মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ: গুপ্ত ধন আছে বলে বিশ্বাস, কিন্তু সে ঘর এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি / চতুর্থ কিস্তি 

মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ: গুপ্ত ধন আছে বলে বিশ্বাস, কিন্তু সে ঘর এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি  / চতুর্থ কিস্তি 
26 Sep 2022, 09:30 AM

মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ: গুপ্ত ধন আছে বলে বিশ্বাস, কিন্তু সে ঘর এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি / চতুর্থ কিস্তি 

 

ড. অরুনাভ সাহা

 

দ্বিপ্রাহরিক আহার শেষে টুকটুকে চেপে বসলাম। নহবত গেটের নীচে দিয়ে গিয়ে তিনমাথা মোড়ে নেতাজী স্ট্যাচু কে বাম দিকে রেখে দাঁড়ালাম চক মসজিদের সামনে। মসজিদ চত্বর সাদা রঙ করা। মসজিদ চত্বরের সামনে প্রশস্ত মাঠ। মাঠে বাজার বসে। সেখান থেকেই নাম চক মসজিদ। ইতিহাস বলে ১৭৬৭ সালে নবাব মীরজাফরের স্ত্রী মুন্নী বেগম এই মসজিদ নির্মাণ করান। তারও আগে এই জায়গায় ছিল নবাব আলীবর্দী খানের তৈরি "চেহেল সুতান"- ৪০টি থাম বিশিষ্ট মুক্তাঙ্গন। এই চেহেল সুতানের কিছু ভগ্নাবশেষ ভাগীরথীর পারে ঘন্টা ঘরের পেছনে দেখা যায়। মসজিদ সারা বছর বন্ধই থাকে, কেবল ঈদ উপলক্ষে খোলা থাকে আর জনগণপ্রার্থনার সময় খোলা থাকে।

 

চক মসজিদ ছেড়ে এগিয়ে চললাম মোতিঝিলের দিকে। মোতিঝিল একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, যা কোম্পানী বাগান নামেও পরিচিত ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহচর্যের জন্য। আবার কারও মতে ঝিলে মুক্তোর চাষ হতো, তাই নাম মোতিঝিল। মোতিঝিলের পাশে ছিল মোতিঝিল প্রাসাদ। এই ঝিল এবং প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের বড়ো জামাতা, ঘসেটি বেগমের স্বামী নবাব নওয়াজিস মহম্মদ খান। কথিত আছে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে এই প্রাসাদ দখল করেন ও প্রচুর ধনসম্পত্তি লুঠ করেন এবং ভাগীরথীর অপর প্রান্তে একইরকম ঝিল ও প্রাসাদ তৈরি করেন যা হীরাঝিল নামে পরিচিত। বর্তমানে এই মোতিঝিলের দুটি ভাগ। একটি ভাগে ইতিহাস এখনও জাজ্বল্যমান।

 সেই ভাগে আছে কালা মসজিদ। তিনটি গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদ, চারকোনে চারটি মিনার। মসজিদটি তৈরি হয়েছিল ১৭৪৯-৫০ সালে। এই মসজিদের ভেতরে নবাব নওয়াজিস খানের হাতে লেখা একটি কোরআন ও আছে। মসজিদের পূর্ব দিকে আছে সমাধিস্থল। এখানে শায়িত আছেন নবাব নওয়াজিস খান, তার পালক পুত্র এক্রাম উদ দৌল্লা, সম্পর্কে যিনি সিরাজ উদ দৌল্লার ছোট ভাই। আর আছেন একরামের শিক্ষক, নার্স, আর নবাব নওয়াজিস খানের জেনারেল সামশ্রী আলি খান। এই সমাধিস্থলের পাশেই আছে মুর্শিদাবাদ মিন্টের সুপারিনটেনডেন্ট মিঃ কিপিং এর পাঁচ বছরের পুত্রের সমাধি।

কালা মসজিদের দক্ষিণ দিকে আছে দরজা-জানালা হীন স্তুপাকার কিংবদন্তির ঢিপি। জনশ্রুতি ঘসেটি বেগমের ধনসম্পত্তি এই ঢিপির মধ্যেই লুকানো আছে। আবার আর একটি মত হলো সিরাজ ঘসেটি বেগমকে বন্দী করার পর তার সহচরীদের এই ঘরে জীবন্ত বন্দী করেন। জনশ্রুতি যাই হোক, মজার ব্যাপার হলো এই গুপ্ত ঘরটি আজ ও ভাঙ্গা যায় নি। একবার ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু সফলতা আসেনি, নিদর্শন বিদ্যমান। পাশে সরকারি উদ্যোগে ২৫০ বিঘা জমির ওপর প্রকৃতি তীর্থ। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাটারী চালিত ছয় সিটের গাড়ি বুক করে নিতে পারেন পুরো পার্কটি ঘোরার জন্য। এছাড়া সাইকেল ও ভাড়ায় মিলবে। পার্কে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক মূর্তি, রেপ্লিকা, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, ট্রয় ট্রেন, মিউজিক্যাল ফোয়ারা, ফুলের বাগান। পার্কের একেবারে শেষপ্রান্তে আছে লাইট এন্ড সাউন্ড শো। প্রতিদিন হয়। দেখার জন্য টিকিট বাধ্যতামূলক। লাইট এন্ড সাউন্ডে ছবি তোলা মানা। খুব উন্নত মানের না হলেও ভালোই লাগবে। টাইম মেশিনে ২৫০ বছর আগে পৌঁছে যাওয়া। পার্কে থাকার ব্যবস্থাও আছে। ঝিলের পারে কটেজে। ট্যুরিজিম ডিপার্টমেন্টের সাইটে গিয়ে বুকিং করতে হবে। উৎসাহীরা একটা গোটা দিন পার্কে কাটাতে

Mailing List