চিকিৎসকদের জীবন নিয়ে সিনেমা! অভিনয়েও চিকিৎসকরা! মুক্তি পেল ট্রেলার

চিকিৎসকদের জীবন নিয়ে সিনেমা! অভিনয়েও চিকিৎসকরা! মুক্তি পেল ট্রেলার
20 Jul 2022, 11:30 AM

চিকিৎসকদের জীবন নিয়ে সিনেমা! অভিনয়েও চিকিৎসকরা! মুক্তি পেল ট্রেলার

                                                

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: চিকিৎসকদের উপর আক্রমণের নজির আকছার দেখা যায়। হাসপাতালে তাণ্ডব, চিকিৎসকদের মারধর, ভাঙচুর রাজ্যে কোনও নতুন ঘটনা নয়। আবার একে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, হাসপাতালে অচল অবস্থার নজিরও আছে। এই রকম ঘটনা নিয়ে বাংলা ও হিন্দিতে চলচ্চিত্রও কিছু হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম চিকিৎসকদের বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি হল যার লেখক, প্রযোজক, সংলাপ রচয়িতা এমনকি অভিনেতা, অভিনেত্রীরা সকলেই চিকিৎসক। এমন অভিনব ঘটনা এর আগে রাজ্যে দেখা যায়নি বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহল।                        

একজন ডাক্তারের ভূমিকায় পেশাদার অভিনেতারা যে ভাল অভিনয় করবেন সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন চিকিৎসক যেহেতু তাঁর জীবনের উপর দিয়ে যে ঘটনাগুলি ঘটেছে তাই সেই চরিত্রের সঙ্গে তিনি অঙ্গাগী হবেন বলেই এখানে তাঁদের দিয়েই অভিনয় করানো হয়েছে। যা ঘটনা তাঁরা দৈনন্দিন জীবনে মোকাবিলা করেন সেই ঘটনা রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে তাঁরা অনেক বেশি সাবলীল। সেই ভাবনা থেকেই একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করেছে চিকিৎসক সংগঠন 'প্রটেক্ট দি ওয়ারিয়র্স '।                

২৯ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ওই ছবির নাম 'সিদ্ধান্ত'। ছবির ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি যাতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা নেট মাধ্যমে মুক্তি পায় তার পদ্ধতি চলছে। এই ছবির মূল ভাবনা 'প্রটেক্ট দি ওয়ারিয়র্স' এর সেক্রেটারি ড. অভীক ঘোষের। তিনি পেশাগতভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের সিনিয়র পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করলেও এই ছবির পরিকল্পনা, প্রযোজনা এমনকি অভিনয়ও করেছেন। তিনি ছাড়াও এই ছবির মোট চোদ্দ জন অভিনেতা -অভিনেত্রীই চিকিৎসক। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ছবির সংগীত পরিচালকও একজন অনাবাসী চিকিৎসক ড. শিবালিক বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি ব্রিটেন থেকে 'সিদ্ধান্ত' এর জন্য সংগীত পরিচালনা করে গান গেয়েছেন পর্যন্ত।                                           

ড. অভীক ঘোষ বলেন, 'একজন চিকিৎসক যখন সামাজিক সমস্যায় পড়েন তখন সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন কিছু রোগী ও তাঁদের পরিবারই। সেইসময় নিশব্দে তাঁরা চিকিৎসকদের পাশে থাকেন। চিকিৎসকের কোথাও বদলি হলেও তাঁরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই সব মানুষের কথাই তুলে ধরতে চাওয়া হয়েছে এই ছবিতে। একজন ডাক্তারই জানেন পেশার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কিভাবে ভুগতে হয়। সেই সমস্যাও দেখানো হয়েছে ছবিতে।'             

এই ছবিতে একমাত্র অচিকিৎসক বা ভিন্ন পেশার মানুষ এর পরিচালক। পার্থ সারথী জোয়ারদারের পরিচালনায় ছবিটিতে তৈরি হয়েছে। গোটা কাহিনিটি লিখেছেন ড. দ্বৈপায়ন মজুমদার। তিনি পেশায় কলকাতা পুরসভার একজন চিকিৎসক। কিন্তু গল্প লেখার অভ্যাস তাঁর বরাবরই আছে।                                  

ড. দ্বৈপায়ন মজুমদার বলেন, 'এর আগে আমি বিভিন্ন বিষয়ের উপর গল্প লিখেছি। কিন্তু এই প্রথম আমাকে যখন বন্ধুরা বলল আমাদের নিয়েই গল্প লিখতে তখন লিখে ফেললাম। এই গল্পে আমি তুলে ধরতে চেয়েছি যে ডাক্তাররা যখন সমস্যায় পড়েন তখন তাঁর উপর নির্ভরশীল কিছু রোগী ও তাঁদের পরিবারকেও তার জের ভোগ করতে হয়। কারণ তাঁরা চিকিৎসকদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই অসহায় মানুষের কথা উপেক্ষিত থেকে যায়।' এই কাহিনিতে শুধু হিংসাই নয়, দেখানো হয়েছে একটি দার্শনিক উত্তরণও।                                    

এখানে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ড. শুদ্ধসত্য চট্টোপাধ্যায়, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কৌশিক লাহিড়ী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. রোহিত কাপুর, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সম্পাদক, সংসদ ড. শান্তনু সেনের কন্যা, এমবিবিএস পাঠরত সৌমিলী সেন - সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা।

Mailing List