Jesus Christ প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / চতুর্থ পর্ব

Jesus Christ প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / চতুর্থ পর্ব
20 Dec 2021, 12:45 PM

প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / চতুর্থ পর্ব

(এক তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ধর্মীয় কাহিনী)

 সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

বাইবেল : যীশুখৃষ্ট কাহিনির উৎস  --- নিউ টেস্টামেন্টর কথা: ---

===========================

 

বন্ধুরা,  গত তৃতীয় পর্বে বাইবেলে মথি লিখিত সুসমাচারে মূল পাঁচটি ভাগের দুটি ভাগের আলোচনা করা সম্ভব হয়েছে।  আজ প্রস্তুত  হয়েছি বাকি তিনটি ভাগের ধারণা পরিস্ফূট করতে।

 

দ্বিতীয় উপাখ্যান বা বিভাজনের কথা :---

----------------------------------------------------------

 

প্রথম উপাখ্যানে বর্ণিত যীশুর শিষ্যদের মাঝে বাণীপ্রচারকে কেন্দ্র করে, যে উপমা-সূচক গল্প বলেছিলেন, সেটা যে অলৌকিক কর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, সেই সব প্রামাণ্য বাক্যগুলি তিন ধরনের তিনটি অলৌকিক কর্মের প্রতি ধাবমান হলো। এই গল্পগুলিই দুই ধরনের শিষ্যত্ব কাহিনির সঙ্গে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।  এগুলিই দ্বিতীয় উপাখ্যানের মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠলো।

 

এই কাহিনীর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রভু যীশুর এক স্থান থেকে অন্যত্র ধর্মপ্রচারের নানান দিগন্তকারী অভিজ্ঞতার কথা, সেই-স্থানের মানুষদের বিচিত্র অনুভূতির কথা।  তারা যখন যীশুর কাছ থেকে রূপকের মাধ্যমে ওই উপদেশের বাণীগুলি শুনতো, তারা অভিভূত হয়ে যেত।

প্রথমে তারা বিশ্বাস করতো না, ঈশ্বর তাদের জন্য এভাবে কাউকে পাঠিয়ে দিতে পারেন, যিনি তাদেরকে সম্মান করবেন,  শ্রদ্ধা করবেন--- এভাবে নিজের লোকের মতো শুভাশুভ বুঝিয়ে দেবেন!

ধীরে ধীরে তাঁর শিষ্য-ভক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল। 

 

তবে,  এই ধর্ম-প্রচারের পথটি যে খুবই মসৃণ আর নিরুপদ্রব ছিল, তা নয়। কিছু লোক শুদ্ধচেতনায় মেনে নিল সব; কিছু আবার সন্দেহ প্রকাশ করতে লাগল। কেউ কেউ আবার যীশুর অপব্যাখ্যা করতে লাগল।

 

এভাবেই ধর্মপ্রচারের কালে, একসময়,  প্রভু বাছাই করে নিলেন বারোজন শিষ্যকে,  যাদেরকে নিয়ে তিনি  সুচারুভাবে করতে পারবেন ইহুদিদের মধ্যে ধর্মপ্রচার করতে, অলৌকিক কর্ম-সাধন করতে  এবং যে আগামীকালের স্বর্গরাজ্য উপস্থিত হতে চলেছে,  তার ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবেন। 

 

তিনি ঐ বারোজন বিশেষভাবে সংগঠিত শিষ্যদের বারণ করলেন সাথে ভারী বোঝা নিয়ে চলতে; আর বারণ করলেন পায়ে জুতো পড়তে। এভাবেই তিনি ও তাঁর ঐ শিষ্যগণ মানবসন্তানদের কাছে গিয়ে পৌঁছাতে চাইলেন নগ্নপদে  এবং সহায়সম্বলহীন হয়ে ঈশ্বরের উপদেশের বার্তা-প্রচার করার উদ্দেশ্যে।

 

