কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে জল ঢেলে পুজো দিলেন সাংসদ নুসরত জাহান, হাত লাগালেন খিচুড়ি রান্না থেকে প্রসাদ বিতরনেও  

কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে জল ঢেলে পুজো দিলেন সাংসদ নুসরত জাহান, হাত লাগালেন খিচুড়ি রান্না থেকে প্রসাদ বিতরনেও   
19 Aug 2022, 03:15 PM

কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে জল ঢেলে পুজো দিলেন সাংসদ নুসরত জাহান, হাত লাগালেন খিচুড়ি রান্না থেকে প্রসাদ বিতরনেও

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, বসিরহাট: জন্মাষ্টমীর পূর্ণ তিথিতে কচুয়ার লোকনাথ ধামে গিয়ে বাবার মাথায় জল ঢেলে পুজো দিলেন বসিরহাটের সাংসদ নুসরত জাহান। খিচুড়ি রান্নায় হাত লাগানে। বিতরণ করলেন প্রসাদও। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯২ তম জন্মবার্ষিকী উৎসবের শুভ কামনার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাংসদ। উত্তর ২৪ পরগানার কচুয়া ও চাকলা এই দুই  লোকনাথ মন্দিরেই উৎসব পালিত হচ্ছে। করোনা মহামারীর কারনে গত দুই বছর এই উৎসব বন্ধ ছিল। 

প্রত্যাশা মতোই এই বছর ৩ দিনের উৎসবে ভক্তদের ভিড় উপছে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন লোকনাথ বাবার মাথায় জল ঢালতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মন্দির কতৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই উৎসাহী ভক্তরা জল নিয়ে মন্দিরের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছিল। সময় যত গড়িয়ে ভিড় তত বেড়েছে। সারারাত ধরে বিভিন্ন বয়সের লক্ষ লক্ষ পূর্ণাথীরা মন্দিরের উদ্দেশ্যে হেঁটেছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৪, ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ও টাকী রোড়ে ভারী যানবাহনের  নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলি কার্যত ভক্তদের দখলে চলেযায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব,  সেচ্ছাসেবী সহ নানান সংগঠন ভক্তদের খাবার, পানিয় জল সহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা করে। মন্দির কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষথেকে রাখা হয় চিকিৎসার ব্যবস্থা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ছিল কড়া পুলিশি নজরদারি।

এছাড়াও ২০১৯ সালে লোকনাথ বাবার জন্মোৎসব চলাকালীন কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে প্রবেশ পথে পাঁচিল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ৫ জন পূণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। অনেকেই জখম হয়েছিলেন। পরবর্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় লোকনাথ মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য কচুয়া ধামে আছে বাড়তি নজরদারি। এবছর উৎসবের সময় ভক্তদের মন্দিরে ঢোকা বের হওয়ার আলাদা ২টি রাস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্বরূপনগরের টাকি রোড থেকে কোন গাড়ি মন্দিরের রাস্তায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা । নিরাপত্তার কারণে মন্দির চত্বরে এবং রাস্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও স্বেচ্ছা সেবকের সংখ্যা অনেক বেশি রয়েছে। বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় জানান, এবছর ভিড় বাড়বে জেনেই পুলিশ, প্রশাসন,  মন্দির কতৃপক্ষ এ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে পূর্ণাথীদের কোন সমস্যা না হয়। সবাই সজাগ দৃষ্টি রাখছে। ছোট খাট কয়েকটি ঘটনা ছাড়া এখনও পর্যন্ত বড় কোন ঘটনার খবর পাইনি। জেলা পুলিশে উচ্চপদস্থ  আধিকারিকেরা সর্বদাই সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা দেগঙ্গার জনপ্রতিনিধি একেএম ফারহাদ বলেন দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মন্ডল, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মইদুল হক শাহজ ও তিনি নিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পূর্ণাথীদের খাবার, জল বিতরনের পাশাপাশি ভক্তদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন।

Mailing List