রাত পোহালেই টুসু উৎসব, করোনার ধাক্কায় ভাটা পড়েছে চৌডল বিক্রিতে

রাত পোহালেই টুসু উৎসব, করোনার ধাক্কায় ভাটা পড়েছে চৌডল বিক্রিতে
13 Jan 2021, 06:07 PM

রাত পোহালেই টুসু উৎসবকরোনার ধাক্কায় ভাটা পড়েছে চৌডল বিক্রিতে

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

"আসছে মকর দুদিন সবুর কর, তোরা বাঁকা পিঠার যোগাড় কর, আসছে মকর..." রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি৷ আর সেই পরব উপলক্ষে রাঢ় বাংলা পুরুলিয়া জেলা জুড়ে পালিত হবে টুসু পরব৷ পরবের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে৷ এই উপলক্ষে পুরুলিয়া শহরের বাজার এলাকাগুলি এদিন  ছেয়ে গিয়েছে রংবেরঙের চৌডলে। বুধবার চলল চৌডল কেনা-বেচা পর্ব৷ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলারা চৌডল কিনতে ভিড় জমিয়েছিলেন শহরের বাজারগুলিতে৷ চৌডলের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা দামেরও বিক্রি হয়েছে। বাজারের আনাচে-কানাচে চৌডল মিললেও, ব্যবসায়ীদের দাবি, বিক্রি গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে৷ কারণ, করোনার প্রকোপ। 

জানা গিয়েছে, প্রথা মেনে মকর পরবের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার  বাওরির দিন চৌডল কিনে বাড়িতে স্থাপন করতে হয়৷ তারপর সারারাত জেগে টুসু গান গাইবেন বাড়ির মহিলারা সেই চৌডলের সামনে বসে৷ আগামীকাল চৌডলে টুসুকে চাপিয়ে গান গাইতে গাইতে কংসাবতী নদী-সহ শহরের বিভিন্ন জলাশয়ে দেওয়া হবে বিসর্জন৷ চৌডল শিল্পী কালিপদ যোগী জানান, "সকাল থেকে বিক্রি ভালোই হচ্ছে৷"

আরও এক চৌডল শিল্পী সন্তোষি যোগী জানান, "প্রায় ১৫-২০ দিন আগে থেকে চৌডল তৈরি করা হয় বাড়িতে৷ বাঁশ, কাঠ, রঙিন কাগজ, আঠা, ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় চৌডলকে৷ বছরের এই সময় চৌডল বিক্রি করে হাতে একটু পয়সা দেখতে পাই৷ তবে, বিগত বছরের তুলনায় বিক্রিটা একটু কমেছে৷ কারণটা করোনা।" পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের কোটলুই গ্রামের বাসিন্দা ভাগ্য প্রামাণিক জানান, "মকর সংক্রান্তির আগের রাতে টুসুর গান গেয়ে সারারাত গ্রাম বাংলার মেয়েরা জেগে থাকেন৷ এটা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব৷ চলে খাওয়া-দাওয়া৷ আর মকর সংক্রান্তির দিন সকালে দলে দলে টুসুকে চৌডলে চাপিয়ে গান গাইতে গাইতে কংসবতী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়৷ সেইদিন নতুন জামাকাপড় পরার রেওয়াজ রয়েছে৷ উৎসবে মেতে ওঠে গ্রাম বাংলার মানুষজন৷" 

Mailing List