পঞ্জশির কেন দূর্ভেদ্য, মরণফাঁদ? আফগানিস্তানের চৌত্রিশ প্রদেশের এই এক প্রদেশেই সবার নজর, তবু সম্রাট আলেকজান্ডার থেকে আধুনিক রাশিয়া – সকলকেই ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই  

পঞ্জশির কেন দূর্ভেদ্য, মরণফাঁদ? আফগানিস্তানের চৌত্রিশ প্রদেশের এই এক প্রদেশেই সবার নজর, তবু সম্রাট আলেকজান্ডার থেকে আধুনিক রাশিয়া – সকলকেই ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই   
05 Sep 2021, 10:05 AM

পঞ্জশির কেন দূর্ভেদ্য, মরণফাঁদ? আফগানিস্তানের চৌত্রিশ প্রদেশের এই এক প্রদেশেই সবার নজর, তবু সম্রাট আলেকজান্ডার থেকে আধুনিক রাশিয়া – সকলকেই ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই

 

 দীপান্বিতা ঘোষ

 

তালিবানের দখলে আফগানিস্তান। দেশজুড়ে জল্লাদের উল্লাস, নাগরিকদের হাহাকার, দেশ ছাড়ার হুড়োহুড়ি। এরই মাঝে একা কুম্ভের মতো লড়াই করছে Northern Alliance ও তার দখলে থাকা ৩৪ টি প্রদেশের অন্যতম ১ টি প্রদেশ, পঞ্জশির।

         

তালিবানকে তীব্র হুঁশিয়ারি পঞ্জশিরের কমান্ডারের। তালিবানরা নিজেদের মৃত্যু ডেকে এনেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিকে মাসুদ বাহিনীকে পাল্টা হুঁশিয়ারি তালিবানি সেনার।

 

প্রথমে আফগানিস্তান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে তারপর আসছি পঞ্জশির প্রসঙ্গে।

 

 আফগানিস্তান:

 

 আফগানিস্তান একটি পাহাড়ী স্থলবেষ্টিত দেশ। এটি ইরান, পাকিস্তান, চীন, তাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যস্থলে একটি মালভুমির উপর অবস্থিত।

 

রাজধানী: কাবুল।

জাতিগোষ্ঠী: ৪২%---পাশতুন

          ২৭%----তাজিক

          ৯%---হাজারা

          ৯%----উজবেক

 

ধর্ম:

 ৯৯.৭% মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

 

মোট আয়তন: ৬,৫২,৮৬৪ বর্গকিমি।

 

প্রদেশ:  ৩৪ টি।

 

জনসংখ্যা (২০২০ সালের জনগণনা) :

             ৩,১৩,৯০,২০০ জন।

জনঘনত্ব:

            ৪৮.০৮ বর্গকিমি।

 

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য:

   

ভূপ্রকৃতি:

আফগানিস্তান একটি রুক্ষ এলাকা, যার অধিকাংশই পর্বত ও মরু আবৃত। উত্তর-পূর্বে রয়েছে হিন্দুকুশ পর্বত। এখানেই আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নওশাক (৭৪৯২ মিটার) অবস্থিত।

 গিরিপথ:

সফেদ কোহ পর্বতমালা পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত তৈরী করেছে যাতে রয়েছে বিখ্যাত খাইবার গিরিপথ।

           

৩৩০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডার কুশান পাস-এর ভিতর দিয়ে এসে দেশটি আক্রমণ করেন এবং খাইবার পাস দিয়ে বের হয়ে গিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। এই একই পথ ধরে মোঘল সম্রাট বাবর ১৫ শতকে এসে আফগানিস্তান ও ভারত দুইই করায়ত্ত করেন।

       

অন্যদিকে সোভিয়েতরা সালাং পাস ও কেন্দ্রীয় হিন্দুকুশে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তান দখল করে।

 

জলবায়ু:

আফগানিস্তানে মূলত দুটি ঋতু। গ্রীষ্ম ও শীত। গ্রীষ্মকালে যেমন ভয়ঙ্কর গরম তেমনই শীতকাল অতি শীতল। এমনকি একই দিনে তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। বরফজমা ভোরের দুপুরেও তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হওয়াটাও বিচিত্র কিছু নয়।

 

 

নদনদী:

বেশিরভাগ নদীই হ্রদ, জলাভূমি বা নোনাভূমিতে পতিত। ব্যতিক্রম কাবুল নদী যা পূর্ববাহিনী হয়ে পাকিস্তানের সিন্ধুতে মিশেছে। একমাত্র নৌপরিবহনযোগ্য নদী উত্তর সীমান্তের আমুদরিয়া। পামীর মালভূমি থেকে উৎপন্ন পাঞ্জ ও বখশ উপনদী আমুদরিয়ায় মিশেছে।

