বিদেশে ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দিতে রাজ্য তথা দেশ থেকে প্রথম ডাক পেলেন পুরুলিয়ার মৌসুমী চৌধুরী

বিদেশে ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দিতে রাজ্য তথা দেশ থেকে প্রথম ডাক পেলেন পুরুলিয়ার মৌসুমী চৌধুরী
04 Jan 2021, 08:44 PM

বিদেশে ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দিতে রাজ্য তথা দেশ থেকে প্রথম ডাক পেলেন পুরুলিয়ার মৌসুমী চৌধুরী

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়

 

বিদেশে ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের প্রথম মহিলা  ছৌ শিল্পী হিসেবে পুরুলিয়ার মৌসুমী চৌধুরী প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বছর ২৩ এর  মহিলা ছৌ শিল্পী মৌসুমী চৌধুরীর বাড়ি পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার মালডি গ্রামে। ওই শিল্পী এক সাক্ষাৎকারে জানায়, ২০১৮ সাল থেকে বিদেশে অর্থাৎ নরওয়ের ট্রন্ডেম শহরে  সে পুরুলিয়ার বিখ্যাত ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দিয়ে যায়।

সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির জন্য  সে কিছুদিন আগে পুরুলিয়ার বাড়ি ফিরে এসেছে। ২০২০-তেও তার সিঙ্গাপুরে ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ডাক এসেছিল, কিন্তু করোনা ও লকডাউনের জেরে তা যাওয়া হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফের বিদেশে ছৌ নাচের প্রশিক্ষণ দিতে সে পাড়ি দেবে। 

পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা দেশের সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ হলো ছৌ নাচ। আর পুরুলিয়া তার অন্যতম পীঠস্থান। যেখান থেকে মৌসুমী চৌধুরীর মতো এক তরুণী ছৌ শিল্পী  ছৌ নাচকে এক নতুন মাত্রা জুগিয়েছে। এমনকী, আজ বিদেশে পাড়ি দেওয়ার ডাক আসছে তার কাছে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। এতদিন ছৌ নাচে শুধু দেখা যেত পুরুষদের, কিন্তু মৌসুমী দেখিয়ে দিয়েছে  পুরুলিয়া জেলায় প্রথম মহিলা ছৌ শিল্পী হয়ে। পরে তাকে দেখে এগিয়ে এসেছেন আরও অনেক মেয়ে।বর্তমানে পুরুলিয়ায় গড়ে উঠেছে মেয়েদের একাধিক ছৌ নাচের দল। তবে, ছৌ শেখানোর জন্য মৌসুমী চৌধুরীই রাজ্য তথা দেশ থেকে প্রথম ডাক পেলেন।

জানা যায়, ছোট থেকেই ছৌ নাচকে সঙ্গী করে বেড়ে উঠেছে মৌসুমী। তার পুরো পরিবারেই ছৌ নাচের সঙ্গে যুক্ত। যার কারণেই ছৌ-এর বাজনা মৌসুমীর মনে দোলা দিত ছোটবেলা থেকেই। একসময় নিজেও ছৌ নাচ শেখার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে পড়ে সে। প্রস্তাব যায় তার বাবার কাছে। মৌসুমীর এমন প্রস্তাবে অবশ্য আপত্তি করেননি তার বাবা। শুধুমাত্র স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের কথা। বাবার প্রশিক্ষণে কঠিন ছৌ নাচ শিক্ষার চ্যালেঞ্জ নেয় মৌসুমী। শুরু হয় তার হাতে খড়ি। যদিও এতদিন পর্যন্ত ছৌ নাচ ছিল পুরুষদের প্রাধান্য। কারণ, মেয়েরা সেভাবে কখনো ছৌ নাচ শিখতে আসেননি। এরপরেই মৌসুমী ভর্তি হন ছৌ শিক্ষার কর্মশালায়। মৌসুমীকে দেখে ছৌ নাচ শিখতে শুরু করলেন তার বোন-সহ গ্রামের আরও বেশ কিছু মহিলা। পুরুলিয়ায় নতূন করে তৈরী হল মেয়েদের ছৌ দল। এখন গ্রামের বহু ছেলে মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেন মৌসুমী। বাবা জগন্নাথ চৌধুরীকে সামনে রেখে মেয়েদের ছৌ দল গড়ে তুলেছেন মৌসুমী। যার নাম দেওয়া হয়েছে মিতালি ছৌ দল মালডি। যে দল পুরুলিয়ার বুকে প্রথম মেয়েদের ছৌ দল বলেই পরিচিত। এরপরই, মেয়েরা ছৌ নাচ করছেন শুনে ভ্রু কুঁচকেছেন অনেকেই, হয়েছে সমালোচনাও। তবে কালের বিধানে দেশ বিদেশে মৌসুমীর পারফরমেন্স দেখে মুখ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন সমালোচকেরা। পাশাপাশি মেয়েরা যে যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে ছৌ নাচ করতে পারেন তা বাস্তবে দেখিয়ে দিয়েছেন মৌসুমী।

মৌসুমী জানান, বিদেশের নরওয়েতে গিয়ে ছৌ নাচ পারফরমেন্স করে এলাম, তারপর থেকেই সেই সব সমালোচক মানুষজনের মধ্যে একটু একটু চিন্তা ভাবনাগুলো পাল্টে গিয়েছে। মৌসুমীর সঙ্গে তার বোন শ্যামলী চৌধুরীরও নাচে হাতে খড়ি বাবার হাত ধরেই। জানা যায়, দিদিকে দেখেই  অনুপ্রেরণা পেয়েছেন শ্যামলী-সহ অন্যান্য মেয়েরা। এবিষয়ে মৌসুমী চৌধুরীর বাবা জগন্নাথ চৌধুরী জানান, তারা পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ইতিমধ্যে মৌসুমীদের দেখে পুরুলিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ টি মেয়েদের ছৌ নাচের দল তৈরী হয়েছে। যা মৌসুমীর বাবার সব থেকে বড় পাওনা বলে তিনি জানিয়েছেন।

Mailing List