প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / সপ্তম পর্ব

প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / সপ্তম পর্ব
24 Dec 2021, 11:15 PM

প্রেমময় যীশুখৃষ্ট, 'মসিহ' ঈশা / সপ্তম পর্ব

(এক তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ধর্মীয় কাহিনী)

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

 

 

        "পাপের শাস্তি হল

       মৃত্যু,  এবং প্রভু

       যীশুর মধ্যে দিয়ে

       ঈশ্বরের শ্বাশ্বত

       উপহার  হল জীবন। "

                         রোম -- 6:23

 

প্রভু যীশুর  জীবনের  অমিয় কাহিনী :---

************

 

আমরা ভুলে যাই,  আমাদের অহঙ্কারের মত্ততায় --- হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে---- মাতৃজঠরের সেই মল-মুত্র-পূতিগন্ধময় শরীরের রক্ত-স্রাবময় পরিবেশে থাকবার পর, যেইমাত্র মায়ের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পার্থিব জগতের আলো দেখলাম,  অমনি ভুলে গেলাম আমাদের মাতৃগর্ভে থাকাকালীন ঈশ্বরকে দেওয়া কথা।

 

ঈশ্বরকে,  জগদীশ্বরের কাছে কি এমন কথা আমরা দিয়ে থাকি,  যা আমরা এই মরলোকের মাটিতে আসার সাথে সাথেই ভুলে যাই,  রঙিন রঙের স্বপ্নে বিভোর হয়ে???

 

উত্তরে বলা যায়: আমরা যখন আর থাকতে পারি না মাতৃজঠরের ওই ছোট্ট ঘেরাটোপের মধ্যে,  তখন আমরা ঈশ্বরকে বলি, " হে প্রভু,  হে আল্লাহ্,  হে  শ্রীভগবান জনার্দন,  হে বুদ্ধমহাজ্ঞাণী! তুমি আমাকে এই পূতিগন্ধময় নোংরা পরিবেশ থেকে তোমার সৃষ্টির আলো দেখাও। আর এই সংক্ষিপ্ত পরিবেশে থাকতে পারছি না। আমাকে উদ্ধার করো প্রভু। "

 

মধুর হেসে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তখন বলেন,  " তুমি এখন এখানে আমার সাথে এখনও শুভ-সত্ত্বায় যুক্ত  হয়ে আছো। আমি আমার সদিচ্ছায়ে তোমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছি। তুমি ওখানে গেলে,  আমাকে ভুলে যাবে না তো? আমার দেওয়া পবিত্র কর্ম-ই করবে তো ? "

 

আমরা তখন তো হাঁপিয়ে উঠেছি। সেই পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি । আমরা তখন বলি, " না না প্রভু।  তোমার নাম-ই করব পৃথিবীতে গিয়ে; তোমার দেওয়া কর্মই আমার সার হবে।  আমি কখনোই ভুলবো না সে কথা। "

 

ঈশ্বর যথাসময়ে পৃথিবীতে নিয়ে আসেন আমাদের।  আমরা ওই রঙিন আলোর যোয়াড়ে ভেসে যাই। ভুলে যাই, ঈশ্বরকে দেওয়া কথা।  পার্থিব জগতের রুপ-রস-গন্ধ আমাদের ধীরে ধীরে ঈশ্বরকে দেওয়া কথা  সব  ভুলিয়ে দেয়। 

 

হে ঈশ্বর, আমরা তখন "তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি " ।

তিনি কিন্তু, আমাদের ভোলেন না। আমরা যেহেতু স্বাভিমানে নিজেরাই স্বাবলম্বী... তাই,  অন্তরের অন্তঃস্থিত গহনে তাঁর বলা কথা আমরা বুঝতে পারি না। অথচ, তিনি কিন্তু,  অন্তর থেকে,  হব কথাই আমাদের জানিয়ে দেন।

একের পর এক ভুল কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে পাপের পথে অগ্রসর হতে থাকি।

 

আর ঠিক এই কারণেই প্রভু যীশু বলেছিলেন, " তাই আমি তোমাদের বলি যে, তোমরা পাপের ফলে মৃত্যু লাভ করবে; যদি তোমরা বিশ্বাস না কর  যে আমিই তিনি,  তবে,  তোমাদের মৃত্যু নিশ্চিত।  " ( জন : 8:24 )

 

আর এই কথাগুলোই একটু ঘুরিয়ে বলেছিলেন যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ,  তাঁর কথামৃতে---। তিনি কি বললেন?

তিনি বললেন, " তোমরা কেনে পাপী হতে যাবে গা? তোমরা যে সবাই মায়ের সন্তান।  যে নিজেকে সব সময় ' পাপী পাপী ' বলে ভাবে,  সেই-ই বাপু পড়ে যায়। 

তোমরা মায়ের নাম করে বলো গা সবাই,  'আমি মায়ের  নাম করি, আমি কেন পাপী হতে যাব? আমি যে তাঁর ছেলে। "

 

ঠিক কথা। হক্ কথা।

বীরদর্পে মনের জোরে বলতে হবে, আমি কেন পাপ করব? আমি তো অমৃতের সন্তান।  নিজেকে পাপী ভেবে নিরানন্দে থাকব কেন?

