মণিপুরের সুস্বাদু ‘পেংবা’ মাছ রুই, কাতলার সঙ্গেও চাষ করা যায়, কিভাবে বাড়তি লাভ করবেন জেনে নিন  

মণিপুরের সুস্বাদু ‘পেংবা’ মাছ রুই, কাতলার সঙ্গেও চাষ করা যায়, কিভাবে বাড়তি লাভ করবেন জেনে নিন   
23 Sep 2022, 12:03 AM

মণিপুরের সুস্বাদু পেংবামাছ রুই, কাতলার সঙ্গেও চাষ করা যায়, কিভাবে বাড়তি লাভ করবেন জেনে নিন

 

সুমনকুমার সাহু

 

‘পেংবা’ মাছ এর চাষ এ রাজ্যে প্রথম চাষ শুরু হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায়। তারপর ধীরে ধীরে রাজ্যের অন্যান্য জেলায় পেংবা চাষের আগ্রহ বাড়ছে। একদিকে যেমন খুব সুস্বাদু মাছ তেমনই মিশ্র চাষে চাষে লাভও বেশি। যেহেতু পেংবা মাছ রাক্ষুসে স্বভাবের নয়, তাই এদের সাধারণ পুকুর, ডোবায় রুই, কাতলার সাথে সহজে চাষ করা যায়। এক কথায়, বাণিজ্যিক ভাবে সাথী ফসল হিসেবে রুই, কাতলার সাথে “পেংবা” মাছের চাষ অত্যন্ত লাভ জনক।

মিষ্টি জলের মাছ ‘পেংবা’। যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘অস্টিওব্রামা বেলাঙ্গিরি’। ভারতের মধ্যে কেবল মণিপুর রাজ্যতেই এই মাছের দেখা মেলে। তবে বর্তমানে মণিপুর রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া মাছের মধ্যে পড়ে গিয়েছে এই পেংবা। ‘পেংবা’ মণিপুর রাজ্যের মানুষের কাছে অতি প্রিয়। অতুলনীয় স্বাদের জন্য চাহিদাও খুব ভালো। অন্য কোনও মাছের সাথে পেংবার স্বাদের তুলনা চলে না। একটা নিজস্ব স্বাদ আছে পেংবার। মণিপুরের বাজারে প্রায় এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় মাছটি। এমনকী, মণিপুরের স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছে পেংবা। রয়েছে আবেগও। তাই প্রতি বছর মণিপুরে ‘পেংবা দিবস’ পালন করা হয়।

বড় পুকুরে চাষের জন্য হেক্টর প্রতি ৭০০০-৮০০০ পেংবা মাছের চারাপোনা মজুদ করা যায়। এবং এক বছরে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজন হয়। যা বিক্রি যোগ্য। পেংবা মাছের বৃদ্ধি এমনিতে সাধারণ বা কম হলেও বাজারমূল্য অনেক বেশি। তাই সাথী ফসল হিসেবে পেংবার মিশ্র চাষ অধিক লাভজনক। আঁতুড় পুকুরে চাষের জন্য প্রতি হেক্টর জলাশয়ে ৩-১০ মিলিয়ন ডিমপোনা ছাড়তে হবে। তবে পুকুরে বায়ুসঞ্চালনের ব্যবস্থা করলে ১০-২0 মিলিয়ন/হেক্টর ডিমপোনা ছাড়া যাবে। কৃত্রিম খাবার হিসেবে চালের কুঁড়ো ও বাদামখোল এর গুঁড়ো সমান অনুপাতে মিশিয়ে দিতে হবে।

পালন পুকুরে চারাপোনার চাষের জন্য কার্প জাতীয় মাছের সাথে মিশ্রচাষ করা যাবে। ৭০-৮০ শতাংশ মাছের বাঁচার হার। উপযুক্ত, সুষম সমৃদ্ধ মাছের খাবার পেলে উচ্চ বেঁচে থাকার হার (৯৪.৫ শতাংশ) এবং মাছের ভালো বৃদ্ধি (৭৮৫ কেজি / হেক্টর)। তিন মাস পালন করেই তা সম্ভব।

‘অ্যাজোলা’ খাওয়ালে পেংবা মাছের ভালো বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। চাষিদের অভিঞ্জতা থেকে বলা যায়, জৈব জুস প্রয়োগে মাছের উৎপাদন আরও ভালো পাওয়া সম্ভব। জৈব জুসে উপস্থিত কার্বন জলের অ্যামোনিয়া সহ ক্ষতিকারক গ্যাস দূর করে দেয়, উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বা বন্ধু জীবানু জলের তলার জৈব পদার্থকে মাছের খাবারে পরিণত করে। কিভাবে এই জুস তৈরি করতে হবে? ২৫ ডেসিম্যাল পুকুরের জন্য আড়াই কেজি বাদাম খোল, তিন কেজি চালের গুঁড়ো, ছ’শো গ্রাম ঈষ্ট পাউডার, তিন কেজি চিটেগুড়, দেড় কেজি আটা, তিনশো গ্রাম কলা ও দেড় কেজি যেকোনও পোনা মাছের খাবার একসাথে তিন গুন জলের সাথে মিশিয়ে তিন দিন পচিয়ে পুকুরে দিতে হবে। এভাবেই সম্পূর্ন জৈবিক পদ্ধতিতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, কমন কার্পের সাথে ‘পেংবা’ মাছ বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক।

........................

লেখক: মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক, হলদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

Mailing List