পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ‘হীরক রাজার দেশ’ জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন 

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ‘হীরক রাজার দেশ’ জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন 
28 Dec 2020, 06:38 PM

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ‘হীরক রাজার দেশ’ জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন 

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

কনকনে শীত ও করোনাকে উপেক্ষা করেই সোমবার ২৮ ডিসেম্বর দিনের পড়ন্ত বিকেলে শুরু হল পুরুলিয়ার বিখ্যাত "হীরক রাজার দেশ" জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব ২০২০-২১।

আনুষ্ঠানিক ভাবে এদিন বিকেলে পাহাড়ের পাদদেশে "সত্যজিৎ রায় মঞ্চে" উৎসবের উদ্বোধন করেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে সঙ্গে নিয়ে রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক দিব্যা মুরুগেশন। এসডিও ছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার এস সিলভা মুরগান, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, মেলা কমিটির সভাপতি তথা রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন মদন বরাট, মেলা কমিটির সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী-সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

২৮ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২০১ পাঁচদিন ধরে এই উৎসব চলবে। এবার এই উৎসব পঞ্চদশ বর্ষে পদার্পণ করল। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে হাজার হাজার উৎসায়ী পর্যটক এসেছে মেলা প্রাঙ্গণে। সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা মঞ্চ।

তাই এবার এই জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবের আলাদা আকর্ষণ। কলকাতার বেলেঘরিয়া থেকে আসা মোহিত মন্ডল, সোনালী মন্ডলরা জানান, এই জয়চন্ডী পাহাড়ের সুন্দর মনমুগ্ধ প্রাকৃতিক দৃশ্য তাদের হৃদয় কেড়ে নিয়েছে। তাদের আরও খুব ভালো লাগছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ সরল সোজা মন নিয়ে কোনওরকম নিরাপত্তা ছাড়াই করোনা বিধি মেনে এই পাহাড়ে কী সুন্দর ভাবে ঘোরা ফেরা করছে। তাদের আশা আগামী দিনে রঘুনাথপুরের এই জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব কেবল রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নয়, দেশ ও বিদেশেও স্থান করে নেবে। অপর এক পর্যটক ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে আগত দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই জয়চন্ডী পাহাড়ের পর্যটন উৎসবে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। খুব ছোট বেলায় একবার এসেছিল। তখনকার জয়চন্ডী আর বর্তমানের জয়চন্ডী পাহাড়ের তফাৎ হয়েছে অনেকটাই। এদিন উদ্বোধনী সংগীত "আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে" গানের পাশাপাশি, গুপি বাঘার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন রঘুনাথপুরের মান্না দে-এর গুরুকুল মিউজিক কলেজ। এছাড়া এলাকার বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা উদ্বোধনী নৃত্যে ও আদিবাসী নৃত্যে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে জম জমাট। রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন মদন বরাট বলেন, গত চোদ্দ বছর আগে পুরুলিয়ার এই রঘুনাথপুর শহরের জয়চন্ডী পাহাড়কে ঘিরে শুরু হয়েছে জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব। মদনবাবুর দাবি, বিগত বছরগুলোকে ছাপিয়ে এবার এই উৎসবে পর্যটকদের ভিড় রেকর্ড ভাবে বাড়বে। কারণ, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষজন বাড়ির বাইরে বের হতে পারেনি, পাশাপাশি  এবার পর্যটকদের থাকার জন্য যুব আবাস ও কটেজগুলি খুলে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য  মদন বরাটের এই দাবিকে আগেই শিলমোহর দিয়েছেন পর্যটকরা। এবার পর্যটন উৎসবের আগেই ডিসেম্বরের শুরু থেকেই জয়চন্ডী পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু হয়েছে। পর্বতারোহীদের ভিড়ে গমগম করছে এই পাহাড়। বহিরাগত পর্যটকদের সাথে এলাকাবাসীদের সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে "সত্যজিৎ রায় মঞ্চে" কনকনে শীত রজনীকে উত্তাপ দিতে কলকাতা থেকে সারেগামাপা জি বাংলার পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও আসছেন এই পর্যটন উৎসবে। তাই এবার হয়তো পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের হীরক রাজার ব্রাত্য দেশ জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব শেষ অবধি পর্যটনের স্থান হিসেবে গণ্য হতে চলেছে। তাই উপেক্ষিত দেশের স্বীকৃত পাওয়ার আনন্দে আত্মহারা রঘুনাথপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। এছাড়া, এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চে এই মেলাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসককে বলে গেলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

Mailing List