ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল
18 Nov 2022, 10:00 AM

ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

দ্বীপান্বিতা ঘোষ

 

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

অবস্থান: উত্তর ভারতের বিশাল সমভূমির দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমি অবস্থিত। এটির উত্তর সীমানা পশ্চিমে কচ্ছ থেকে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। কুমারিকা অন্তরীপ এই মালভূমির দক্ষিণ সীমানা।

উচ্চতা: অঞ্চলটির গড় উচ্চতার 600 থেকে 900 মিটার।

উৎপত্তি: প্রাচীন আর্কিয়ান যুগের নাইস ও সিস্ট শিলা গঠিত এটি একটি শিল্ড মালভূমি। যা নগ্নীভবনের মাধ্যমে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি,পাহাড় ও অনুচ্চ পর্বতে পরিণত হয়েছে। কয়েকটি স্থান গঠিত হয়েছে ভূ আন্দোলনের মাধ্যমে। ডেকান ট্র্যাপ গঠনে বিদার অগ্নদগমের প্রভাব রয়েছে।

আঞ্চলিক বিভাগ: অঞ্চলটি কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—--

 

1. মধ্যভারতের উচ্চভূমি

2. পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি

3. দাক্ষিনাত্য মালভূমি

1.মধ্যভারতের উচ্চভূমি

অবস্থান: উত্তর-পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত থেকে পূর্বে রেওয়া মালভূমি এবং উত্তরে শতদ্রু-গঙ্গা সমভূমি থেকে দক্ষিণে নর্মদা উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত।

আয়তন: 1,67,872 বর্গ কিলোমিটার।

গড় উচ্চতা: 500 থেকে 1000 মিটার।

ঢাল: সমগ্র অঞ্চলটি দক্ষিণ থেকে উত্তর পূর্বে ঢালু।

ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ;

i) আরাবল্লী পর্বত

ii) মারওয়াড় উচ্চভূমি

 iii)  মধ্য ভারতের উচ্চভূমি

iv) বুন্দেলখন্ড

v) মালব মালভূমি

vi) রেওয়া মালভূমি

 vii)  বিন্ধ্য পর্বত

 viii)  বিন্ধ্যের খাড়া ঢাল

ix) নর্মদা উপত্যকা

 

i)আরাবল্লী পর্বত: এটি ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত। বর্তমানে ক্ষয়জাত পর্বতে পরিণত হয়েছে।

দৈর্ঘ্য: 800কিমি।

চওড়া: 100 কিমি।

গড় উচ্চতা: 800 থেকে 900 মিটার।

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ:  গুরুশিখর।

 

ii) মারয়াড় উচ্চভূমি /পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি: আরাবল্লী পর্বতের পূর্ব দিকে এই উচ্চভূমি পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি নামে পরিচিত।এই উচ্চভূমি কাদাপাথর ও বেলে পাথর দ্বারা গঠিত।

উচ্চতা: গড় উচ্চতা 200থেকে 450 মিটার।

iii ) মধ্য ভারতের উচ্চভূমি /মধ্যভারত পাথার: এই উচ্চভূমির উপরিভাগ পাথুরে ও ঢেউ খেলানো।

 iv) বুন্দেলখন্ড: যমুনা নদীর দক্ষিণে এটি তরঙ্গায়িত ভূমিভাগ। গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত। এখানে মেসা ও বিউট দেখা যায়। এই উচ্চভূমির গড় উচ্চতা 100 থেকে 300 মিটার।

v) মালব মালভূমি: আরাবল্লী ও বিন্ধ্য পর্বতের মাঝে এই মালভূমি লাভা দ্বারা গঠিত।

vi) রেওয়া মালভূমি: মালব মালভূমির পূর্ব দিকের অংশ রেওয়া মালভূমি নামে পরিচিত।

vii) বিন্ধ্য পর্বত: মালব মালভূমির দক্ষিণে অবস্থিত এটি একটি স্তুপ পর্বত। এর পশ্চিমাংশ লাভা দ্বারা গঠিত। এই পর্বতের গড় উচ্চতা 300 মিটার। বিন্ধ্য পর্বত 1050 কিলোমিটার দীর্ঘ। বিন্ধ্য পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মানপুর 880 মিটার।

