বেদখল হওয়া জমি পুণর্দখলে নামলো সিপিএম, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঝান্ডা পুঁতে, চাষ করে খেজুরিতে জবরদখল হওয়া পাঁচ-চাষির জমি পুনরুদ্ধার

বেদখল হওয়া জমি পুণর্দখলে নামলো সিপিএম, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঝান্ডা পুঁতে, চাষ করে খেজুরিতে জবরদখল হওয়া পাঁচ-চাষির জমি পুনরুদ্ধার
15 Aug 2022, 10:30 AM

বেদখল হওয়া জমি পুণর্দখলে নামলো সিপিএম, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঝান্ডা পুঁতে, চাষ করে খেজুরিতে জবরদখল হওয়া পাঁচ-চাষির জমি পুনরুদ্ধার

 

সুব্রত গুহ, পূর্ব মেদিনীপুর

 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর স্বাধীনতা দিবসের ৭৫বছর পূর্তির প্রাক্কালে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে পাঁচ কৃষক তাঁদের জমি পুণর্দখল করলেন। তাঁদের দাবি, ২৬ বছর ধরে নিজেদের রায়তি জমি কেড়ে নিয়েছিল তৃণমূল।  চাষ -জমি কৃষক- খেতমজুর সংগঠনের নেতৃত্বে তা পুনর্দখল করলেন।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার টিকাশি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর কলমদান গ্রামের গরিব কৃষক রাসবিহারী মাইতি সহ পাঁচজন চাষির ১ একর ২৯ ডেসিম্যাল জমি দীর্ঘ ১৩ বছর এলাকার তৃণমূল কর্মীরা দখল করে রেখেছি‌ল বলে অভিযোগ। শনিবার গ্রামের কৃষক খেতমজুর সংগঠন লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে, গরিব চাষীদের জমি দখল পাইয়ে দিল। গরিব চাষী সহ এলাকার খেতমজুর মানুষজন সারাদিন ধরে জমি চাষ করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলেন।

এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এরকম বেদখল হওয়া জমি নিজেদের দখলে  নেওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নেমে পড়েন গরিব চাষী, বর্গাদার পাট্টাদাররা। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য  হিমাংশু দাস অভিযোগ করেন, "২০০৯ সালের ৮ জুন নন্দীগ্রামের কায়দায় খেজুরি দখলে নেমে পড়ে তৃণমূল। গোলাগুলি, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাস চালিয়ে বহু মানুষকে ঘরছাড়া, মারধর, খুন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, ঘর পুড়িয়ে দেওয়া থেকে লুটপাট জরিমানা, মহিলাদের সম্মান নষ্টর সাথে সাথে জোরপূর্বক রায়ত জমি, বর্গাদার, পাট্টাদারদের জমিদখল করে নেয় দীর্ঘ১৩ বছর ধরে বেমালুম ভোগ দখল করে এসেছিল। বর্তমান সময় তৃণমূলী লুটেরা বাহিনীদের বিরুদ্ধে দিকে দিকে মানুষ সোচ্চার হচ্ছেন। সারা রাজ্যের সাথে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে লুটের পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে, ডেপুটেশন, বিক্ষোভ- অবস্থান- কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অনুরূপভাবে খেজুরি ব্লক এলাকার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ও পঞ্চায়েত সমিতিতে বঞ্চিত- প্রতিবাদী মানুষের বিশাল বিশাল মিছিল ডেপুটেশন অবস্থান কর্মসূচি গুলি সংঘটিত হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে লুটের খতিয়ান প্রশাসনের কাছে। দাবি উঠেছে বেদখল জমি আর বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার। চাপে পড়ে তৃণমূলীরা এখন দিশেহারা। গ্রামে গ্রামে মানুষ জাগছে। চুরি দুর্নীতিতে জড়িয়ে তৃণমূল নেতারা এখন মুখ লুকাচ্ছে। অপরাধের ভয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে। আজকের ঘটনা তা প্রমাণ দিচ্ছে। প্রতিবাদী মানুষজন সংগঠিত হয়ে বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে লাল ঝান্ডা কাঁধে তুলে নিয়ে একজোট হয়েছে। "

সিপিএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিকাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর কলমদান মৌজায় ৩৮২, ১২০২ ২৩৭০ এর খতিয়ানে ১৬৭২ দাগে ১ একর ২৯ ডিসমিল জমি যা রাসবিহারী মাইতি, সুকুমার মাইতি, গুরুপদ মাইতি, জোৎস্না মাইতিদের ২৬ বছরের দখলে ছিল। যা এদিন চাষিরা তাদের দখল ফিরে পেল। এই ঘটনার ফলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই একই মৌজার ৫ জন পাট্টাদার শ্রীকান্ত মন্ডল, ভরত বারুই, প্রতাপ বারুই, তাপস বারুই, মনোরঞ্জন দীক্ষিতের বেদখল হওয়া ৫৪ ডেসিম্যাল জমিতেও চাষ করে অধিকার ফিরে পেল পাট্টাদাররা। স্থানীয় কৃষক- খেতমজুর সংগঠনের নেতা হারাধন জানা, অসিত সামন্ত, সঞ্জয় দলুই এর নেতৃত্বে গ্রাম এলাকায় যেমন চাষিরা অধিকার পেতে চলেছেতেমনি খেজুরী ব্লক এলাকায় কৃষক নেতা যাদবেন্দ্রনাথ সাহু, সমীরেন্দ্রনাথ কলাগোকুল ঘড়ুই, রাম কুমার মাইতি, জাহারাজ আলীদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

খেজুরির পঞ্চায়েত সমিতি প্রাক্তন সভাপতিও খেতমজুর নেতা হিমাংশু দাস গরিব কৃষক, পাট্টাদার, বর্গাদার মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং লাল ঝান্ডার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে বঞ্চিত মানুষকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দিনে এরকম হাজার হাজার একর বেদখল জমি উদ্ধার করে গরিব মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবেন লাল ঝাণ্ডার নেতৃত্বে।"

Mailing List