পার্থ ও অনুব্রত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল ধন সম্পত্তি মালিক হলেও সম্বৃদ্ধি কামনায় লক্ষ্মী আরাধনাই ভরসা সাধারণ বঙ্গবাসীর

পার্থ ও অনুব্রত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল ধন সম্পত্তি মালিক হলেও সম্বৃদ্ধি কামনায় লক্ষ্মী আরাধনাই ভরসা সাধারণ বঙ্গবাসীর
09 Oct 2022, 01:00 PM

পার্থ ও অনুব্রত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল ধন সম্পত্তি মালিক হলেও সম্বৃদ্ধি কামনায় লক্ষ্মী আরাধনাই ভরসা সাধারণ বঙ্গবাসীর

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

দুর্গোৎসবেই মায়ের সঙ্গে এসেছিলেন মর্তলোকে। দেবীপক্ষের কয়েকটা দিন মা উমার ভক্তদের সঙ্গে কাটিয়ে আবার মায়ের সঙ্গেই ফিরে গিয়েছিলেন সেই কৈলাশে। ভক্ত কুলের কাছে ধন ও ঐশ্বর্য্যের দেবী রুপেই তাঁর পরিচিতি। তিনি হলেন দেবী লক্ষ্মী। আর্থিক মন্দা থেকে পরিত্রান লভে তিনিই একমাত্র ভরসা। এবার কোজাগরী পূর্ণীমায় একাকি মর্তলোকে আবির্ভূতা হবেন লক্ষ্মীদেবী। মর্তলোকে আর্থিক মন্দা যা-ই থাক না কেন বাঙালির লক্ষ্মীদের প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তিতে যদিও কোন ভাটা পড়েনি। তাই ধন ও ঐশ্বর্য লাভ কামনায় ররিবার কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিন ধনদেবী পূজিতা হবেন বাঙালির ঘরে ঘরে। 

সাইনিং ইন্ডিয়া গড়তে নোট বন্দির পর লাগু হয়েছে জিএসটি। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের। তা সামলে উঠতে না উঠতেই দেশ জুড়ে থাবা বসায় করোনা ভাইরাস। তার কারণে দীর্ঘ দিন যাবৎ টানা লকডাউন চলায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে বাজার অর্থনীতি। এখন আনলক পর্ব চলেও বাজার অর্থনীতির সেভাবে চাঙ্গা হয়নি। দেশের এমন আর্থিক অবস্থা চললেও পুঁজির ভান্ডার হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি, মেহুল চোকসির মতো প্রমুখ ধনকুবেররা। ভারত রাষ্ট্রের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রাতাদের স্নেহধন্য এই সব ধনকুবেরদের কীর্তিকলাপে দিনের পর দিন তলানিতেই পৌছাচ্ছে জিডিপি রেট।এরই মধ্যে আবার এই রাজ্যের শসকদলের দুই প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলের আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তি ধন দৌলতের হদিশ করেছে সিবিআই ও ইডি। এই দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুই নেতা অবৈধ উপায়ে এত বিপুল পরিমান ধন সম্পত্তির অধিপতি হয়েছে। এত কিছুর পরেও বাঙালি ভক্তকুলের বিশ্বাস লক্ষ্মীদেবীর কৃপা লাভ ছাড়া পরিবার কিংবা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক হাল পুনরুজ্জীবিত হওয়া সম্ভব নয়। এমন বিশ্বাসে দৌলতেই বাংলায় লক্ষ্মী দেবীর গ্ল্যামার ও  জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে রয়েছে। দেবীর কৃপা লাভের প্রত্যাশায় ভরকরে বাংলা এখন ভাসছে লক্ষ্মী উন্মাদনায়।

ভক্তকুলে আর্থিক মন্দার প্রভাব এতটাই যে কৈলাশে পৌছাতে না পৌছাছাতেই অর্থিক দুর্দশায় জর্জরিত অগুনিত ভক্ত অনুরাগীর আমন্ত্রন বর্তায় ভরেগেছে লক্ষ্মীদেবীর দপ্তর। আমন্ত্রন প্রত্যাখানেরও উপায় নেই। ভক্তদের স্পেশাল আমন্ত্রন বলে কথা । বাঙালির ঘরে ঘরে নিজের জনপ্রিয়তা অটুট  রাখতে তাই মর্তলোকে আবারও আসতে হচ্ছে লক্ষ্মী দেবীকে। স্পেশাল আমন্ত্রণ সফরে তাঁর সঙ্গে মর্তলোকে আসার চান্স মিলেছে শুধু মাত্র এক জনেরই। তিনি হলেন দেবীর বিশ্বস্ত সচিব পেঁচা। দেবী কোন কোন ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন সেই বিষয়টি সচিব মহাশয় ইতিমধ্যেই চুড়ান্ত করে ফেলেছেন।

