চম্পা রায়ের কবিতা

চম্পা রায়ের কবিতা
11 Sep 2022, 02:10 PM

চম্পা রায়ের কবিতা

 

সুধাবারি

 

দুয়ার খানি খুলে দাও প্রভু

দুয়ার খানি খোলো

তব পূজা লাগি বসে আছি দ্বারে

অবগুন্ঠন খানি তোল।

 

অসীম আকাশে তোমারে পেয়েছি

হে প্রভু হে গুরুদেব

তুমি যে মোর কৃষ্ণ ভগবান

তুমি যে  নাথ, মহাদেব।

 

আকাশে বাতাসে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া

তব পদ রেনু ভাসে

গন্ধে মাতন, আমি যে মাতাল

আমি যে পূজার আশে।

 

তব চরণের পূজার লাগি

মন যে আকুলিয়া

আমি যে আজ রাধার সখি

তুমি শ্রীমতি বিষ্ণুপ্রিয়া।

 

হে প্রভু হে ভগবান

ঠাঁই দাও তবে চরণে

মনের হরষে গীত গোবিন্দে

ভাসিব হৃদয়ের স্বপনে।

 

মধুর যামিনী, মধুর প্রীতে

ভাসিবে নয়ন সুখ নদীতে

হৃদয়ে গথিত হাজার নাম

ভাসিবে সুধাবারিতে।

....

 

মনের ব্যথা

 

ওই পাখিটা ডাকছিস কেন

বর্ষা মেঘের গায়

তোর গায়ে যে বৃষ্টি ফোঁটা

মুক্ত আভা ছড়ায়।

 

ডালের কোণে বসে থেকে

হাওয়াই দুলিস তুই

বৃষ্টি ঝরা আকাশ মেঘে

মন কিসে ছুঁই ছুঁই।

 

মনটা যেন ভরা মেঘে

সব হারানোর বেলা

পাখি যে তুই হারালি কি

তোর প্রাণেরই মেলা।

 

যেথায় বসে গল্প করতিস

গানে ভাসতিস মিলে

আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টি এসে

ভাসিয়ে যেসব নিলে।

 

ঘর ভাঙলো ছানাও গেল

সঙ্গী হারা হলি

সবকিছু যে হারিয়ে বসে

একলা ভিজে ম লি।

 

আয়না পাখি মনের কাছে

শুনবো মনের কথা

হালকা হবি প্রাণ জুড়াবি

আর ভুলবি মনের ব্যথা।

......

 

প্রহরেতে

 

পৃথিবীর যত সুন্দর প্রভু             

তোমার মাঝেই পাই

পৃথিবীর যত মধুর বাণী

তোমার কন্ঠেই ঠাঁই।

 

তোমায় দেখলে দেখিতে হয় না

আর সুন্দরতা

তোমার কন্ঠের মধুর বাণীতে

প্রাণে অসীম মধুরতা।

 

কৃষ্ণ নামের মধুরতা তুমি

তুমিই শ্রেষ্ঠতম, রাধা রানী

তোমার মাঝে নিজেরে হারাই

পাই যত শোভা, মননে মানি।

 

আত্মার মাঝে তুমি সেইটুকু

পৃথিবী চালনাময়

হৃদয়ের মাঝে হৃদ টুকু তুমি

তুমি যে শ্রেষ্ঠ সর্বময়।

 

ওহে পিতা দেবতা তুমি

তুমি গুরুদেব ভগবান

তুমি যে আত্মার আত্মীয়তা হেন

তুমি যে প্রাণ, জগতের মেহমান।

 

তোমায় দেখিয়া আরো সাধ জাগে

তোমায় শুনিয়া শুনিতে

সকল বুঝিয়া না বোঝার আঁধার

তুমি যে রত্ন প্রতি প্রহরে তে।

............

 

উদাস কবি

 

প্রিয়ারে নিয়ে মন মেতেছে

উদাসী হওয়ার লগন

তাহারে দেখি, প্রাণে, মনে দেখি

খুশিতে কত যে মগন।

 

মনের ঘোরে আমার হিয়ায়

বসন্ত বাতাস বয়

ঘন বেনুবন মাতাল, বেতাল

মন সে তো আন মনে রয়।

 

তোমারে দেখেছি রৌদ্রের মাঝে

বর্ষা মুখর বেলায়

তোমারে দেখেছি সোনা ধান ক্ষেতে

সোনালী আলোর মেলায়।

 

তোমারে দেখেছি সাঁকোর ধারে,

ইছামতির ঐ পাড়ে,

তোমারে দেখেছি মায়াবী রূপে

ব্যাকুল জোছনার নীড়ে।

 

কচি ঘাসের মখ মলি ছোঁয়ায়

তোমার পায়ের ঢেউ

মোর বাহু বন্ধন জুড়ে

তোমার কত না মৌ।

 

তোমার মনের ঢেউ গুনে আজ

দিন যায়, আসে রাত

তোমার নুপুরের রুনু ঝুনু সুর

সেদিনের তরে মাত।

 

স্বপ্নে আঁকা ছবিগুলো যেন

জীবন্ত প্রতিচ্ছবি

মনের মাঝে গেঁথে রেখে আজ

আমি যে উদাস কবি।

.......

 

দুরন্ত আবেশ

 

ভালোবাসার অনুভূতি দূর সুদূর

পথ রেখায় আছে মেঘমল্লার

প্রতিমুহূর্তে বয়ে চলে ভালো লাগার সুর

বেদনেও অনুভব ভালো লাগার সমাহার।

 

ভালোবাসা, গভীরতম নির্মল সাচ্ছন্দ

ভালোবাসা, এক অনাবিল মধুর লগন

ভালো লাগায় ভরে থাকে  অরূপ প্রীতি

ভালোবাসা, একান্ত মিলনের দুটি মন।

 

ভালোবাসার দুটি অপলক চোখ

একে অপরের নির্বিকার দৃষ্টি

সে চোখের চাহনিতে কত আকুলতা

অফুরান কথার ফুলঝুরি সৃষ্টি।

 

ভালোবাসায় ভালো লাগে আবেগ চোখে দেখা

ভালোবাসায় ভালোলাগে এক মনে গান গাওয়া

হৃদয় দিয়ে হৃদয় নিয়ে দুটি মনের এক হওয়া।

 

ভালোলাগায় মধু আপন মনের ভেতর

ভালোলাগায় কত যে স্বপন অন্তরে অনুক্ষণ

ভালোবাসায় পথের চাওয়া পথকে ঘিরে ঘিরে

ভালোবাসায় দুর্বার গতি অনন্ত সমুদ্রের নীড়ে।

 

এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চাওয়া আর পাওয়া

কিসের এক ছোটা ছুটি, বিচরণ, মধুর দেয়া নেয়া

ভালোবাসায় শুধু ভালো লাগায়, ভালো লাগে

মন অফুরন্ত দেবতার দান প্রেম ভিক্ষা মাগে।

 

ওহে অধিরথ, ওহে ভগিরথ, ওহে চঞ্চলতা

তোমরাও যে  কাহিনীর এক নিরুপম বিচলতা।

বয়ে চলে গাঙ, নদী সমুদ্র পিয়াসে

মন মনের তরে কেবলই বিচলিত দুরন্ত আবেশে।

........

Mailing List