প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / প্রথম পর্ব

প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / প্রথম পর্ব
16 Dec 2021, 02:15 PM

প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা

(এক তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ধর্মীয় কাহিনী)

প্রথম পর্ব

 

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

(গৌরচন্দ্রিকা)

 

      বুদ্ধ --- খৃষ্ট--- ঈশা,

     এই তিন আলোর দিশা।

 

এটা ডিসেম্বর মাস।

মিশনারি স্কুলে লেখাপড়া করার কারণে এই মাসটা আমার নিজের মনের কাছে একটা পছন্দের মাস, পবিত্র মাস, খুশির মাস। এটা যে প্রভু যীশুর শুভ আবির্ভাবের মাসকাল।

 

যীশুখৃষ্টের সম্পর্কে অধিকাংশই জানা যায় খ্রিস্টানদের পবিত্র ধর্ম-গ্রন্থ বাইবেল থেকে।

এই বাইবেল-এ নতুন নিয়ম বা নিউ টেস্টামেন্টর প্রথম পুস্তক হলো সাধু (সেন্ট) মথি লিখিত সুসমাচার ---- যা অধিকাংশ গবেষকরা মনে করেন তা লিখিত হয়েছে আশি থেকে নব্বই খৃষ্টাব্দের মধ্যের কোনো এক সময়ে।

 

পুস্তকাকারে এই সুসমাচারটি লিখবার সময়ে মিথ, মূলতঃ, তিনটি প্রধান সুত্র থেকে এর বিষয়বস্তু গ্রহণ করেছিলেন ------ এক) মার্ক লিখিত সুসমাচার, দুই) কিউ সুত্র, তিন) এম সুত্র।

 

একটু ভেঙে বলা যাক:

এক) মার্ক লিখিত সুসমাচারে প্রভু যীশুর জীবদ্দশার আগের প্রকাশিত ঘটনাগুলির সাথে সাথে তাঁর দীক্ষা ও রূপান্তরের সময়কালে ঘটনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত জানাই, মার্ক লিখিত এই সুসমাচারটিই প্রথম লিখিত সুসমাচার।

 

দুই) কিউ সুত্র হলো পরিচিত বাণীর একটি তাত্ত্বিক সংকলন।

 

তিন) এম সুত্র--- এটি মথি লিখিত সুসমাচারের নিজস্ব উপাদান। এই সুত্রটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়; কারন এক মতের বক্তব্য অনুযায়ী এটি একটা সম্পূর্ণ আলাদা সুত্র --- এটি রচয়িতার চার্চ থেকে পাওয়া গেছে। 

আবার আরেক মত বলে, রচয়িতা নিজেই এগুলো রচনা করেছেন। 

তবে যাই হোক না কেন --- এই সুত্রে তৎকালীন সমাজের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

 

সে যাই হোক, মিথ যীশুখৃষ্টের পার্থিব জীবনকাহিনীর সাথে সাথেই ওঁনাকে শুধুমাত্র জন্ম থেকেই অধ্যত্মবাদী বা ঈশ্বরের পুত্র বলেই বর্ণনা করেন নি, বরং বলেছেন যে ঈশ্বরের ভবিষ্যৎবানীগুলির পরিপূর্ণ রূপ হলেন যীশুখৃষ্ট স্বয়ং।

তবে, মিথ তাঁর লিখিত সুসমাচারে যে কেবলমাত্র মার্ক-লিখিত সুসমাচারের উপাদানগুলিই অনুসরণ করেন নি, তিনি ইহুদি প্রথায় যিশুর স্থান নির্ধারণের ওপর এবং ভক্তিভরে যিশুর শিক্ষার ওপর যথেষ্ট আলোকপাত করেছেন। 

 