হারিরুদ নদী মধ্য আফগানিস্তানে উৎপন্ন যা ইরানের সাথে সীমান্ত তৈরী করেছে। হেলমন্দ নদী হিন্দুকুশ পর্বতমালায় উৎপন্ন ইদানিং এর জলে খনিজ লবণের আধিক্য দেখা দিয়েছে।

 কৃষি:

আফগানিস্তানের খুব সামান্য এলাকায় কৃষি কাজ হয়। ১২ % এলাকা পশুচারণযোগ্য, ১% এলাকা বনাঞ্চল। যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বনভূমি দ্রুত বিলীন হচ্ছে। গম, যব, ভুট্টা, ধান, তুলা, বাদাম ও বিভিন্ন ফলের চাষ হয়।

আঙুর, তরমুজ, চেরি, ডুমুর, ডালিম, এপ্রিকট, তুঁত চাষ হয়। আফগানিস্তান বিভিন্ন বাদাম ও কিসমিস রপ্তানি করে।

 

 প্রাকৃতিক সম্পদ:

এতক্ষন পর্যন্ত বোঝায় যাচ্ছিল না এই রুক্ষ শুষ্ক আফগানিস্তানে বহিঃশক্তি কেন হানা দেয়। তার কারণটা অবশ্যই তার প্রাকৃতিক সম্পদ। আফগানিস্তানে মনি, সোনা, তামা, কয়লা উত্তোলনের ইতিহাস থাকলেও ১৯৬০ এর দশকের আগে খনিজ আহরণ শুরু হয়নি। ১৯৭০ এর দশকে দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য মজুদ আবিষ্কৃত হয়। এছাড়া পেট্রোলিয়াম ও কয়লাও এখানে পাওয়া যায়।

        

দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তামা, লোহা, বেরাইট, ক্রোমাইট, সীসা, দস্তা, গন্ধক, লবন, ইউরেনিয়াম ও অভ্রের মজুদ আছে। তবে সোভিয়েত আক্রমণ ও তৎপরবর্তী যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তান এই খনিজ ও জ্বালানী সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। বহু শতাব্দী ধরে আফগানিস্তান দুষ্প্রাপ্য ও অর্ধ-দুষ্প্রাপ্য পাথরেরও একটি উৎসস্থল, যাদের মধ্যে আছে নীলকান্তমনি, চুনি, নীলা ও পান্না।

 

আজ এই আফগানিস্তান পুরোটাই তালিবানের দখলে, বাদ রয়েছে শুধু পঞ্জশির। সরাসরি যুদ্ধে পঞ্জশির দখল করাও কঠিন, তাই কৌশল বদলাচ্ছে তালিবান। কিন্তু কেন কঠিন??? কি আছে এই পঞ্জশিরে??

পঞ্জশির

 

  "পঞ্জশির" শব্দটির অর্থ পাঁচটি সিংহ। লোকগাথা অনুযায়ী প্রায়ই বন্যার ফলে পঞ্জশির নদীর জল উপত্যকাকে ভাসিয়ে দিত। নষ্ট হত ক্ষেতের ফসল, প্রাণ হারাতো মানুষ সহ গবাদি পশু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ সিংহ হৃদয় ভাই পাহাড় কেটে দশম শতাব্দীতে তৈরী করেছিলেন এক জলাধার। রক্ষা পেয়েছিল উপত্যকা। সেই পাঁচ ভাইএর স্মৃতিতে উপত্যকার নাম রাখা হয়েছিলো পঞ্জশির।

 

উপত্যকার জনগোষ্ঠী:

উপত্যকাটিতে তাজিক জনগোষ্ঠীর লোকজনের বসবাস সব থেকে বেশি।

ধর্ম---সুন্নী মুসলিম।

লোকসংখ্যা----প্রায় দেড় লক্ষ।

জীবিকা----মূলত চাষবাস ও পশুপালন।

প্রাকৃতিক সম্পদ--- দুর্গম এই উপত্যকাটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।এখানেই পাওয়া যায় পৃথিবীর সবথেকে দামী পান্না।পাওয়া যায় দুর্মূল্য পাথর ও অন্যান্য দামী খনিজ পদার্থ।

প্রাচীনকালে রুপার খনির জন্য বিখ্যাত ছিলো পঞ্জশির উপত্যকা।

বিদেশী হানাদেরদের আক্রমণ:

রত্নগর্ভা পঞ্জশিরের ওপর লোভ ছিল বিদেশী হানাদারদের। কিন্তু প্রতিটি আক্রমণ কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে লড়াকু তাজিক গোষ্ঠী। উপত্যকা জয়ের চেষ্টা করেছেন আলেকজান্ডার। কিন্তু তাঁর চেষ্টা সফল হতে দেয়নি তাজিক বাহিনী।

