ডাক্তারিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও মেধা ব্রাত্য!

ডাক্তারিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও মেধা ব্রাত্য!
03 Apr 2022, 01:15 PM

ডাক্তারিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও মেধা ব্রাত্য!

 

সপ্তপর্ণী দত্ত

 

ডাক্তারি এই সমাজের মহত্ত্বম পেশা। সাধারণ মানুষের কাছে ডাক্তারের আর এক নাম ভগবান। কিন্ত সেই ডাক্তারি পড়ার জন্য এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হতে গিয়ে সারা ভারতের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাথে বাংলার মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও জেরবার। অনেকটা হতাশও বটে।

এই মুহুর্তে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের এমবিবিএস এ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার একটা কারণ যদি হয় সংরক্ষণ বা কোটার আধিক্য, আর একটা কারণ ভর্তিতে দুর্নীতি। সরকারি হিসেবে শতকরা ৬৫ টি আসন ডাক্তারিতে সংরক্ষিত হলেও বাস্তবে প্রায় ৭৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি কলেজে প্রায় ১২ ধরনের সংরক্ষণ চালু আছে। এখানে মেধা ব্রাত্য। এই বছর ডাক্তারি ভর্তির কাউন্সেলিং এ এই বাংলায় সাধারণ ছাত্রছাত্রী যারা সর্বভারতীয় পরীক্ষায় ৩২ হাজার ৯০০ স্থান পেয়েছে তারা বাংলার কোনও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। অথচ ওই একই পরীক্ষায় ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ পাওয়া ছাত্র সংরক্ষণ বা কোটার জোরে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

৩২ হাজার ৯৬৭ র‍্যাঙ্ক করা ছাত্রটি প্রায় ৮০% নম্বর পেয়েছে। আর ৮ লাখ ৮৪  হাজার ২৬ র‍্যাঙ্ক করা ছাত্রটি পেয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ নম্বর। অর্থাৎ এখানে মেধাকে দূরবীন দিয়ে দেখতে হবে।

এর সাথে রয়েছে এমবিবিএস-এ ভর্তির দুর্নীতি। পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল এডুকেশনের ডিরেক্টর প্রকারান্তরে এই দুর্নীতির আশঙ্কাও করেছেন। ১০.৩.২০২২ তারিখে একটি আর্জেন্ট সার্কুলারে তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেক কলেজ যেন ডোমিসাইল এবং জাতিগত (কাস্ট) শংসাপত্র অত্যন্ত ভালো খুঁটিয়ে দেখেন। সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তা দেখার কথা জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে তা সঠিক না হলে বাতিল করার কথাও জানানো হয়েছে।

এবারে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষার ফল ঘোষণা হয় ১ নভেম্বর। অথচ কাউন্সেলিং শুরু কর শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। মাঝের এই তিন মাসে দালালচক্রের সক্রিয় সহযোগিতায় ডোমিসাইল বি শংসাপত্র ও জাল জাতিগত শংসাপত্র বানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের অনেক ছেলেমেয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বাংলার কাউন্সেলিং এ অংশ নেয়। যার ফলে সত্যিকারের পশ্চিমবঙ্গবাসী ছাত্রছাত্রীরা বঠ্চিত হয়। এটা যে সত্যি তা এমবিবিএস ভর্তির রাজ্য তালিকা দেখলেই বোঝা যায়। গত বছর যেখানে ৩৪৯০০ র‍্যাঙ্ক করা ছাত্রের রাজ্য তালিকায় স্থান ছিল ১৯১০, সেখানে এবছর সর্বভারতীয় পরীক্ষায় একই র‍্যাঙ্ক করা ছাত্রের স্থান হয়েছে ২১২৫ নম্বরে। প্রায় ২০০ ছাত্রছাত্রী কোথা থেকে এলো? এখানেই পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল এডুকেশনের ডাইরেক্টরের ধারনাটি সঠিক। জাল ডোমিসাইল দিয়ে কিছু বাইরের রাজ্যের ছেলেমেয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছে বলেই এমন ঘটনা ঘটছে। দালালদের পকেট ভরেছে। রাজ্যের মেঘাবী পড়ুয়ার কপাল পুড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক থেকে ডাক্তারি পড়ুয়ারাও। সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব বিষয়টি নিয়ে ভাবার। নাহলে প্রতি বছরই রাজ্যের মেধাবি ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হতেই থাকবে।

(নিজের মেয়েকে ডাক্তারিতে ভর্তি করে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার ভিত্তিতে লেখক নিজের মতামত জানিয়েছেন।)

Mailing List