viii)বিন্ধ্যের খাড়া ঢাল: বিন্ধ্যের  উত্তর পূর্বাংশের শোন নদী ও দক্ষিণের নর্মদা নদীর গ্রস্ত উপত্যকা খাড়াভাবে নেমে গেছে।

ix) নর্মদা উপত্যকা: বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝ বরাবর প্রবাহিত নর্মদা নদীর উপত্যকা একটি গ্রস্ত উপত্যকা।

 

2. পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি

 

অবস্থান: মধ্য ভারতের উচ্চভূমির পূর্বে ছত্তিশগড়,ঝাড়খন্ড ,উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ জুড়ে পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি অবস্থিত।

ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ: ভূ-প্রকৃতিগত দিক থেকে পূর্ব ভারতের উচ্চভূমিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়

i) বাঘেল খণ্ড মালভূমি

ii) ছোটনাগপুর মালভূমি

iii) ছত্রিশগড় সমতল ক্ষেত্র / মহানদী অববাহিকা

iv) দন্ডকারণ্য

v) গড়জাত পাহাড়

 

i) বাঘেলখন্ড মালভূমি: পূর্বভারতের উচ্চভূমির উত্তর-পশ্চিমে গ্রানাইট ও বিন্ধ্য যুগের পাললিক শিলায় গঠিত। মালভূমির গড় উচ্চতা 400 থেকে 600 মিটার।

ii) ছোট নাগপুর মালভূমি:

অবস্থান: বাঘেলখন্ডের পূর্বে ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের অংশ নিয়ে গঠিত।

প্রকৃতি: দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়ের ফলে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমিতে পরিণত হয়েছে ।

উচ্চতা: গড় উচ্চতা 400 থেকে 1000 মিটার ।

সর্বোচ্চ অংশ: মালভূমির পশ্চিমাংশের প্যাট অঞ্চল সবচেয়ে উঁচু। এই মালভূমির সর্বোচ্চ পাহাড় হল পরেশনাথ (1366 মিটার)।

অন্যান্য পাহাড়: রাজমহল, শুশুনিয়া, দলমা, অযোধ্যা, মামা ভাগ্নে।

মালভূমি: রাঁচি, হাজারীবাগ, কোডার্মা মালভূমি নিয়ে অঞ্চলটি গঠিত ।

জলপ্রপাত: হুড্রু, জোনা, দশম ইত্যাদি জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে।

 

iii) ছত্তিশগড় সমতল ক্ষেত্র/ মহানদী অববাহিকা:

ছোটনাগপুর মালভূমির দক্ষিনে সরার মতো আকৃতি বিশিষ্ট চুনাপাথর ও শেল দ্বারা গঠিত মহানদী অববাহিকা অবস্থিত।

গড় উচ্চতা: 250 থেকে 300 মিটার।

Iv) দণ্ডকারণ্য: ছত্রিশগড় সমতল ক্ষেত্রের দক্ষিণাংশের উচ্চভূমি দণ্ডকারণ্য নামে পরিচিত।

V) গড়জাত পাহাড়: মহানদী অববাহিকার পূর্বাংশের অরণ্যময় উচ্চভূমি গড়জাত পাহাড় নামে পরিচিত ।

পাহাড়: সিমলিপাল, বোনাই, কেওনঝাড়

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: মলয়গিরি (1187 মিটার)

3.দাক্ষিণাত্য মালভূমি        

অবস্থান: উত্তরে সাতপুরা- মহাকাল পর্বত থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত, ত্রিভুজাকার ভূখণ্ড দাক্ষিণাত্য মালভূমি নামে পরিচিত।

