কম সময়েও অনেক ভালো জায়গা ঘোরা যায়! কিভাবে? জানাচ্ছেন ডঃ গৌতম সরকার, ছোটো ভ্রমণ ভালো ভ্রমণ: পঞ্চম পর্ব

কম সময়েও অনেক ভালো জায়গা ঘোরা যায়! কিভাবে? জানাচ্ছেন ডঃ গৌতম সরকার, ছোটো ভ্রমণ ভালো ভ্রমণ: পঞ্চম পর্ব
26 Sep 2021, 02:44 PM

কম সময়েও অনেক ভালো জায়গা ঘোরা যায়! কিভাবে? জানাচ্ছেন ডঃ গৌতম সরকার, ছোটো ভ্রমণ ভালো ভ্রমণ: পঞ্চম পর্ব

 

ড. গৌতম সরকার

 

আমরা যারা এই প্রজন্মের বাবা-মা তাদের কিন্তু ভ্রমণটা অভ্যাসে পরিণত হওয়াটা খুব জরুরী৷  কথাটা কেন বললাম বলছি-- দেখুন আমাদের বেশিরভাগেরই একটি মাত্র সন্তান; দুটি সন্তানের সাহসী বাবা-মাকে আজকাল মাইক্রোস্কোপের নিচে ফেলে খুঁজতে হবে৷ আমরা আমাদের সাধ্য, সাধনা আর বিশ্বাস দিয়ে আমাদের সন্তানকে বড় করে তুলি, তাকে এই কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ জগতে পায়ের নিচে শক্ত মাটি পাইয়ে দেওয়ার জন্যে জীবনপাত করি৷ এরপর স্বাভাবিক নিয়মে তারা বড় হয় আর জীবনের ইঁদুর দৌড়ে নিজেদের অজান্তেই সামিল হয়ে যায়, তারপর হঠাৎ করে একদিন বাড়ি ছেড়ে, বাবা-মা ছেড়ে এক বৃহত্তর জগতের সন্ধানে পাড়ি দিতে হয়৷ তখন আমরা অকস্মাৎ বড় একলা হয়ে পড়ি৷

  

একটা শিশু জন্মানোর পর হঠাৎ করে গোটা পরিবারে এক শুভক্ষনের কাঁসর-ঘন্টা বেজে ওঠে৷ তারপর সে আস্তে আস্তে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে যখন সারা ঘরদুয়ার ঘুরে বেড়ায় তখন যেন মনে হয় ওস্তাদ আলি আকবর খানের সেতারের সাথে পণ্ডিত আল্লারাখার তবলার যুগলবন্দী তৈরি হচ্ছে সারা বাড়ি জুড়ে৷ সত্যি বাড়িতে একটা শিশু থাকলে বাড়িটা বাড়ির চেয়ে অনেক বেশি মন্দির হয়ে ওঠে৷ সেই শিশু বড় হতে হতে হঠাৎ করে এতটাই বড় হয়ে যায় যখন আপনার ছোটো ঘর তাকে আর আটকে রাখতে পারেনা৷ সন্তান পড়াশোনা বা চাকরির প্রয়োজনে ঘর ছাড়ার পর সহসা আপনারা দুজনে টের পাবেন ঘরের চারটে দেওয়াল যেন পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে পরিসরকে অত্যন্ত ছোটো করে আপনাদের দমবন্ধ করে তুলছে৷ আপনার এতদিনকার 'হোম, হোম, সুইট হোম' তার রুপ বদলে এক নিষ্প্রাণ পাষাণপুরীতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে৷ এই সময়গুলোতে ভ্রমণ আপনাকে বাঁচতে শেখাবে; বাস্তবকে মেনে নিতে প্রেরণা দেবে, আপনার কানে কানে বলবে -'জীবনের আরও কিছু সজীব সবুজ মুহূর্ত তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে, তুমি তার বাহুডোরে ধরা দেবে না!'

       

আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বলি যাঁরা মাঝে মাঝে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা কিন্তু শারীরিক আর মানসিক ভাবে অনেক সুস্থ থাকেন৷ আমরা যারা বেরোতে পছন্দ করিনা, চেনা-জানা গন্ডির বাইরে কমফোর্টেবল হতে পারিনা তাদেরই সকাল-সন্ধ্যা সারাক্ষন কাটে শরীরের তদ্বির করতে করতে৷  বয়সে ব্যাধিটি শরীরের সাথে সাথে অনেকটা মানসিক এটা স্বীকার না করার কোনো কারণ নেই৷  আমি অনেক বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকে দেখেছি, চাকরি থেকে অবসর নেবার পর যারা জীবনের সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছেন৷ দুনিয়া দেখায় তাঁদের কোনো ক্লান্তি নেই, পারলে বছরে বারো বার বেরোতে পারলে তাদের ভালো হয়৷ এগুলো দেখে আমরা, সরকারি চাকরেরা গুমরে গুমরে মরি৷  শুধু তাই নয় কেউ কেউ কাটা ঘায়ের ওপর নুনের ছিটে দিতেও কার্পণ্য করেন না; আমার একজন পরিচিত এই দমফাটা গরমে গ্যাংটক থেকে ফেসবুকে স্টেটাস আপলোড করেছেন, “আচ্ছা গরম টা কি? কেমন দেখতে? ওটা দিয়ে কি হয় - খায় না মাথায় মাখে!” আমি ওনার রসিকতায় মুগ্ধ, উনি এবং ওনার মতো অনেকেই আমাদের প্রতি মুহূর্তে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন - বেঁচে থাকাটা প্রতি মুহূর্তে কিভাবে উপভোগ করতে হয় আর এই ভোগ আর আনন্দ সত্যিই কোনো বয়স মানেনা৷

