মাদারি

মাদারি
12 Jul 2020, 10:43 AM

মাদারি

ফাল্গুনী দে

 

গ্রিনিচ শহরে পৃথিবীর দুই গোলার্ধে পা রাখা, প্যারিস নিউইর্কের রাস্তা ধরে হাঁটা, ভলগা কলোরাডোর পাড়ে পাড়ে পায়চারি, ব্রাজিলের কফি ক্ষেত বরাবর দে ছুট, পাম আইল্যান্ড এর আকাশে উড়ন্ত পাখি - এসব বাড়িতে বসেই এক্কেবারে 3D চাক্ষুষ করা সম্ভম। টাকলা সুপারভাইজারের চোখ এড়িয়ে শীতের রাতে কম্বল মুড়ি দিয়ে এক সহকর্মীকে গুগল আর্থ বোঝাচ্ছিল অনিমেষ। বহু রাতে হোটেলের কাজ নিভে গেলে রান্নাঘরের মেঝেতে শুয়ে মোবাইলে ভার্চুয়াল ভ্রমণ তার অন্যতম নেশা। স্কুলে ফার্স্ট হত কিন্তু তারপর সব বদলে গেল। মাতাল বাপ, সৎ মা খ্যাদানো। অবশেষে পালিয়ে কলকাতা। গ্রামে যেমনটা হয় আর কি; সিনেমার মতো অথচ সিনেমা নয়।

সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত খাবার টেবিল ফাঁকা থাকে না। এলাকায় হোটেলটির সুনাম বাইরে লম্বা লাইন দেখলেই বোঝা যায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে কুমার শানুর নব্বই দশকের হিট গান। মালিকের খুব ফেবারিট। দশ হাতে কেতা দস্তুরের মতো কাজ না পারলে তাড়িয়ে দেবে। গানের তালে নাচের ভঙ্গিতে ঝড়ের বেগে অনিমেষ পৌঁছে যায় টেবিলে টেবিলে। সবাই খুব পছন্দ করে কিন্তু ছেলেটা কেমন যেন মনমরা।

কাস্টমার বলতে হস্টেল মেসের ছেলে মেয়ে, চাকুরীজীবী, অকর্মণ্য কুঁড়ে গৃহিণী আর কিছু হোম ডেলিভারি। খেতে খেতে হরেক কিসিমের গল্প আড্ডা -- গার্লফ্রেন্ড ফুসলিয়ে দীঘা, বন্ধুরা দলবেঁধে ঘাটশিলা, পুজোর ছুটিতে কুল্লু মানালি, অফিস ট্যুরে বৌদির গোপনে রায়চক, মাকে নিয়ে বছরে একবার পুরী, কেচ্ছা কেলেঙ্কারি, নিন্দা চর্চা, অর্থনীতি, রাজনীতি। অনিমেষ এক হাতা মাংসের ঝোল দিয়ে বলে "পেট ভরে খাও।" ভিড় টেবিল থেকে একজন জিজ্ঞেস করে "এবার পুজোয় কোথায় চরতে যাবি 'মেষ বাচ্চা?" কোন প্রস্তুতি ছাড়াই আকাশের দিকে ঝোলের হাতা উঁচিয়ে জবাব দেয়, "ডাইরেক্ট উপরে ছাড়া আমার আর কোথাও যাবার জায়গা নেই।"

...............

লেখক পরিচিতি: কবি, গদ্য লেখক ও অধ্যাপক। গ্রাম অমরপুর। জেলা পূর্ব বর্ধমান।

[email protected]

Mailing List