ভারতবর্ষের নাম না শোনা লবটুলিয়ার ভানুমতী আর আজকের দ্রৌপদী মুর্মু -একটি উত্তরণের গল্প

ভারতবর্ষের নাম না শোনা লবটুলিয়ার ভানুমতী আর আজকের দ্রৌপদী মুর্মু -একটি উত্তরণের গল্প
09 Aug 2022, 01:45 PM

ভারতবর্ষের নাম না শোনা লবটুলিয়ার ভানুমতী আর আজকের দ্রৌপদী মুর্মু -একটি উত্তরণের গল্প

 

 

. গৌতম সরকার

 

ভানুমতী, কখনো কোনো শহর দেখেছ?

--না বাবুজী।

---দু-একটা শহরের নাম বল তো?

--- গয়া, মুঙ্গের, পাটনা।

-- কোন দিকে জান?

--- কি জানি বাবুজী!

---আমরা যে দেশে বাস করি তার নাম জানো?

---আমরা গয়া জেলায় বাস করি।

---ভারতবর্ষের নাম শুনেছ?

ভানুমতী ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, সে শোনে নাই। কখনও কোথাও যায় নাই চকমকিটোলা ছাড়াইয়া। ভারতবর্ষ কোনদিকে?

(আরণ্যক, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)।

    

লবটুলিয়ার রাজকন্যা কখনও ভারতবর্ষের নাম শোনেনি, কলকাতার নাম শোনেনি, কলকাতা কেন গয়া, মুঙ্গের, পাটনার বাইরের পৃথিবী সম্বন্ধে কোনওপ্রকার ধারণা নেই। ঊনবিংশ শতাব্দীর ভানুমতীর দৈনন্দিন ঘেরাটোপে চকমকিটোলার বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে ওঠেনি। আর আজ একবিংশ শতাব্দীর ভানুমতী বহু বন্ধুর পথ হেঁটে দোবরু পান্নার বীরবর্দীর অরণ্যবাস থেকে রাইসিনা হিলসে পৌঁছে গেছেন। আজকের রাজকন্যা মাননীয়া শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু, ভারতবর্ষের পঞ্চদশতম রাষ্ট্রপতি।

    

চৌষট্টি বছরের দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম আদিবাসী এবং দ্বিতীয় মহিলা যিনি ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রথম নাগরিক নির্বাচিত হলেন। শৈশব থেকেই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের যোগ্যতায় সর্বদা সামনের সারিতে অবস্থান করেছেন। তাঁর জন্ম ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত উপরবেদা গ্রামের এক সাঁওতাল পরিবারে। গ্রামে তিনিই প্রথম সাঁওতাল মেয়ে যিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভুবনেশ্বরের রামাদেবী মহিলা কলেজে স্নাতক কোর্সে ভর্তি হন। স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর ওড়িশা সরকারের সেচ ও বিদ্যুৎ বিভাগে জুনিয়র সহকারী আধিকারিক পদে যোগ দেন দ্রৌপদী মুর্মু। পরবর্তী সময়ে ময়ূরভঞ্জ জেলার রায়রাংপুরের 'শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন সেন্টার'-এ কয়েক বছর শিক্ষকতাও করেন।

