মাঝসমুদ্রে জলদস্যু! জাহাজে আরও কত ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, সত্যকাহিনী শোনাচ্ছেন জাহাজের প্রাক্তন মেরিন রেডিও অফিসার দেবজ্যোতি সোম

মাঝসমুদ্রে জলদস্যু! জাহাজে আরও কত ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, সত্যকাহিনী শোনাচ্ছেন জাহাজের প্রাক্তন মেরিন রেডিও অফিসার দেবজ্যোতি সোম
10 Oct 2021, 10:41 AM

মাঝসমুদ্রে জলদস্যু! জাহাজে আরও কত ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, সত্যকাহিনী শোনাচ্ছেন জাহাজের প্রাক্তন মেরিন রেডিও অফিসার দেবজ্যোতি সোম

 

জলদস্যুর গল্প শুনেছেন অনেকেই। পড়েছেন বা সিনেমাতেও দেখেছেন। কিন্তু চোখে দেখেছেন নাকি কেউ? মাঝসমুদ্রে জাহাজেও নাকি লোকে লুকিয়ে উঠে পড়তে পারে! ভাবতে অবাক লাগছে? মাঝসমুদ্রে কত বিপদ লুকিয়ে থাকে? যাঁরা দেখেননি বা শোনেননি, তাঁদের কাছে এমনই একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কাহিনী নিয়ে হাজির হচ্ছেন জাহাজের অবসরপ্রাপ্ত মেরিন রেডিও অফিসার

দেবজ্যোতি সোম

 

প্রথম পর্ব

দরজায় হঠাৎ টোকা মারার শব্দ। ঘুমটা অসময়েই ভেঙে গেল। আমি খাটে শুয়ে। ঘর তো অন্ধকার। মাথার কাছের বেড ল্যাম্পের সুইচ টিপতেই আলোটা জ্বলে উঠল। ঘড়ি কাঁটায় তখন সকাল ছ’টা পাঁচ।

 

ভাবলাম, আমার ডিউটি তো সকাল আটটায় শুরু। তাহলে সাত সকালেই দরজায় টোকা পড়ছে কেন! অজানা আশঙ্কা মনে বাসা বাঁধলো। কারণ, আমার কেবিনে আগে কখনও কাউকে এমনভাবে দরজায় টোকা দিতে দেখা যায়নি।

 

কিছুটা মানসিক উৎকন্ঠার সাথেই দরজা খুললাম। দরজা খুলতেই দেখি, চিফ ডেক অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে। মুখটা থমথমে। আমাকে বললো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হুইল হাউসে (wheel house) তথা Navigation deck এ তথা Navigation room আসতে। কারণ, ক্যাপটেন (Captain of ship) ডাকছে।

জাহাজের পুরনো স্মৃতি

কথাটা বলেই একটুও না দাঁড়িয়ে চিফ ডেক অফিসার মি: হান্ডা চলে গেল। আবার ভাবনাচিন্তার পালা শুরু। সকাল ছটায় আমাকে ক্যাপটেন ওপরে তথা Navigation deck/room এ ডাকবে কেন! ভাবনার সঙ্গে প্রস্তুতিও শুরু। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওপরে গেলাম।

 

এখানে একটু বলে নেওয়া ভালো। যে জাহাজ রাত্রি বারোটায় সিঙ্গাপুর থেকে রওনা দিয়েছে কলকাতা বন্দরের উদ্দেশ্যে, মাত্র দিন ছয়েকের পথ। মনটা ফুরফুরেই আছে। কারণ, মাত্র দিন ছয়েকের ব্যাপার। তারপরেই কলকাতা বন্দর ছুঁতে পারব। সালটা উনিশশো ছিয়াশি।

জাহাজের পুরনো স্মৃতি

ওপরে তো গেলাম। দেখলাম ক‍্যাপটেন, Navigational map রাখার বিশাল টেবিলটার ওপর কিছু লিখে চলেছে। আস্তে আস্তে কাছে গেলাম। পাশে দাঁড়ালাম, একটু গা ঘেঁষেই দাঁড়ালাম। কি লিখছে, সেটা পড়ার জন‍্যে।

 

এবার বিস্ময়ের পালা। কারণ, উনি লিখছেন,

Pirates boarded at so and so time, injured one seaman, at dagger point instructed the seaman to show Captain's room. By reaching Captain's room, they ordered to open the 'safe' for money.

After getting all Singapore dollars, they jumped overboard, while going, they snatched seaman's wrist watch also, and my wrist watch also they took from my table. They were two people, armed with swords.

যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় –

জলদস্যুরা জাহাজে উঠে গিয়েছিল। একজন খালাসীকে আঘাত করে। তলোয়ার দেখিয়ে জাহাজের খালাসীকে ক্যাপ্টেনের ঘর দেখানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ক্যাপ্টেনের রুমে পৌঁছে তারা টাকা রাখার জায়গাটি জানতে চায়।

 

সমস্ত সিঙ্গাপুর ডলার পাওয়ার পর, তারা ডেক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যাওয়ার সময় তারা জাহাজে থাকা যাত্রীর হাতঘড়িটিও ছিনিয়ে নেয়। এবং আমার হাতঘড়িও তারা আমার টেবিল থেকে নিয়েছিল। তারা দুজনেই সশস্ত্র ছিল।

 

আমি একটা কথাও না বলে, ক্যাপটেনের এর ঘর থেকে বার্তাটা নিয়ে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেতারে (wireless telegraphy) আমাদের মুখ্য অফিস (head office), তথা মুম্বইয়ের অফিসকে জানিয়ে দিলাম। সিঙ্গাপুর থেকে তখন আমরা ঘন্টা ছয়েক হল জাহাজ ছেড়ে (sail out) যাত্রা শুরু করেছি। অতএব নিয়ম অনুযায়ী through VHF RT (Very high frequency,  radio telephone) Singapore port control কেও জানিয়ে দিলাম। ওদের কাজ সিঙ্গাপুর নৌবাহিনীর মাধ্যমে (Singapore Naval patrol) জলদস্যুদের খোঁজখবর শুরু করা। 

 

(চলবে..)

ads

Mailing List