" মা যার আনন্দময়ী, সে কি কখনও নিরানন্দে থাকতে পারে?"

 

আর এই কারণেই,  সবাইকে--- মানব জাতিকে --- আনন্দে থাকার জন্য,  ঈশ্বর পাঠিয়ে দিলেন তাঁর পুত্র যীশুকে, মেরির কাছে।

 

পবিত্র মাতা মেরির ( ইসলাম মতে : মরিয়ম ) গর্ভে ভ্রূণের আকারে সংক্রামিত করলেন এক মানব শিশু--- ভাবীকালের যীশুকে। 

কুমারী তখন মেরি, ঘটনার আকস্মিকতায় সচকিত হলেন; একি! স্বাভাবিক মহাজাগতিক নিয়মে নর-নারীর মিলনের ফলেই তো ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। কই, আমার তো এযাবৎ কোনো পুরুষের দৈহিক সংসর্গে আসা হয় নি! তবে--- এহেন পরিস্থিতির উদ্ভব হলো কিভাবে? আমি কেন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে উঠলাম!!!

একি আমার কোনো পাপের ফল, নাকি শয়তানের কারসাজি এটা!!!

 

খুবই স্বাভাবিক। সমাজে কুমারী মহিলার গর্ভে ভ্রূণের সন্চার হওয়াটা তো আর ভোজবাজির খেলায় হওয়া সম্ভব নয়, যদি না পুরুষের সংস্রব না থাকে! এই ভাবনা দিবারাত্র তাকে কুড়ে কুড়ে খেতে লাগল। 

আধার যদি পবিত্র হয়, তবে এই বোধটাই আসা স্বাভাবিক।

 

একদিন রাতে এক জোতির্ময় পুরুষ স্বপ্নে দর্শন দিলেন মেরিকে ( বা মরিয়মকে) :

তিনি বললেন,  " তুমি আমাকে দেখে ভীত হয়ো না। বরং যা বলব, তা শোনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।

তুমি পবিত্র রমনী। তোমার গর্ভে ঈশ্বরের পবিত্র আত্মার মনোবাসনায় পুত্র হিসেবে  সমাহিত হয়েছেন। তুমি তাকে সস্নেহে ও পরম যত্নে পালন করো। যোসেফ তোমাকে অবিলম্বে বিবাহ করে, ঈশ্বরের এই সন্তানকে নিজ সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তোমার কুমারী মাতৃত্বকে সম্মান জানাবেন। 

তুমি মহা ভাগ্যবতী,  যে, ঈশ্বর তোমাকে করুণা করেছেন। এবং, তুমি তাঁর পরবর্তী আদেশের অপেক্ষা করো। "

 

ঈশ্বর, যিনি এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন তিন দিনে, তিনি তাঁর পুত্রের জন্মের ব্যবস্থা করবেন না, তা কি হয় ?

আসলে, এই যোসেফ ছিলেন তৎকালীন রাজা ডেভিডের বংশধর। এবং এই মেরির সাথেই তার বিবাহ পূর্ব থেকেই স্থির হয়েছিল।

 

এবার ঈশ্বর,  তাঁর দূতকে পাঠালেন যোসেফর কাছে। 

সব খবর শুনে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার বাগদত্তা অন্তঃসত্ত্বা জেনে তাকে বিবাহ করতে রাজি হলেন না। পরে,  যখন সেই দূত কতৃক জানলেন, ঐ সন্তানের  পিতা  স্বয়ং ঈশ্বর নিজে, এবং এই সব কার্য তিনিই সংঘটিত করে রেখেছেন জগতের কল্যাণের কারণেই।

 

অবশেষে, সেই স্বর্গরাজ্যের দূত বললেন, " যোসেফ, মেরিকে বিবাহ করে তাকে স্ত্রী-রূপে গ্রহণ কর।  ওই গর্ভস্থ শিশুটির নামকরণ করো 'যীশু'(যীহোবা,  বা সদাপ্রভু উদ্ধার করেন) , কেননা,  তিনিই লোকেদের পাপ থেকে উদ্ধার দিবেন। "

 

যথাসময়ে যোষেফ ও মেরির বিবাহ সংঘটিত হলো; এবং যতদিন না পৃথিবীতে আবির্ভূত হন, ততদিন পবিত্র মাতা মেরি বা মরিয়মকে স্পর্শ পর্যন্ত করলেন না। শুদ্ধ আত্মা পৃথিবীতে আসুন--- শুদ্ধতার মধ্য দিয়ে  --- এটাই হয়তো যোষেফের অভিপ্রায় ছিল।

 

এরই মধ্যে,  যীশুর জন্মের সময় যখন এগিয়ে এলো, তখন কাকতালীয় ভাবেই, রোমান সাম্রাজ্য তাদের দেশের অধিবাসীদের নিজ নিজ পূর্বপুরুষের এলাকায় যেতে আদেশ করলেন। কাজেই, জোসেফ  আর মেরি তাদের তৎকালীন বাসস্থান নাসরৎ থেকে বৈৎলেহেমে গমন করার কথা ভাবলেন; বহু দূরের পথ, তাই  --- মেরিকে নিয়ে রওনা দিলেন বৈৎলেহেমের উদ্দেশ্যে .......... ।

 (ক্রমশঃ)

ads

Mailing List