বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন জীবের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কী এই দু’মুখো সাপ?

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন জীবের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কী এই দু’মুখো সাপ?
14 Sep 2021, 09:54 PM

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন জীবের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কী এই দু’মুখো সাপ?

 

বৈচিত্রময় পৃথিবীতে জীব বৈচিত্রও বিচিত্র ধরণের। পৃথিবীতে রয়েছে নানা রকম রহস্যময় প্রাণী। যা অবাক পৃথিবীর অবাক বিস্ময়। এমন কিছুর প্রাণীর রহস্য বিজ্ঞানী মহলেও চিন্তা ফেলে দেয়। এমনই এক প্রাণী এটি। রোজকার মতো বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ ও বনবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ অমলকুমার মণ্ডল, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ক্যাম্পাসে প্রাতঃভ্রমণ করেন। এই রকম ভাবেই হাঁটতে হাঁটতে নতুন কিছু, তা প্রানী হোক বা উদ্ভিদ, বা কোনও পাখি (কেননা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে এমন অনেক পাখি আসে যা কিনা পাখি প্রেমীদের কাছে একটা বিরাট সম্পদ) চোখে পড়লে ক্যামেরা বন্দি করে রাখা অভ্যেস। এবার দেখা মিলল এক নতুন ধরণের সাপের। তারই ব্যাখ্যা করছেন

ডঃ অমলকুমার মন্ডল

 

বলে রাখা ভালো, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবুজ জীব বৈচিত্রে ভরপুর। সঙ্গে প্রাণ দায়ী অক্সিজেনও। তেমনই এই সেদিন হাঁটতে হাঁটতে এমন একটা জীবের সাথে সাক্ষাৎ। যা কিনা আগে কোনও দিন দেখা যায়নি। বলে রাখা ভালো এই বেশ কিছু দিন ধরে সকাল সন্ধ্যে এক পশলা করে বৃষ্টি হচ্ছে। তেমনই এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ সে জীব রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ধীর গতিতে চলেছে। অমলবাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ৩ বার পরিক্রমা করার পর শেষবার পরিক্রমার সময় প্রাতঃভ্রমণের সঙ্গী হন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল। একটু অন্য রকম লাগলো। অন্য রকম দেখামাত্র একটু পর্যবেক্ষন করে কয়েকটা ছবি ক্যামেরা বন্দি করা।

তারপরই প্রাণীজগৎ নিয়ে যাঁদের চর্চা তাঁদের সঙ্গে ছবি পাঠিয়ে জানতে চাওয়া, এই প্রাণীটি কি, তার বিজ্ঞান সম্মত নামই বা কী? লেডি ব্রেবর্ন কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা ডঃ সংযুক্তা মণ্ডল পারুই জানালেন, প্রাণীটির নাম ইচিওপ্সিস, অন্ধ সাপ, ব্রামিনি ব্লাইন্ড স্নেক (সাপ), বিষহীন, দুইমুখো সাপ। আরও পড়াশুনা ও ডিটেল স্টাডি করে জানা গেল, এটা ব্রাইমিনি ব্লাইন্ড স্নেক বিজ্ঞান সম্মত নাম ইন্ডোটাইফ্লোপ্স ব্রাম্নিনাস  (Indotyphlops braminus) এই অদ্ভত সাপের আর এক নাম রয়েছে নন ভেনামাস ব্লাইন্ড স্নেক (নির্বিষ অন্ধ সাপ)। এই প্রজাতি এশিয়া এবং আফ্রিকায় পাওয়া যায়। পৃথিবীর অন্য দেশে মাঝে মাঝে দেখা পাওয়া যায়। এই ধরনের সাপ ফোসোরিয়েল বলা হয়। ফোসোরিয়েল আসলে, যাদের মাটির নীচে শরীরের অংশ থাকে, সেভাবেই জীবন অতিবাহিত করে, বৃষ্টি হলে মাটি নরম হয়ে গেলে মাটি থেকে বের হয়ে আসে। এই প্রাণী দেখতে হুবহু কেঁচোর মতো। খুব ভালো ভাবে পরিদর্শণ ও পর্যবেক্ষন না করলে ধরা খুবই শক্ত। খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়। যেহেতু সাপ তাই স্কেলস থাকবে, কিন্তু কেঁচোর ক্ষেত্রে সেগ মেন্ট থাকে, এটাই প্রথম দর্শনে চেনার উপায়। এই প্রজাতির প্রাণী পার্থনোজেনিক হয়ে থাকে এবং সকলেই ফিমেল। পিঁপড়ের বাসাতে অথবা উঁইপোকার বাসায় এরা জীবন অতিবাহিত করে। তাই এইটুকু বলা যায় বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সত্যি জীব বৈচিত্রে ভারপুর।  

 

না জানি আরও কত বিরল প্রজাতির প্রাণীর ভবিষ্যতে দেখা মিলবে। নিসন্দেহে জীব বৈচিত্র সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। যা আর কোথাও তেমন ভাবে চোখে পড়ে না।

ads

Mailing List