মাঝ গঙ্গায় আটকে গেল যাত্রীবাহী ভেসেল, প্রবল ঠান্ডায় রাতভর উদ্বেগ যাত্রীদের

মাঝ গঙ্গায় আটকে গেল যাত্রীবাহী ভেসেল, প্রবল ঠান্ডায় রাতভর উদ্বেগ যাত্রীদের
29 Jan 2022, 01:15 PM

মাঝ গঙ্গায় আটকে গেল যাত্রীবাহী ভেসেল, প্রবল ঠান্ডায় রাতভর উদ্বেগ যাত্রীদের

 

কুহেলি দেবনাথ, শান্তিপুর  

 

গঙ্গার মাঝে আটকে গেল ভেসেল! আর প্রবল ঠান্ডায় রাতভর উৎকন্ঠার মধ্যে মাঝ গঙ্গাতেই আটকে থাকতে হল যাত্রীদের। ভেসেলে আটকে থাকলো মালবোঝাই একাধিক গাড়িও। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটল ভাগীরথীতে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিল যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। যা নিয়ে তৈরি হল রাজনৈতিক বিতর্কও।

 

যাত্রীরা জানান, ভাগীরথীর গর্ভে গতকাল রাত নটা থেকে আজ শনিবার  সকাল ৬ টা পর্যন্ত আটকে পড়েছিলো শান্তিপুর-গুপ্তিপাড়া যাত্রীবাহী একটি ভেসেল। যার মধ্যে আটকে পড়েছিলো শান্তিপুর থেকে গুপ্তিপাড়া পার হয়ে বিভিন্ন হাটে যাওয়া কাপড় এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের গাড়ি, চিকিৎসা বা অন্যান্য কারণে পারাপার হওয়া ব্যক্তিগত গাড়ি।  এমনকী, শান্তিপুরের বিডিওর গাড়িও আটকে পড়ে তাতে।  মূলত জল কমে যাওয়া এবং পলি পড়ার কারণে এই বিভ্রাট বলে মনে করছেন সকলে। কেউ কেউ ভেসেল চালকের ব্যর্থতাও দেখছে‌ন। চালকরা জানান, রাতে জলের গভীরতা কোথায় কত আছে তা দেখা বা বোঝা সম্ভব হয় না অনেক সময়। যদি ভাসমান রোড ম্যাপ থাকতো তাহলে কিছুটা বোঝা সম্ভব হত। আর স্থায়ী ব্যবস্থা করতে গেলে মজে যাওয়ার গঙ্গা থেকে পলি তুলতে হবে। যাত্রীদের অভিযোগ, বারবার পুলিশ-প্রশাসন থেকে সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু সাহায্য মেলেনি। ফলে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে তাঁদের মাঝগঙ্গায় রাত কাটাতে হয়েছে। খাবারও জোটেনি।    

 

শান্তিপুর গুপ্তিপাড়া ফেরি ঘাটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা শ্যাম সাহা জানান, রাতেই যাত্রীদের একটি ছোট নৌকা করে উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু ভেসেল আনতে গেলে দড়ি ধরে টানতে হত। তার জন্য বহু মানুষের প্রয়োজন। রাতে অত মানুষ কোথায় পাওয়া যাবে? তাই মালপত্র ও গাড়ি-সহ রাতে ভেসেল গঙ্গাতেই ছিল।

এব্যাপারে তৃণমূলের অভিযোগ, মজে যাওয়া গঙ্গা থেকে পলি তোলার কাজ কেন্দ্রীয় সরকার করেনি। তাতেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ-প্রশাসন গিয়েছিল। উদ্ধারকাজও শুরু হয়েছিল। তাই কারও কোনও সমস্যা হয়নি। হয়তো কিছুটা দেরি হয়েছে।

এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও।  বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার গোটা বিষয়টিকে অমানবিক বলে দাবি করে বলেন,  জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সাংসদ সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে ডাক পান না, দোষ ঘাড়ে চাপানোর সময় কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংসদকে খুঁজে পেয়ে যান। গঙ্গায় ভেসে উদ্ধার করতে কী কেন্দ্র আসবে? ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম, পুলিশ প্রশাসন কোথায় ছিল? কেউ কাজ করেনি বলেই তো মানুষকে ঠান্ডাতেও কষ্ট করে গঙ্গাতে কাটাতে হয়েছে।

ads

Mailing List