কঠিন লড়াই, ভরসা নেই স্ত্রীর ওপরেও, রাজ্যসভা থেকে ফিরতে হল মানস ভুঁইয়াকে

কঠিন লড়াই, ভরসা নেই স্ত্রীর ওপরেও, রাজ্যসভা থেকে ফিরতে হল মানস ভুঁইয়াকে
05 Mar 2021, 07:30 PM

কঠিন লড়াই, ভরসা নেই স্ত্রীর ওপরেও, রাজ্যসভা থেকে ফিরতে হল মানস ভুঁইয়াকে

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদনঃ সবং কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে সাতবার জিতেছেন মানস ভুঁইয়া। সেই সময় তিনি ছিলেন কংগ্রেসে। গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের প্রার্থী হিসাবে জেতার পরে দলের সঙ্গে বিবাদের জেরে কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তিনি এখন রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁকে এবার ফিরতে হচ্ছে রাজ্যসভা থেকে। আবার লড়াই করতে হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনে।  সেই সবং কেন্দ্রেই।

২০১১ সালে তিনি এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেসের জোটের প্রার্থী হিসাবে। জিতে রাজ্যের মন্ত্রীও হন। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের প্রার্থী হিসাবে। তারপরে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভাতে যাওয়ার পরে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন।

২০১৭ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয় মানস ভুইয়ার স্ত্রী গীতারানি ভুঁইয়াকে।

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ৪৯১৬৭ ভোটের ব্যাবধানে জিতেছিলেন তিনি। কিন্ত এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তাঁর স্ত্রী জিতেছিলেন ৬৪১৯৬ সালের ব্যবধানে। তাঁর জেতার ক্ষেত্রে কারিগর ছিলেন মানস ভুঁইয়াই। রাজ্যসভার সাংসদ হলেও এলাকাতেই বেশি দেখা যায় মানস ভুঁইয়াকে।

কিন্তু স্ত্রী এলাকার বিধায়ক হলেও দল এবার কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে সেই মানস ভুঁইয়াকে।রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার  চার বছরের মধ্যেই তাঁকে ফিরে আসতে হল।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার সময়েই তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এইবারের লড়াই যে কিছুটা কঠিন তা পরোক্ষে মেনে নিয়ে বলেছেন, এই বারের লড়াই একটু অন্যরকম।  লড়াই যে সত্যিই কঠিন তা বোঝা যায় এই সিদ্ধান্ত দেখেই।

অনেকেই বলতে শুরু করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পরেও কেন মানস ভুঁইয়ার ওপরেই ভরসা করতে হল তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রীকে। যে এলাকাকে বলা হয় মানস ভুঁইয়ার খাসতালুক, সেখানে তাঁর স্ত্রী, যিনি বর্তমানে এলাকার বিধায়ক তাঁকেই প্রার্থী না করে কেন করা হল মানস ভুঁইয়াকে? স্ত্রী প্রার্থী হলেও তো সেই প্রচারের এবং তাঁকে জেতানোর দায়িত্ব থাকত মানস ভুঁইয়ার কাঁধেই।   তাহলে কী লড়াই সত্যিই কঠিন এবার সবং  কেন্দ্রে?

অনেকের মতেই সবং এলাকাতে এখন বিজেপি  নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।  ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির কাশীনাথ বসু পেয়েছিলেন ২.৬০ শতাংশ ভোট। কিন্ত তার পরের বছরেই উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট প্রায় তিনগুণ বাড়ে। বিজেপির অন্তরা ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন  ১৮.০৮ শতাংশ ভোট। এখন ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সবং এলাকার অমূল্য মাইতি সহ অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে পদ্ম শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

ভোটের দিন ঘোষণার আগেই এই এলাকাতে এসে শুভেন্দু অধিকারী মানস ভুঁইয়াকে হারানোর কথা বলে গিয়েছেন তাতেই রাজনৈতিক মহলের মতে, যেভাবে বিজেপি এই কেন্দ্র জয় করতে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে এই আসন নিজেদের হাতে ধরে রাখতে সরাসরি মানস ভুঁইয়াকে লড়াইয়ের মাঠে সরাসরি নামানো ছাড়া অন্য কোন রাস্তা ছিল খোলা ছিল না তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।

এদিন দলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেছেন, “দলের নেত্রীর মনে হয়েছে সবং আসনে মানস ভুঁইয়াই সব থেকে যোগ্য প্রার্থী তাই তাঁকে দল এই কেন্দ্রে প্রার্থী  করেছে। এই কেন্দ্রে তিনিই জিতবেন।”

অন্যদিকে, এদিনই সবং কেন্দ্রে মানস ভুঁইয়াকে প্রার্থী বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করার পরেই এলাকাতে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন করে প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। আর মানস ভুঁইয়া নিজেও এলাকার বর্তমান বিধায়ক, তাঁর স্ত্রী গীতারানি ভুঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে, এই বিধানসভা এলাকার অধীন পিংলা থানার জলচকে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা করেছেন।

Mailing List