পঞ্জশির দখলের চেষ্টা করেছেন তৈমুরলঙ। এমনকি ব্রিটিশদেরও লক্ষ্য ছিল উপত্যকার রত্নখনি গুলি দখল করা। শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে ফিরেছে প্রতিটি প্রতিপক্ষই।

 

 ১৯৭৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে আফগানিস্তান আক্রমণ করে সোভিয়েত সৈন্যবাহিনী। সমগ্র আফগানিস্তান চলে গিয়েছিল সোভিয়েতের দখলে। আফগানিস্তানের মাটিতে তৈরী হয়েছিলো একের পর এক মুজাহিদিন দল। আফগানিস্তানের আকাশ ঢেকেছিলো বারুদের ধোঁয়ায়, প্রাণ গিয়েছিলো লক্ষ লক্ষ আফগানের। সমগ্র আফগানিস্তান সোভিয়েতের দখলে গেলেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল পঞ্জশির।

 

পঞ্জশিরের সিংহ আহমেদ শাহ মাসুদ:

সোভিয়েত সেনারা ত্রিফলা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে বোমারু বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে উপত্যকার ফসল ও গবাদি পশু ধ্বংস করা হবে। সেই সুযোগে স্থল পথে আক্রমণ করবে আর্টিলারি বাহিনী। শেষে হেলিকপ্টার থেকে উপত্যকায় নামিয়ে দেওয়া হবে সোভিয়েত কমান্ডোদের।

      

সোভিয়েত সেনারা বুঝতে পারেনি পঞ্জশিরে লুকিয়ে আছে এক সিংহ। যার নাম আহমেদ শাহ মাসুদ। ১৯৫৩ সালে পঞ্জশিরে জন্ম হলেও বড়ো হয়েছিলেন কাবুলে। ১৯৭৮ সালে জড়িয়ে পড়েন সোভিয়েত ও কমিউনিস্ট বিরোধী আন্দোলনে। যে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন প্রফেসর বুরহানউদ্দিন রব্বানি। বাছা বাছা তাজিক যোদ্ধাদের নিয়ে পঞ্জশিরে গড়ে তোলেন এক দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী।

সোভিয়েত রাশিয়ার প্রবল বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলো পঞ্জশির। মাসুদের গেরিলা বাহিনী প্রবল প্রতিরোধ গড়া সত্ত্বেও সড়কপথে ঢুকে পড়েছিল সোভিয়েত ট্যাঙ্কার। তারা পঞ্জশিরে একটি অস্ত্রঘাঁটি বানিয়ে কাবুলের দিকে পা বাড়ায়। তখনই অতর্কিতে পাহাড়ের গুহা থেকে নেমে আসে মাসুদের গেরিলা বাহিনী। দখল নেয় পঞ্জশিরের।

  

১৯৭৯ থেকে ১৯৮ সাল পর্যন্ত মোট ৯ বার পঞ্জশির আক্রমণ করে সোভিয়েত সেনা। কয়েক লক্ষ সেনা, কয়েকশো বোমারুবিমান, হেলিকপ্টার ও ট্যাঙ্ক থাকা সত্বেও পঞ্জশির হয়ে উঠেছিলো সোভিয়েত সেনাদের কাছে দুর্ভেদ্য। প্রাণ হারিয়েছিলো ৪ হাজার সোভিয়েত সেনা।

   

অপরদিকে ৫ বছর ব্যাপী চলা যুদ্ধে প্রাণ গিয়েছিলো ৫০০ তাজিক গেরিলা ও কয়েকশো নিরীহ গ্রামবাসীর। ৩২ বছর বয়সী মাসুদ হয়ে উঠেছিলেন তাজিকদের নয়নের মনি, হৃদয়ের সম্রাট।

 

আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ ও তালিবানের ক্ষমতা বৃদ্ধি:

 

 সোভিয়েত আফগানিস্তান ছাড়ার পর মুজাহিদিন গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে ইসলামিক স্টেট অফ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে বসেছিলেন মাসুদের নেতা বুরহানউদ্দিন রব্বানি। মাসুদ হয়েছিলেন আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

        

কিন্তু নরমপন্থী রব্বানি সরকারকে মেনে নিতে পারেননি তালিবান নেতা মোল্লা ওমর ও আলকায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন। কারণ, তাঁরা নরমপন্থী ইসলামী শাসনে বিশ্বাসী ছিলেন না। শুরু হয়েছিল গায়ের জোরে কাবুল দখলের চেষ্টা। কিন্ত প্রতিবারই আক্রমণ প্রতিহত করেছিল মাসুদ বাহিনী।

       