আয়তন: প্রায় 13 লক্ষ 50 হাজার বর্গ কিমি।

উৎপত্তি: ক্রিটেসিয়াস যুগে উপদ্বীপীয় মালভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নির্গত হয়ে অঞ্চলটিকে ঢেকে ফেলে। কালক্রমে লাভা জমাট বেঁধে দাক্ষিণাত্য মালভূমির সৃষ্টি হয়। অঞ্চলটি দুই ভাগে বিভক্ত—-

i) পার্বত্য অংশ

ii)মালভূমি অংশ।

 

 i)পার্বত্য অংশ:

উল্লেখযোগ্য পর্বত গুলি হল —-

a) পশ্চিমঘাট পর্বত বা সহ্যাদ্রি:

প্রকৃতি: –এটি একটি স্তুপ পর্বত।

দৈর্ঘ্য: –আরব সাগরের উপকূল বরাবর প্রায় 1600 কিমি দীর্ঘ।

গড় উচ্চতা: 900 থেকে 1000 মিটার।

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: আনাইমালাই পর্বতের আনাইমুদি (269 মিটার) ভাভুলমালা, এটি দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

অন্যান্য শৃঙ্গ: ভাভুল মালা 2339 মিটার।

কলসুবাই 1646 মিটার।

মহাবালেশ্বর 1438 মিটার, সালহের, অগস্ট্য কুটম(দক্ষিণতম) হল পশ্চিমঘাটের অন্যতম শৃঙ্গ।

গিরিপথ: পশ্চিমঘাট পর্বতের মাঝে প্রধান তিনটি ফাঁক রয়েছে। যথা ভোরঘাট, থলঘাট ও পালঘাট ।

b) পূর্বঘাট পর্বত বা মলয়াদ্রি:

প্রকৃতি: এটি একটি ক্ষয়জাত পর্বত, পূর্ব-ঘাটের উপকূল বরাবর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন পর্বতের সমষ্টি।

বিচ্ছিন্নতা: বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর বিস্তৃত ভেলিকোন্ডা, পলকোন্ডা, পচামালাই, জাভাদি প্রভৃতি কতগুলি বিচ্ছিন্ন পর্বতের সমষ্টি।

উচ্চতা: 450 থেকে 600 মিটার।

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: জিন্দা গাদা (1690 মিটার)

অন্যান্য শৃঙ্গ: আরমাকোন্ডা (1680 মিটার), মহেন্দ্রগিরি।

 

নীলগিরি: পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বত দুটি নীলগিরি পর্বতে এসে মিলিত হয়েছে তাই একে পর্বত গ্রন্থি বলে।

গড় উচ্চতা: 1500 থেকে 2000 মিটার।

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: দোদাবেতা (2637 মিটার)।

সংলগ্ন পর্বত: নীলগিরির দক্ষিনে রয়েছে কার্ডামম,আনাইমালাই পর্বত ও পালনি পর্বত।

d) সাতপুরা:

প্রকৃতি: দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। সাতপুরা হল একটি স্তুপ পর্বত।

গড় উচ্চতা: 500 থেকে 600 মিটার।

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: ধূপগড় (1350 মিটার)।

 

ii) মালভূমি অংশ

 দাক্ষিণাত্যের মালভূমি লাভা দ্বারা গঠিত ।প্রায় 13 থেকে 14 কোটি বছর আগে উপদ্বীপীয় মালভূমির বিস্তৃত অংশ বিদার অগ্ন্যুদগমের  মাধ্যমে চাদরের মতো ঢাকা পড়ে। এই মালভুমি 3 টি অংশে বিভক্ত

a) মহারাষ্ট্র মালভূমি

b) কর্ণাটক মালভূমি

c) তেলেঙ্গানা মালভূমি

 

a) মহারাষ্ট্র মালভূমি

 অবস্থান: দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর ও উত্তর পশ্চিম অংশ জুড়ে অবস্থিত।