'স্ট্রাগল' শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হল 'সংগ্রাম', কিন্তু এইসব শব্দ উচ্চারণে আসল জীবনযন্ত্রনা আর জীবন সংগ্রামের কতটুকুই বা প্রতিভাত হয়! বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সংরক্ষণ নিয়ে বহু লেখালিখি হয়, সেখানে আক্রোশ, ক্রোধ, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের প্রকাশ ঘটে। তবে মেট্রো সিটিতে নাগরিক জীবনের ঘেরাটোপের মধ্যে বসে এধরণের আলোচনা-সমালোচনা, মন্তব্য বালখিল্যতা ছাড়া আর কিছুর মর্যাদা পায় না। একটা না পাওয়ার জগতে জন্মগ্রহণ করে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটানোর নিরন্তর সংগ্রামের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদনের চাহিদাগুলো হাস্যকর হয়ে ওঠে। পাঁচ-পাঁচ দশমাইল কাঁচা রাস্তা হেঁটে যখন মাধ্যমিক শিক্ষা নিতে হয়, গ্রীষ্মে ধুলোর ঝড় আর বর্ষায় কাদার পাহাড় ঠেলে একেকটা ক্লাসে উঠতে হয়, উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে গেলে বিশ মাইল দূরের স্কুলের হোস্টেল, নয়তো দূর সম্পর্কের আত্মীয় বাড়ির কারুণ্য ভিক্ষা করতে হয়, তখন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে অন্য ভুবনের প্রতিভূ বলে মনে হয়। সংখ্যাতত্ত্বের হিসেব কি বলছে? একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন তো এই পিছিয়ে পড়া বাচ্চাদের কত শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেড়া টপকে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। আর জেদ, অধ্যবসায় আর প্রতিকূলতাকে জয় করে যে কজন উচ্চশিক্ষায় আসতে পারেন তাদের শতাংশের হিসেবে আনলে কি দাঁড়ায়! তাই একজন তফসিলি জাতি বা উপজাতির ছেলে বা মেয়ে যখন সরকারি চাকরি পায় তখন সে তার নিজের যোগ্যতাতেই পায়, যোগ্যতার প্রশ্নে হয়তো একজন অসংরক্ষিত প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থাকবে৷ তাই ব্যঙ্গ, উপহাস বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে হলে সেটা দেশের সরকারের বিরুদ্ধে করা ভালো, এই মানুষগুলোর ওপর নয়।

   

ইদানিং একটা পোস্ট চোখে পড়ছে, ভারতীয় সংবিধানের জনক বাবা আম্বেডকর নাকি বলে গিয়েছেন, "যখন দেশের রাষ্ট্রপতি একজন পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষ হবে তখন সংরক্ষণ প্রথাটাই উঠিয়ে দেওয়া উচিত।" প্রশ্ন হল, তাহলে আমরা কি আম্বেদকরের নির্দেশ পালন করতে উঠে পড়ে লাগবো। আসলে সমস্যাটার মূল নিহিত আছে বহু গভীরে। দেশ স্বাধীন হয়েছে পঁচাত্তর বছর, দেশের জিডিপি বেশ কয়েকগুণ বেড়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়নি বললে মিথ্যাচার হবে, কিন্তু তার সাথে বেড়েছে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অনিশ্চিত বাজার ব্যবস্থা, সরকারের প্রতি ভরসাহীনতা, আর সবার উপরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যা জনবিস্ফোরণ বা জনবিপ্লব নামে অভিহিত করা যায়। ফলস্বরূপ, সরকারের দেয় পরিষেবাকে যদি মাথা পিছুর অঙ্কে ধরা হয় সেটা কিন্তু মোটেই বাড়েনি। আর সমস্যাটা লুকিয়ে আছে এখানেই। লক্ষ লক্ষ অসংরক্ষিত বেকারের দুনিয়ার দু-চারজন চাকরি পাচ্ছে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা মিমের শিকার হচ্ছে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য উপহাসের পাত্রে পরিণত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মাননীয়া দ্রৌপদী মুর্মুও সেই হেনস্থা থেকে রক্ষা পাননি। দিল্লির সরকার তাঁর নাম প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী পক্ষ থেকে তাঁকে 'রাবার স্ট্যাম্প' বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    