কিন্তু পাকিস্তান থেকে আসা অস্ত্র, যোদ্ধা এবং সৌদি আরবের অর্থে শক্তিশালী হয়ে উঠছিলো তালিবান। ১৯৯৫ সালে চারদিক থেকে কাবুলকে ঘিরে রাখে তালিবান শক্তি। ছুঁড়ছিলো কামানের গোলা, গ্রেনেড ও রকেট। প্রাণ হারান হাজার হাজার কাবুলবাসী। দেশ ছেড়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রব্বানী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা। দেশে থেকে গিয়েছিলেন একমাত্র মাসুদ। ১৯৯৬ সালে ফিরে গিয়েছিলেন পঞ্জশিরে।

Northern Alliance গঠন:

 

মাসুদ জানতেন তালিবান পঞ্জশির আক্রমনের চেষ্টা করবে। তাই তিনি উত্তর আফগানিস্তানে তৈরী করেছিলেন তালিবান বিরোধী এক দুর্ধর্ষ বাহিনী, যার নাম Northern Alliance.

বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় মাসুদ বাহিনীর সঙ্গে তালিবানদের লড়াই। যুদ্ধে হারাতে না পেরে মাসুদকে প্রাণে মারার ছক করে তালিবানরা। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আত্মঘাতী বিস্ফোরনে জঙ্গীরা ছিন্নভিন্ন করে দেয় মাসুদের দেহ।

 

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার প্রবেশ:

   

  মাসুদের মৃত্যুর ২ দিন পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল কায়দার বিমান হানায় ধ্বংস হয়েছিলো World Trade Centre। মারা গিয়েছিলেন হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। ২০০১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই আফগানিস্তানের দখল নেয় আমেরিকা।

     

মাসুদের স্বপ্নের পঞ্জশিরে রাস্তা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, জলাধার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। আধুনিকতার ছোঁয়া দেখা যায় নারীশিক্ষা ও নারী স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও।

 

পঞ্জশিরে আবারও তালিবান, প্রতিরোধে মাসুদ পুত্র আহমেদ মাসুদ:

 

আশরাফ গনি সরকারের পতনের পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট থেকে আফগানিস্তান চলে গিয়েছে তালিবানের দখলে। কিন্তু আজও তালিবানের গলার কাঁটা "পঞ্জশির"। সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও তালিবানরা ঢুকতে পারছে না পঞ্জশিরে। বাবা আহমেদ শাহ মাসুদের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁরই পুত্র আহমেদ মাসুদ।

পঞ্জশির কেন দুর্ভেদ্য:

 

 মাত্র ৩ টি দুর্গম পথের সাহায্যে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে পঞ্জশির। কাবুলের দিক থেকে রয়েছে সালাং হাইওয়ে। যেটি পৌঁচেছে পঞ্জশির চেকপয়েন্টে। এখানে সড়ক ১৮ ফুট চওড়া। দুটো ছোট গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারে। কিন্ত ধীর গতিতে। দুপাশে খাড়া পাহাড়, উচ্চতা দেড় হাজার ফুটেরও বেশি। চেক পয়েন্টে প্রতিটি গাড়িকে খুঁটিয়ে তল্লাশি করা হয়। পাহাড়ের উপরে "ব্যারেট এম-এইট্টি টু" রাইফেল নিয়ে শুয়ে থাকা তাজিক স্নাইপারদের কড়া নজর থাকে চেক পয়েন্টের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি গাড়ির উপর।

সালাং হাইওয়ে ছাড়াও হিন্দুকুশ পর্বতের ওপরে থাকা দুটি দুর্গম গিরিপথ দিয়ে পঞ্জশিরে প্রবেশ করা যায়। খাওয়াক পাস (wakhan pass) (১২,৬২৫ ফুট) হয়ে রাস্তা গেছে উত্তর আফগানিস্তানের বাঘলান প্রদেশের সমতল এলাকায়। আর আঞ্জুমান পাস (Anjuman pass) (১৪,৫৩৭ ফুট) হয়ে রাস্তা গেছে চীন পাকিস্তান সীমান্তে থাকা বাদাখশান প্রদেশে। সারাবছর ধরে উঁচু উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে রাইফেল ও রকেট লঞ্চার হাতে গিরিপথের উপর কড়া নজর রাখে পঞ্জশিরের গেরিলারা।

  

           সালাং পাস টানেল

           খাওয়াক পাস

              আঞ্জুমান পাস 

এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে মাসুদের গেরিলারা পাহাড় গুলিতে বানিয়েছে কয়েকশো টানেল, বাঙ্কার ও অস্ত্রঘাঁটি। আর এগুলিই হয়েছে শত্রুর জন্য পাতা ফাঁদ। যা শত্রুকে নিয়ে আসবে সরাসরি বন্ধুকের নলের সামনে। তাই পঞ্জশিরকে অনেকে মরণফাঁদও বলে থাকেন।

 

  আফগানিস্তান এখন তালিবানিদের হাতের মুঠোয়, তবুও পঞ্জশির কিন্তু এখনও অধরা।

ads

Mailing List