গবেষণাগারের তথ্য থেকে যেটুকু জানা গিয়েছে, তার নিরিখে বলা যায়--- মরি লিখিত সুসমাচারে লেখকদের নাম জানা যায় নি। এমনটাও বলা হয়েছে, বইটির নামের আগে "মরি লিখিত" এই শব্দবন্ধনীটি খৃষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর কোনো এক সময়ে যুক্ত করা হয়েছিল।

 

এ বিষয়ে প্রথম আলোকপাত করেন প্রথম যুগের খৃষ্টান বিশপ প্যাপিয়াস (100 -140 খ্রিষ্টাব্দে)

তার -ও শতাধিক বছর পরে, চার্চ ঐতিহাসিক ইউসেবিয়াস (260-340 খ্রিষ্টাব্দে) জানিয়েছিলেন যে, মিথ যীশুর জীবনী, বাণীগুলি হিব্রু ভাষায় প্রথমে প্রকাশিত করেন, এবং পরে তা গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তবে, এর মধ্যে একটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার পরিলক্ষিত হয় যে, মথির সুসমাচারের কোনো লেখক কিন্তু এমন কোনো মন্তব্য করেন নি যে --- তাঁরা ঐ সব ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।

 

যীশুখৃষ্টের জন্মের প্রেক্ষাপট ও সময়কাল :---

------------------------------------------------------------------

 

সত্তর (70) খৃষ্টাব্দে প্রথম ইহুদি- রোমান যুদ্ধের (66 -73 খ্রিষ্টাব্দে) সময়ে রোমানরা যে রক্তক্ষয়ী আক্রমণ করে,  তাতে জেরুজালেম ও মন্দির ভীষণভাবে ধ্বংস-প্রাপ্ত হয়। এই সময় থেকেই ইহুদি মেসিহা (বা অভিষিক্ত ব্যক্তি) নাজারেথের যীশু একটি সম্পূর্ণ পৃথক ধর্মব্যবস্থার অ-ইহুদি চরিত্র হয়ে উঠলেন। 

 

ইতিহাস বলে --- প্রথম শতাব্দীর অনেক খৃষ্টানের মতোই ম্যাথাউ যে খৃষ্টান গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন --- তখন  সেটি একটি বৃহত্তর ইহুদি গোষ্ঠীর অংশ ছিল। তাই, তারা তদানীন্তন যুগে  " ইহুদি-খৃষ্টান " বলে  পরিচিত ছিল।

 

ধর্মগত নানা কারণে, ম্যাথাউ-এর ইহুদি-খৃষ্টান আর সামগ্রিক বৃহত্তর ইহুদি গোষ্ঠীর মধ্যে একটা বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এরপর যখন যীশু জন্মগ্রহণ করলেন, তখন ম্যথাউদের গোষ্ঠী  যিশুকে মসিহা ( ঈশ্বরের পুত্র ) ও ধর্মীয় বিধানের প্রামাণ্য ব্যাখ্যাকর্তা বলে করতেন। এই নিয়েই মূলতঃ বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

 

আসলে, বৃহত্তর ইহুদি গোষ্ঠীরা ছিল একটি সংঘটিত গোষ্ঠী এবং 'চার্চ'বা  'ইক্লেসিয়া' -র গোঁড়া ভক্ত ছিল এবং তারা ইহুদি আইনের প্রতি চরম আনুগত্য প্রদর্শন করতেন। 

তারা যীশুর ঐশ্বরিক তথ্য বিশ্বাস করতেন না ; এর থেকেই যীশুর সাথে ইহুদিদের বৃহত্তর গোষ্ঠীর বিরোধ দিনে দিনে  তিক্ততায় পরিনত হয়, এবং অবশেষে, তাদের বিচারে, তাঁকে মর্মান্তিকভাবে এবং নৃশংসভাবে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়।

 

পরে, প্রভু যীশু পুনরুত্থিত হবার ঘটনা তাঁর ঐশ্বরিক ক্ষমতা ও দিব্যভাবের প্রমাণ দেয়।

 

 (ক্রমশঃ)

ads

Mailing List