পুরুলিয়া ভ্রমণ: বামনি জলপ্রপাত, মুরগুমা লেক, মার্বেল লেক / দ্বিতীয় পর্ব

পুরুলিয়া ভ্রমণ: বামনি জলপ্রপাত, মুরগুমা লেক, মার্বেল লেক / দ্বিতীয় পর্ব
27 Sep 2023, 11:00 AM

পুরুলিয়া ভ্রমণ: বামনি জলপ্রপাত, মুরগুমা লেক, মার্বেল লেক / দ্বিতীয় পর্ব

 

দীপান্বিতা ঘোষ

 

ভৌগোলিক পরিচয়:

 ভূপ্রাকৃতিক দিক দিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরে রয়েছে সুউচ্চ হিমালয়, পশ্চিমে মালভূমি, দক্ষিণে বিস্তৃত সমভূমি।

 

পশ্চিমের মালভূমি (অযোধ্যা রেঞ্জ):

 পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলটি দাক্ষিণাত্যের মালভূমি ও ছোটনাগপুর মালভূমির বর্ধিত অংশ। মালভূমি হলেও এখানে বেশ কয়েকটি পাহাড় দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরুলিয়ার বাগমুন্ডি ও অযোধ্যা পাহাড়।

 মালভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দামোদর, অজয়, ময়ূরাক্ষী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী, হলদি, কেলেঘাই, সুবর্ণরেখা। এই নদীগুলিতে বর্ষাকাল ভিন্ন অন্য সময় জল প্রায় থাকে না।

 বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল ধরে রাখার জন্য যেমন ড্যাম বা জলাধার তৈরি করা হয়েছে সেরকম প্রাকৃতিকভাবে ও বেশ কিছু লেক বা হ্রদ গড়ে উঠেছে।

আজকের পর্বে থাকছে অযোধ্যা রেঞ্জ

এবং PPSP (Purulia Pump Storage Project) তথা এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

 বাগমুন্ডি থেকে অযোধ্যা রেঞ্জে যাওয়ার পথে মাত্র 2 থেকে 3 কিলোমিটারের মধ্যেই পড়বে বিশাল নদী-বাঁধ (kistobazar nullah) যেখানে বর্ষার অতিরিক্ত জল ধরে রাখা হয়।

এখানের অতিরিক্ত জল কখনো আপার ড্যামে পাঠানো হয়। কখনো আপারডাম থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়। মাঝে Via হিসেবে কাজ করে লোয়ার ড্যাম। এবং টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। PPSP বা পুরুলিয়া পাম্প স্টোরেজ প্রজেক্ট প্রায় 500 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

 এই কেষ্ট বাজার বাঁধ বা লোয়ার ড্যাম বা আপার ড্যাম সমস্ত জলাধারের জল নিয়ন্ত্রিত হয় বামনি ফলস দ্বারা। বামনি জলপ্রপাত হল একটা পাহাড়ি স্রোত।

 বামনি জলপ্রপাতের একটা অংশ যায় আপার ড্যামে আর কিছুটা অংশ যায় তুর্গা ড্যামে।

  1. লোয়ার ড্যাম

  ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠলে প্রথমেই পড়বে লোয়ার ড্যাম।লোয়ার ড্যাম যাওয়ার রাস্তায় একদিকে বিস্তৃত উঁচু পাহাড়…. উল্টোদিকে গভীর খাদ। রাস্তা অজস্র বাঁক নিতে নিতে একসময় এসে পৌঁছাবে লোয়ার ড্যামে। লোয়ার ড্যামের সৌন্দর্য সত্যিই বর্ণনাতীত।

চারদিকে সু-উচ্চ পাহাড়,মাঝে লোয়ার ড্যামের জলের রং গাঢ় নীল।

 

  1. আপার ড্যাম

আবার 3 থেকে 4 কিলোমিটার একই রকম ভাবে পাহাড়ী আঁকাবাঁকা পথ….এক পাশে খাদ অন্য পাশে উচু পাহাড়। এভাবে আরও কিছুটা উপরে উঠলে  এক সময় এসে পৌঁছাবো আপার ড্যামে।

বর্ষাকালে আপার ড্যামের ব্রিজ থেকে এক অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। ব্রিজের একদিকে ড্যাম যার রং গাঢ় নীল….. উল্টোদিকে রয়েছে কাশের ঘন বন। এখান থেকে আরো কিছুটা এগোলে পড়বে মার্বেল লেক।

  1. মার্বেল লেক

 চারদিকে পাথরে ঘেরা শক্ত উঁচু পাহাড়। শুধু যেদিকটা দিয়ে আমরা হ্রদের জলের কাছাকাছি পৌঁছাবো সেই জায়গাটা দিয়ে নেমে গেছে এক গভীর খাদ। ফলে কিছুটা অংশ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা আছে। মাঝের নিচু অংশের খানিকটা জায়গা জুড়ে রয়েছে ছোট্ট হ্রদ।

 সাদা পাথরের মাঝে কালো জলের রূপের বাহার সত্যিই অসাধারণ।

4.মুরগুমা লেক

ভিড় এড়িয়ে কোলাহলের বাইরে ছুটি কাটাতে হলে  মুরগুমা লেক এক আদর্শ জায়গা। মুরগুমা লেক দেখলে মনে হবে এ যেন এক টুকরো কাশ্মীর।

অযোধ্যায় পাহাড় ও সাহারাঝোর নদীর শোভা মনে করিয়ে দেবে কাশ্মীরের ডাল লেক-কে। এই সাহারাঝোর হল কংসাবতীর উপনদী।

মুরগুমা লেকের সূর্যাস্ত দেখতেও অনেকে এখানে আসেন। এছাড়া মুরগুমাতে সুইসাইড পয়েন্ট দেখতে ভুলবেন না। সুইসাইড পয়েন্টে একদিকে খাদের গভীরতা অন্যদিকে পাহাড়ের উচ্চতা মনে ভয় ধরাবে। অযোধ্যার বিস্তীর্ণ এলাকাকে এই ভিউ পয়েন্ট থেকে উপভোগ করা যায়।

  1. বামনি জলপ্রপাত:

 বামনী জলপ্রপাতের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আসতে হবে প্রায় 700 সিঁড়ি ভেঙ্গে এর নিচের অংশে।

 প্রথমের 250 ধাপ সিঁড়ি তৈরি করা আছে। বাকি পুরোটাই কিন্তু পাথর কেটে কেটে ধাপ তৈরি করা পাহাড়ি রাস্তা।

এখানে প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপে বসবাস করে। চারদিকে বাতাস স্যাঁতসাঁতে এবং আর্দ্র। একটা গন্ধ ভেসে আসে, যা সম্ভবত sprus গাছের। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, ভেজা পথ, ঝোপঝাড়,পাহাড়ের ময়লা জল, কোথাও ছোট গাছ কোথাও শ্যাওলা পুরো এলাকাটা জুড়ে অ্যাডভেঞ্চারের অনুভূতি নিয়ে আসে।কোন কোন অংশে ঝোপ ও লতানো গাছ এমন ভাবে উপরে আচ্ছাদন তৈরী করেছে যে নিচে সূর্যালোক পড়তেই দেয় না।এখানে প্রকৃতি নির্মল,শান্ত। একটাই শব্দ ভেসে আসে সেটা হল ওপর থেকে নিচে জল পড়ার শব্দ।

Mailing List