নদিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত হাইড্রেন ভেঙে উল্টে গেল লরি, দুর্নীতির অভিযোগে সোচ্চার এলাকাবাসী

নদিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত হাইড্রেন ভেঙে উল্টে গেল লরি, দুর্নীতির অভিযোগে সোচ্চার এলাকাবাসী
17 May 2022, 02:10 PM

নদিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত হাইড্রেন ভেঙে উল্টে গেল লরি, দুর্নীতির অভিযোগে সোচ্চার এলাকাবাসী

 

কুহেলি দেবনাথ, শান্তিপুর

 

নব নির্মিত হাইড্রেন ভেঙে পড়লো হুড়মুড়িয়ে। আর তার জেলে উল্টে গেল মাল বোঝাই লরি। তারপরই ফের কাটমানি ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোটি টাকার প্রকল্পের হাইড্রেন তৈরির অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন এলাকার মানুষ। যদিও পুরসভার দাবি, সঠিক নিয়মে কাজ হয়েছে। লরিতে ওভারলোড থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানার আলুর মাঠ এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার দালাল পাড়া লেন সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা একটি হাই ড্রেন তৈরি হয়েছে। শান্তিপুর পৌরসভার নিকাশি ব্যবস্থা বরাবরই খারাপ। সেই কারণেই সরকারি প্রকল্পে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে রাস্তার মাঝখান দিয়ে একটি হাইড্রেন তৈরি করা হয়। এদিন একটি বালিবোঝাই লরি ওই পথেই যাচ্ছি‌ল। তখনই হাইড্রেনটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ফলে লরিটিও উল্টে যায়। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ড্রেনের কাজ করার সময় বলা হয়েছিল ন্যুনতম ৮০ টন মালবোঝাই গাড়িও ওই পথ দিয়ে যেতে পারবে কোনও সমস্যা হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা অনুপ বর্ধন বলেন, ‘‘২৫ টন বালি বোঝাই লরি যেতেই দেখছি ভেঙে পড়লো ড্রেন। অথচ বলেছিল ১০০ টন মাল যাবে। ৭০-৮০ টন এলে সমস্যাই নেই। বেশিরভাগ জায়গাতেই ড্রেন ভেঙে পড়েছে। এবার তো এর থেকে বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। বোঝা গেল একেবারে নিম্নমানের মাল দিয়ে কাজ হয়েছে।’’ আর এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘‘সব পুরনো ইঁট দিয়ে কাজ হয়েছে। তাই তো এভাবে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো। এই রাস্তা দিয়ে সব দিন ভারী গাড়ি যায়। সে জন্যই তো এত টাকা দিয়ে ড্রেন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বোঝা গেল, দুর্নীতি হয়েছে। নিশ্চয় নিম্নমানের মাল দিয়ে কাজ হয়েছে। নাহলে এভাবে ভেঙে পড়বে কেন?’’

একই অভিযোগ স্থানীয় সিপিআইএম নেতা সৌমেন মাহাতোর। তিনি বলেন, শাসকদলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত প্রতিটি নেতা দুর্নীতিগ্রস্ত। মাত্র ক’দিন আগে ড্রেনটি তৈরি হয়েছে কোটি টাকা ব্যয় করে। আর সামান্য একটি লরি যেতেই ভেঙে পড়লো। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই ওই হাইড্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনোও দুর্নীতির সম্পর্ক নেই। বালির গাড়িতে অতিরিক্ত মাল ছিল। আতই ঘটনাটি ঘটেছে।’’ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

ads

Mailing List