মাওবাদীদের নামে পোস্টার লাগিয়ে তোলা আদায়ে অভিযুক্ত খোদ পুলিশ! ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার ৬

মাওবাদীদের নামে পোস্টার লাগিয়ে তোলা আদায়ে অভিযুক্ত খোদ পুলিশ! ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার ৬
02 Jul 2022, 03:15 PM

মাওবাদীদের নামে পোস্টার লাগিয়ে তোলা আদায়ে অভিযুক্ত খোদ পুলিশ! ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার ৬

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: মাওবাদীদের নাম করে পোস্টার লাগানোর ঘটনা শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন ধরে। পোস্টার লাগিয়ে হুমকি দিয়ে চলছিল তোলা আদায়। তারপর পুলিশও কড়া হাতে তার মোকাবিলায় নামে। এবার ঝাড়গ্রামে সেই অভিযোগে গ্রেফতার হল পুলিশের এক কনস্টেবল-সহ ৬ জন! ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র, মোবাইল ফোন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছে জামবনি থানার হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডিও। শনিবার সকালে মাওবাদীদের নাম পোস্টার লাগানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়  বাহাদুর ও তার সঙ্গীরা।

জঙ্গলমহলে এক সময় মাওবাদীদের দাপটের কথা কারও অজানা নয়। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়া – এই জেলাগুলির বিস্তীর্ণ এলাকায় ছিল মাওবাদীদের প্রভাব। তবে বর্তমানে মাওবাদীদের প্রভাব নেই বলেই দাবি জানিয়ে আসছে রাজ্য সরকার। কিন্তু সম্প্রতি মাওবাদীরা ঝাড়গ্রামে বনধ ডাকে। বনধে ব্যাপক সাড়াও মেলে। সেই ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্যকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলে। তারপর জঙ্গলমহলে সমস্ত পুলিশ কর্মীর ছুটি বাতিল করে দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য নিজে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়াতে গিয়ে বৈঠকও করেন। শুরু হয় জোরকদমে চিরুনি তল্লাশি।

কিন্তু তা সত্ত্বেও মাঝে মধ্যেই জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে পোস্টার পড়ছিল। লাল কালিতে মাওবাদীদের স্টাইলে পোস্টারগুলি লেখা হলেও সেগুলি যে আদপে মাওবাদীদের কাজ নয় তা প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়েছিল পুলিশের। পরবর্তীকালে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

সম্প্রতি একই ঘটনা ঘটতে থাকে ঝাড়গ্রামের জামবনি এলাকায়।  তারই সঙ্গে ফোনেও টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়া বা চিঠি দিয়ে টাকা তাওয়ার অভিযোগও উঠছিল। পুলিশ তখন কড়া নজরদারি শুরু করে। শনিবার সকালে মাওবাদীদের নামে ফের পোস্টার লাগাতে গিয়ে একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে বাহাদুর। তার সঙ্গে ছিল শংকর মণ্ডল, মলয় কর্মকার, মহেন্দ্র হাঁসদা, বাবলু দলই, বাবুলাল সরেন। সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা কিছু টাকাও তুলেছিল। এর সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঝাড়গ্রামের জেলা পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা বলেন, ‘‘আমরা ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু চিঠি পেয়েছি। টাকাও উদ্ধার হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই ভয় দেখানোর জন্য এভাবে নকল চিঠি, পোস্টার দেওয়া চলছিল। আমরাও সজাগ ছিলাম। কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।’’

Mailing List