তিনি সমগ্র মানবজাতির কাছে যেন  এই আবেদনটাই রাখতে চেয়েছিলেন এই কৃচ্ছসাধনের মাধ্যমে যে, জীবনের পথ কন্টকময়। এখানে ফুলের পাপড়ি কেউ বিছিয়ে রাখে না। নিজের কর্মের দ্বারা ও নিরলস কৃচ্ছসাধন করে ঈশ্বরের দেওয়া কাজ করে যেতে হয়।

 

তৃতীয় উপাখ্যান ও কথোপকথন:---

----------------------------------------------------

 

ক্রমে যতই যিশু একশ্রেণীর মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে লাগলেন,  ততোই বিরোধীদের কাছে বিরাগভাজন হয়ে উঠলেন।

তারা উচ্চতর সমাজ-ব্যবস্থাপকদের কাছে অভিযোগ করল, যীশুর অলৌকিক কর্মগুলিও  উপদেলাবলী সবই শয়তানের শক্তিতে সংঘটিত হয়ে  চলছে।

 

আসলে,  গাঢ় অন্ধকারে যাদের মন আচ্ছাদিত, তারা এই ভাবেই আঁধারের যাত্রী হয়েই পথ চলায় অভ্যাস্ত। আলো তাদের চোখে জ্বালা ধরায়, দৃষ্টির স্বচ্ছতা নষ্ট হয়ে যায়। 

 

এখানে মনে হতে পারে,  আঁধার কিভাবে দৃষ্টির স্বচ্ছতা নষ্ট করতে পারে!!!

পারে।  সম্ভব তা। যারা অন্ধকারের বাসিন্দা,  তারা আলোকে সহ্য করতে পারে না। চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, তাদের,  এই আলোর তীব্রতা। দীর্ঘদিনের অন্ধকারে থাকতে থাকতে তারা ওই অন্ধকারের মধ্যেই দেখতে অভ্যস্ত ছিল, এখন,  হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে তাদের অসুবিধা তো সবার-ই কথা।

 

আসলে,  যীশুর বিরোধীরা তাঁর কথোপকথনে যে রূপকের আখ্যান ব্যবহার করতেন,  তাতে জগতের সর্বময় কর্তা,  ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বের কথাই বার বার বলতেন; আর সেই স্বর্গরাজ্যের অধীশ্বরের রাজ্যে  বাস করতে গেলে যে নিয়মের কথাগুলো বলতেন,  সেই সব শিক্ষা দিতেন বলেই,  বিরোধীগোষ্ঠীর কাছে তিনি শত্রু হয়ে উঠেছিলন।

তিনি যে ওই স্বর্গরাজ্য গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন,  তাতেই তৎকালীন প্রশাষক মনে করেছিল: যীশু শয়তানের চর, তিনি লোকেদের বিপথে চালনা করতে চাইছেন। 

 

যীশু তখন দৃঢ়ভাবে তাদেরকে জানালেন : তিনি নন,  বরং তাঁর বিরোধীরাই পবিত্র আত্মা,  তথা ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করছেন।  এতে,  পরিবেশ আরো জটিল হয়ে উঠলো, এবং তার মধ্যেই যীশু তাঁর ধর্ম-প্রচারের কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। 

 

তবে,  একটা কথা খেয়াল রাখতে হবে যে, মথি কিন্তু তার সুসমাচারের কোথাও স্বর্গরাজ্যের ধারণা দিতে গিয়ে,  " ঈশ্বর " শব্দটি ব্যবহার করেন নি। তিনি " স্বর্গরাজ্য " কথাটি ব্যবহার করেছেন,  অথচ পূর্বোক্ত শব্দটি ব্যবহার করেন নি।

এর একটাই কারণ ---- ইহুদিরা ' ঈশ্বর '--এর নাম উচ্চারণ করেন না,  অথচ, তাঁর অবদানের কথা মানেন এবং বিশ্বাস করেন। মথি যেহেতু এই প্রথাটিকেই অনুসরণ করেছেন,  তাই, প্রাসঙ্গিক ভাবেই তাকে ইহুদি বলে মনে করার একটা যথোপযুক্ত কারণ পাওয়া যায়। 

 

      (ক্রমশঃ)

ads

Mailing List