ডেকান ট্র্যাপ: মালভূমির সমতল চূড়াযুক্ত পর্বতগুলি ধাপে ধাপে দক্ষিণ-পূর্বে নেমে এসেছে, একে ডেকানট্র্যাপ বলে।

শিলা: এই মালভূমি ব্যাসল্ট শিলা গঠিত।

পাহাড়: এখানে অজন্তা, ইলোরা, বালাঘাট, হরিশচন্দ্র ইত্যাদি পাহাড় অবস্থিত।

 

b) কর্ণাটক মালভূমি

 অবস্থান: দাক্ষিণাত্য মালভূমির দক্ষিণ পশ্চিম অংশ জুড়ে অবস্থিত। এটি প্রধানত গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।

গড় উচ্চতা: 600 থেকে 900 মিটার।

মালনাদ: এই মালভূমির পশ্চিম অংশের উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো ভূমিকে মালনাদ বলে।

ময়দান: পূর্বের অনুচ্চ, মৃদু তরঙ্গায়িত ভূমিভাগকে ময়দান বলে।

সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: বাবাবুদান পাহাড় এর মুলানগিরি( 1913 মিটার)

 

C) তেলেঙ্গানা মালভূমি:

অবস্থান: কর্ণাটক মালভূমির পূর্বে তেলেঙ্গানা রাজ্য জুড়ে এই মালভূমি অবস্থিত।

শিলা: প্রধানত নিস শিলায় গঠিত।

গড় উচ্চতা: 500 থেকে 600 মিটার।

পাহাড়: এখানে সাতমালা পাহাড় অবস্থিত

 

দাক্ষিণাত্য মালভূমি বা ডেকান ট্র্যাপ

 অর্থ: ইংরেজি "Deccan" শব্দের অর্থ দক্ষিণ প্রান্ত এবং সুইডিশ শব্দ "ট্র্যাপ" শব্দের অর্থ সিঁড়ির ধাপ।

সজ্ঞা: উপদ্বীপীয় মালভূমির বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে যে ভূমিভাগ দেখা যায় তাকে ডেকানট্র্যাপ  বলে।

সৃষ্টির কারণ: ক্রিটেশিয়াস যুগে উপদ্বীপীয় মালভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত ম্যাগমা বিস্ফোরণ ছাড়াই ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নির্গত হয়ে লাভাপ্রবাহরূপে এই অঞ্চলটি কে ঢেকে ফেলে এবং কালক্রমে লাভা জমাট বেঁধে মালভূমির সৃষ্টি হয়।

 বহুকাল ধরে লাভা জমে সৃষ্টি হওয়ার জন্য এবং পরবর্তীকালে অসম ক্ষয়কার্যের কারণে মালভূমি সিঁড়ির মত ধাপযুক্ত হয়ে পড়ে তাই এই মালভূমিকে ডেকানট্র্যাপ বলে।

বৈশিষ্ট্য: 

i) বারবার লাভা উদগীরনে মালভূমির পার্শ্বদেশ ধাপ যুক্ত।

ii) দীর্ঘকাল ক্ষয়ের ফলে উপরের অংশটি সমতল।

iii)  ধাপগুলি পশ্চিম থেকে পূর্বে ঢালু।

iv) নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ডেকান ট্র্যাপ অঞ্চলটি ব্যবচ্ছিন্ন।

v) এই অঞ্চলে ঘন কালো রঙের রেগুর মৃত্তিকা দেখা যায়।

 vi)এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কলসুবাই( 1646 মিটার)।

vii) এখানকার পাহাড়গুলির মাথা চ্যাপ্টা।

 viii) ডেকান ট্র্যাপ এর লাভার গভীরতা পশ্চিম থেকে পূর্বে ও দক্ষিণে ক্রমশ কমতে থাকে।

 

মালনাদ কি?