 

Everyday is a journey, and the journey itself is home

 

  1. তপ্তপানি: গোপালপুর থেকে দারিংবারি যাবার পথে ৫০-৫৫ কিলোমিটার দূরে ১৭৭০ ফুট উচ্চতায় পূর্বঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত তপ্তপানি৷ এখানে একটা উষ্ণ প্রস্রবণ আছে৷ লোক বিশ্বাস গন্ধক মিশ্রিত এই জল চর্মরোগ প্রশমনের সহায়ক৷ সবুজ প্রেক্ষাপটে বাদামি রঙের ছোটো ছোটো টিলা যেন পিকচার পোস্টকার্ড; এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় হরভঙ্গি, ফুলবনি, আর চন্দ্রগিরি৷

থাকবেন: সরকারি পান্থনিবাস - ০৬৮১৬-২৫৫০৩১

 

 

To travel is to take a journey into yourself

 

  1. মংলাজোরি: চিল্কা লেকের উত্তরপ্রান্তে অবস্থিত পাখিদের এক নিজস্ব ঠিকানা হল মংলাজোরি৷ আপনার সাথে আশপাশের গাছগাছালিকে সঙ্গে নিয়ে লুকোচুরি খেলে যাবে হুইসকার্ড টার্ন, ব্ল্যাক টেইলড গডউইট, ব্রোঞ্জ উইঙ্গড জাকানা, ওরিয়েন্টাল প্র্যাটিনকোল, কটন টিল, শামুকখোল, শোভেলার, ফেজেণ্ট টেইলড জাকানা এছাড়া আরও অনেক পাখি৷ পাখিদের এই কর্মযজ্ঞে আপনি একজন তথাকথিত পক্ষীপ্রেমিক না হলেও ভালো লাগবে৷ সারা এলাকা জুড়ে এই হ্রদ আর ওই হ্রদই হল পাখিদের ঘরবাড়ি৷ এর সাথে আপনার উপরি পাওনা সারা হ্রদ জুড়ে ফুটে ওঠা নানা রংয়ের শালুক ফুল আর পূর্বঘাট পর্বতমালার চিত্রকল্পদ্রুম৷

থাকবেন: ওড়িশা ইকো ট্যুরিজম – ০৮৪৫৫০-৭৫৫৮৪

 

 

 

The real voyage of discovery consists not in seeking new landscapes, but in having new eyes

 

  1. ভেটনাই: পূর্বঘাট পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ভেটনাই লালমাটির সবুজ গ্রাম৷ এই অঞ্চলটি বিখ্যাত কৃষ্ণসার হরিণের জন্য৷ এখানকার মানুষ আর হরিণ পাশাপাশি বাস করে, কেউ কারোর জীবনচক্রে কোনোরকম অসুবিধা সৃষ্টি করে না৷ এ এক অদ্ভূত সহাবস্থান, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত৷

থাকবেন: ভেটনাইয়ে কোনো থাকার জায়গা নেই, আট কিমি দূরে আসকাতে থাকার জন্য আছে - সুইট হোম আর কৃষ্ণাণ লজ: যোগাযোগ - অমূল্য উপাধ্যায়

০৯৯৩৮০-১৬৬৬১

 

The journey of a thousand miles begins with a single step -- Lao Tzu

 

  1. পঞ্চলিঙ্গেশ্বর: কোলকাতা থেকে তিন ঘণ্টার রেলপথে বালাসোর; সেখান থেকে তিরিশ কিলোমিটার সড়ক পথে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর ওড়িশার এক বিখ্যাত শৈব তীর্থ৷ পাহাড়ের পাথুরে খাঁজ দিয়ে বয়ে আসা ঝর্ণার নিচে একটা ছোটো গর্ত৷ জলে ভরা সেই গর্তে রয়েছে পাঁচটি ছোটো ছোটো শিবলিঙ্গ৷ পাহাড়, জঙ্গল, পাখি, আর বুনো ফুলে ভরা এই অঞ্চলে একটা রাত্রি যাপন স্মরণীয় হয়ে থাকবে৷

 

থাকবেন: ওড়িশা পর্যটনের পান্থনিবাস

০৬৭৮২-২১১৯৫৯

 

 I see my path, but I don't know where it leads. Not knowing where I'm going is what inspires me to travel it.

                             ………….xxxxxxx…………

(ক্রমশঃ….)

ads

Mailing List