            

মর্তলোকের  বাঙালি পরিবার গুলিতে লক্ষ্মীদেবীর জনপ্রিয়তা দেখে গনে, কার্তিক ও সরস্বতীর একটু ঈর্শা হয় ঠিকই। কিন্তু কিছুতো আর করার নেই। দেশে পুঁজির ভাণ্ডার কমতে শুরু হলে যা হয় তাই হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভ্রান্ত অর্থনীতিকে আঁকড়েই  রাষ্ট্রের আর্থিক সংস্কারের পথ বাছা হয়েছে। আর সে কারনে বাজার অর্থনীতি যত তলানিতে পৌছাচ্ছে লক্ষ্মী দেবীর জনপ্রীয়তা ও গ্ল্যামার ততই হুহু করে বাড়ছে। রাষ্ট্র নায়কদের প্রতি ভরসা হারিয়ে একমাত্র লক্ষ্মীদেবীর উপরই সবকিছু সোঁপে দিয়েছেন বাঙালি। আর্থিক মন্দা থেকে মুক্তি লাভের প্রত্যাশায় বাঙালি এখন দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভেই ভরসা রেখেছেন।

 

 লক্ষ্মীদেবীর মর্তলোকে আসার সফর সূচী ইতিমধ্যেই চুড়ান্ত হয়েছে। দেবলোক সূত্রে খবর পঞ্জিকার বিষুদ্ধ মতের সময় সারণী  মেনে রবিবার ভোর সন্ধ্যা ৩ টে ২৯মিনিট ৫৬  সেকেন্ড নাগাদ লক্ষ্মীদেবী মর্তলোকে অবতরণ করবেন। কোজাগরী লক্ষী পূর্ণিমা তিথির পূর্ণ  সময় কাটিয়ে ওই দিন গভীর রাত ২টা ২৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে ধনদেবী ফের কৈলাশে প্রস্থান করবেন। করোনা অতিমারির মধ্যে সফর সূচী যাতে দুর্গোৎসবের মতোই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় তার তদারকি লক্ষ্মীদেবীর সচিব পেঁচা নিজেই করছেন।

 

 রাষ্ট্রের অর্থিক মন্দা দশা যাই থাক না কেন লক্ষ্মীদেবী কোন কোন ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন তা অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে। দেবীর সচীব এখন শুধু নজর রাখছেন কোন ভক্তের বাড়িতে পুজো আয়োজনের জৌলুশ কতটা সেদিকে। সূত্রের খবর পুজো আয়োজনের  জৌলুশ যাচাই করে বিশেষ বিশেষ ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন দেবী। যদিও ধনদেবী কোন কোন ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন তা জনপ্রিয়তা বজায় রাখার স্বার্থে দেবীর দপ্তর কর্তৃক  একান্ত ভাবেই গোপন রাখা হয়েছে। ভক্তরা অবশ্য এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সেরা আতিথেওতা দিয়ে লক্ষ্মীদেবীর কৃপা লাভের মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাঙালি গৃহস্থ কুল।

দশকর্মা থেকে শুরু করে প্রতিমা, ফল, ফুল ও আনাজপাতি সবেরই বাজার দর অগ্নি মূল্য। পকেট গড়ের মাঠের চেহারা নেওয়ায় লক্ষ্মী ভক্তদের অনেক মেনুই কাটছাঁট করতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর, দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সর্বত্রই। বাঙালি পরিবার গুলিতে লক্ষ্মী পুজো আয়োজনের জৌলুস যতই কমছে ততই ক্ষোভ বাড়ছে বাজার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে থাকা এদেশের সরকার বাহাদুরের ওপর। ক্ষোভ বিক্ষোভ যে পর্যায়ে পৌছেছে তা যে আগামী গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে ইভিএমে আছড়ে পড়বেনা এমনটা নিশ্চিৎ করে বলা যাচ্ছেনা। ভক্তদের কথায় একটা বিষয় পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, ধনদেবীর কৃপালাভ থেকে তারা যত বঞ্চিত হবেন ততই তাঁদের রোষ আছড়ে পড়বে আগামী ভোটের ইভিএমে।

Mailing List