অর্থ: কানাড়া ভাষায় "মালনাদ" শব্দের অর্থ উঁচু নিচু ভূমিভাগ বা পাহাড়ি দেশ।

সজ্ঞা: কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিম অংশের উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো ভূমিভাগকে মালনাদ বলে।

 বৈশিষ্ট্য:

 i)এই মালভূমি প্রায় 320 কিমি দীর্ঘ এবং 35 কিমি চওড়া।

ii) মালনাদ প্রধানত গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত।

 iii)মালনাদ প্রকৃতপক্ষে একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি ।

 iv)এই মালভূমির গড় উচ্চতা 600 মিটার বেশি।

v) মালনাদের উপরিভাগ উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো।

ময়দান কি?

অর্থ: ময়দান শব্দের অর্থ অনুচ্চ ভূমিভাগ।

সজ্ঞা: কর্ণাটক মালভূমির পূর্বের ক্ অনুচ্চ, মৃদু তরঙ্গায়িত ভূমিভাগকে ময়দান বলে।

 বৈশিষ্ট্য:

i) ময়দান প্রকৃতপক্ষে একটি সমপ্রায়ভূমি।

ii) এখানে গ্রানাইট শিলা গঠিত অনেক অনুচ্চ পাহাড় বা মোনাডনক দেখা যায়।

iii) এই মালভূমির গড় উচ্চতা 600 মিটারের কম।

iv ) ময়দানের উপরিভাগ সমতল প্রকৃতির ।

 

মানবজীবনে মালভূমির প্রভাব লেখ:

ভারতের জনজীবনে উপদ্বীপীয় মালভূমির গুরুত্ব অপরিসীম—--  

খনিজ সম্পদ: ভারতের মালভূমি অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এখানে আকরিক লোহা,তামা, কয়লা, ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর, ডলোমাইট প্রভৃতি খনিজ পদার্থ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ছোটনাগপুর মালভূমি "ভারতের খনিজ ভান্ডার" নামে পরিচিত।

কৃষির প্রসার: উপদ্বীপীয় মালভূমির রেগুর মৃত্তিকায় কার্পাস; গোদাবরী-কৃষ্ণা নদী অববাহিকার পলি মৃত্তিকায় ধান, ভুট্টা, তৈলবীজ, ডাল, আখ প্রভৃতি চাষ করা হয়।

শিল্প সমৃদ্ধি: খনিজ সম্পদ ও কৃষি সম্পদের উপর নির্ভর করে মালভূমি অঞ্চলে বহু শিল্প বিকাশ লাভ করেছে যেমন কার্পাস বস্ত্র বয়ন শিল্প, বিভিন্ন শিল্প ধাতব শিল্প প্রভৃতি

জলবিদ্যুৎ: মালভূমির বন্ধুর ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী গুলি খরস্রোতা হওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী।

বনজ সম্পদ: উপদ্বীপীয় মালভূমি বিভিন্নস্থানে পর্ণমোচী ও চিরহরিৎ অরণ্যের প্রাধান্য দেখা যায় ।এই অরণ্য থেকে কাঠ ও বিভিন্ন বনজ সম্পদ পাওয়া যায়।

পর্যটন শিল্প: মালভূমির বহু নৈসর্গিক স্থান (উটি, নেতারহাট, পাঁচমারি প্রভৃতি) কে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

 

দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অনাইমালাই পর্বতের আনাইমুদি(269 মিটার)

 পূর্বঘাট এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জিন্দাগাদা (1690 মিটার )

 পশ্চিমঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাবুলমালা (2339 মিটার)

 নীলগিরির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ  দোদা বেতা (2637 মিটার)।

কোনটি কি ধরণের পর্বত:

পশ্চিমঘাট —-স্তুপ পর্বত

সাতপুরা —--স্তুপ পর্বত

পূর্বঘাট —--ক্ষয়জাত পর্বত

নীলগিরি—পর্বত গ্রন্থি,পূর্ব ঘাট ও পশ্চিমঘাট মিলিত হয়েছে।

Mailing List