Jesus Christ প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / তৃতীয় পর্ব

Jesus Christ প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / তৃতীয় পর্ব
18 Dec 2021, 07:30 PM

প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / তৃতীয় পর্ব

(এক তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ধর্মীয় কাহিনী)

 সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

বাইবেল: যীশুখৃষ্টর কাহিনির উৎস --- নিউ টেস্টামেন্টর কথা :---

================================================

 

আগেই বলেছি, মথি লিখিত নতুন নিয়মের এই  সুসমাচারটি 80 খৃষ্টাব্দ থেকে 90 খৃষ্টাব্দের মধ্যেকার কোনো এক সময়ে রচিত হয়। এবং এও জানানোর সৌভাগ্য হয়েছে যে, যিনি এই পুস্তকের অজ্ঞাতনামা লেখক, তিনি খুব সম্ভবতঃ এক পুরুষ ইহুদি ছিলেন; এবং তিনি তৎকালীন মতবিশ্বাসের প্রথাগত এবং প্রথার বাইরের ইহুদিদের মূল্যবোধ এবং সমসাময়িক কালের বিতর্কিত বিষয়ে সম্যক ধারণা পোষণ করতেন। 

 

পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে: আপনারা অধমকে প্রশ্ন করতে পারেন: " আপনি বলছেন-- এই পুস্তকটি মথি লিখিত।  তবে, এর মধ্যে অন্য কোনো অজ্ঞাত পুরুষ লেখকের কথা আসছে কোত্থেকে? "

 

উত্তরে বলি, বন্ধুরা, মথি কিন্তু নানান লেখকের লেখাকে সংযোজিত করে, সেটিকে আরো কয়েকটি বিশ্বস্ত সুত্রের সাহায্য নিয়ে তা পরিমার্জিত আকারে এই সুসমাচারটি রচনা করেন।

তবে, এটা সঠিক, যে, কেউই কিন্তু তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ করে যাননি, তাঁদের লেখায়; তাই, মথিই একাগ্রভাবে ওই সুসমাচারটি গ্রথিত করেন।

 

মথি তাঁর সুসমাচারে পুরো আখ্যান-বস্তু সর্বমোট পাঁচটি কথোপকথন দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে,পাঁচটি ভাগে বর্ণিত হয়েছে। 

 

তবে, প্রতিটি কথোপকথন শুরু হয়েছে এভাবে--- " যখন যিশু সমাপ্ত করলেন  ..." --- এই ভাবে। 

আপনারা মনে করতে পারেন--- এটি কি ধরনের লেখার গদ্যশৈলী!!

 

বন্ধুরা, সেক্ষেত্রে বলি, আমাদের পুরাণ যখন রচিত হয়, তখন পুরাণকার তার প্রতিটি খণ্ডের শুরুতে বলেছেন, "ব্রহ্মা মুনিদের বলতে আরম্ভ করলেন,  "সৃষ্টি-বর্ণনাপ্রসঙ্গে রোমহর্ষণ বলে চললেন---" , কিংবা,  " সোমের বংশ-পরম্পরা বর্ণনা প্রসঙ্গে রোমহর্ষণ বলে চললেন  ---" ইত্যাদি  আকারে।

যেহেতু এই ধরনের ঐশ্বরিক ধর্মপুস্তকগুলি তৎকালীন বিদ্যা-বুদ্ধি ও চালু ধারার অনুযায়ী লিখিত, এবং তা পরম্পরা অনুযায়ী বংশানুক্রমিক প্রজন্মের দ্বারা লিখিত,  তাই, ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী যে কোনো পর্ব, বা অধ্যায় বা সুরা লিখবার আগে এইরকম ঈশ্বরের নাম অথবা তাঁদের প্রসঙ্গে টেনে এনেই শুরু করা হতো।

 

যাই হোক, এখন আসল কথায় আসি।

মথির সুসমাচারে প্রথম ভাগে বর্ণিত হয়েছে মুখবন্ধ: যা বংশলতিকা (বা ' জেনেসিস ' ) , যিশুর জন্ম ও শৈশব দিয়েই।

ওল্ড টেস্টামেন্টর বা পুরাতন নিয়মে মার্ক-ও বংশলতিকা দিয়েই বাইবেলের শুভ সূচনা করেছিলেন। 

