়ে মকর সংক্রান্তির দিন চলে ক্ষমতা জাহিরের লড়াই। তার জন্য অবশ্য মোটা অংকের পুরস্কারও থাকে। আর সেই জন্যই এখন ‘চৌডল’ নির্মাণের বরাত অনেক বেড়েছে, বলে জানান দিলীপবাবু, সিদামবাবুরা। তারা বলেন, এখন আধুনিকতায় মেতে গিয়ে তরুণী প্রজন্মের বরাত মতো সুদৃশ্য ‘চৌডল’ বানাতে গিয়ে তাদের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। ৫ ফুট থেকে

শুরু করে ১০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার ‘চৌডল’ তৈরীর বরাত পেয়েছেন তারা। বরাত বাদেও আরও বহু ‘চৌডল’ তারা তৈরি করে থাকেন। সেই ‘চৌডল’ কেউ কেউ শিল্পীদের

বাড়িতে এসে কিনে নিয়ে যান। আবার শিল্পীদের ঘরের লোকজন পসরা সাজিয়ে আশেপাশের  আড়শা, সেনাবনা, বড়টাড়, রাঙ্গামাটি প্রভৃতি গ্রামীণ হাটে ‘চৌডল’ বিক্রি করতে নিয়ে যায়। অবশ্য এ সমস্ত কাজে পরিবারের শিশু শিল্পীরা যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে, গ্রামীণ এই হস্তশিল্পের কাজে এখন চরম ব্যস্ততার জন্য ‘চৌডল’ শিল্পীদের অন্য কোনও কাজ করার বিন্দুমাত্র ফুরসত নেই।

Mailing List