 

এই বংশলতিকার বর্ণনা হিসেবে, যীশু আব্রাহাম ও রাজা ডেভিডের বংশধর।  ঘটনাচক্রে, জোসেফের অস্তিত্ব আলোচিত হয়, এবং প্রাসঙ্গিক ভাবেই মেরির কথাও এই ভাগে বর্ণিত হয়। কুমারী মেরির গর্ভে যীশুর জন্ম-বৃত্তান্ত,  যীশুর জন্মের আগের নানা অলৌকিক কাহিনী এবং তৎকালীন সমাজের নানা ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া, রাজা হেরোদের শিশুপুত্র হত্যার কথা, আপন সন্তান যীশুকে রক্ষা করতে ঈশ্বরের  আদেশে জোসেফ ও মেরির  মিশরে পালিয়ে যাওয়া,  এবং পরে নাজারেথের মাটিতে ফিরে আসা -র কথা সব বর্ণিত হয়েছে এই মুখবেন্ধ।

 

প্রথম উপাখ্যান:

 

মথির লিখিত সুসমাচারে, প্রথম উপাখ্যানে যীশুর দীক্ষা ও যীশুর শৈলোপদেশ আলোচিত হয়েছে।

 

এই ভাগ বা উপাখ্যানে মূল আলোচ্য বিষয় হলো জন নামক এক সন্ত জন যীশুকে দীক্ষিত করেন; এর  প্রাবল্যের কারণে পবিত্র আত্মা বা মহান ঈশ্বর যীশুর আত্মার উপর আরোপিত হন। যীশুর শরীর ও মনের অদ্ভুত এক পরিবর্তন আসে এবং সেই পবিত্র আত্মার নির্দেশে, ঊষর প্রান্তরে দীর্ঘ চল্লিশ দিন তিনি প্রার্থনা ও ধ্যান করেন।

 

এই সময়, শয়তান, যে ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী, এসে যীশুর সব পূণ্য ধ্যান-ধারণা-কে নষ্ট করে দিতে চাইল। সৎ, সত্য এবং ধর্ম পথের পথিক ঈশ্বরের পূণ্য শক্তিতে শক্তিমান যীশু শয়তানকে তাঁর শাণিত বুদ্ধি ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ত্ব দ্বারা পরাজিত করলেন এবং ধর্মের শীর্ষে উন্নীত হলেন।

 

গালিল-এ উপস্থিত হয়ে তিনি ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতে শুরু করলেন।  প্রাসঙ্গিকভাবেই মানসিক অস্বচ্ছতার কারণে অনেকেই তাঁর বাণী গ্রহণ করতে সম্মত না হলে,  যীশুকে কিছু অলৌকিক কর্ম করতে হয়েছিল।  ক্রমে তাঁর প্রথম শিষ্যমন্ডলী গড়ে উঠলো, এবং তাদের কাছেই ঐ পর্বত-শিখরে প্রথম ঈশ্বরের বাণী প্রচার করলেন। এই ঘটনাকেই "যীশুর শৈলোপদেশ" বলে পরিচিত হয়।

 

এই উপদেশেই যীশু স্বর্গরাজ্যের নীতিগুলি বললেন  ---- যেগুলি শুরু হয়েছিল " ধন্য তারা ... " এই সব শব্দ-বন্ধের দ্বারা।

এই উপদেশ-দানের পর, তিনি উপস্থিত তাঁর ভক্তজন ও শ্রোতৃমন্ডলীকে জানান যে, ঈশ্বর প্রতিটি মানব-সন্তানকে এই স্বর্গ-রাজ্য গঠনের জন্য আহ্বান প্রতিনিয়ত করে চলেছেন; আর এই ডাকে সাড়া দেওয়ার ফল চিরন্তন।

 

এতদিন ধরে, এভাবে কোনো মানুষ যীশুর মতো বাণী শোনেনি, খুব স্বাভাবিক ভাবেই তারা যীশুর এই বাণীতে বিমোহিত হল। আর এখানেই প্রথম উপাখ্যান সমাপ্ত হয়েছে।

 

  (ক্রমশঃ)

ads

Mailing List