দ্রৌপদী মুর্মুর জন্ম ১৯৫৮ সালের ২০ জুন। ময়ূরভঞ্জ জেলার রায়রাংপুর থেকে কুড়ি কিলোমিটার ভিতরে ভাঙাচোরা জঙ্গুলে রাস্তা পেরিয়ে উপরবেড়া গ্রাম, দ্রৌপদী মুর্মুর জন্মভিটে। মাটির দেওয়াল, খড়ের চাল, খাপড়ার বেড়া। গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ সময়ই কানেকশন থাকে না। এই গ্রামের প্রাথমিক স্কুলেই তাঁর শিক্ষা শুরু। আজকের প্রেসিডেন্ট শৈশব থেকেই একদিকে দেখেছেন পাহাড়সম দারিদ্র্য, অন্যদিকে পদে পদে অস্পৃশ্যতা, উপেক্ষা এবং বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। আশপাশের মানুষদের অর্ধ-মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রনা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই কারণেই গ্রামের স্কুলের শিক্ষক যখন ক্লাসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বড় হয়ে কে কি হতে চায়, তখন সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, উকিল, হাকিমের কথা বললেও দ্রৌপদী বলেছিলেন তিনি বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে চান। আর সেই স্বপ্ন সফল করার দায়িত্ব স্বীকার করেই তাঁর রাজনৈতিক দুনিয়ায় পদার্পন। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয় ১৯৯৭ সালে রায়রাংপুরের পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ২০০০ এবং ২০০৯ সালে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করে ওড়িশা বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। বিজু জনতা ও বিজেপি জোট সরকারের আমলে তিনি প্রথমে বাণিজ্য ও পরিবহন মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, পরবর্তী সময়ে মৎস্য এবং প্রাণীসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী হন। পরিবহন মন্ত্রী থাকার সময় তিনি রাজ্যের ৫৮টি মহুকুমায় পরিবহন অফিস স্থাপন করার রেকর্ড স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৬-০৯ পর্যন্ত বিজেপি রাজ্য স্তরে তপসিলি সম্প্রদায়ের সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে ময়ূরভঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু বিজেডি আর বিজেপি-র বিচ্ছিন্নতার কারণে হেরে যান।

 

২০১৫ সালে তিনি ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজ্যপাল পদে অভিষিক্ত হন। এরপর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসেন৷ ২০১৬ সালে রাজ্যপাল থাকাকালীন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের নেতৃত্বে দুটি শতাব্দী প্রাচীন ভূমি আইনের ( ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ত্ব আইন ও সাঁওতাল পরগনা প্রজাস্বত্ত্ব আইন) সংশোধন বিল পাস করেন। এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের প্রয়োজনে জমি হস্তান্তর সহজ ও সুনিশ্চিত করা। কিন্তু রাজ্যপালের নিজ সম্প্রদায়ের মানুষেরাই এই সংশোধনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁদের আশঙ্কা ছিল এই আইন জমির উপর তাঁদের অধিকার ও দখল খর্ব করবে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের জুন মাসে শ্রীমতী মুর্মু বিলগুলো ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে তিনি সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষদের বোঝাতে যে এই সংশোধনগুলো সুদূর ভবিষ্যতে আদিবাসীদের স্বার্থই সংরক্ষণ করতো। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশ করা বিল দস্তখত করতে অস্বীকার করে তিনি অন্যথায় প্রশংসিত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ঝাড়খণ্ডের গভর্নর হিসেবে কাজ করেছেন দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর কার্যকালে সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। তাঁর কার্যালয় সমস্ত পেশা ও শ্রেণীর মানুষের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকত।

  

একজন আদিবাসী নেত্রী হিসেবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু সমাজের পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের অনুপ্রেরণা। কর্মজীবনে আদিবাসী মানুষগুলোর সমস্যা নিয়ে সতত সরব ছিলেন। তপসিলিভুক্ত সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং পরিষেবা এবং সামাজিক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য তাঁর নিরলস সংগ্রাম বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। শুধু আর্থিক সচ্ছলতার দায়ভার নয়, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতির সঠিক সংরক্ষরণের জন্য সরকারের উপর সর্বতোভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন।

এই সংগ্রামী মানুষটির ব্যক্তিগত জীবনে আঘাতের কথা শুনলে স্তম্ভিত হতে হয়। কলেজে পড়ার সময় পরিচয় হয় শ্যামচরণ মুর্মুর সাথে। সময়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, অবশেষে এনাকেই জীবনসঙ্গী নির্বাচিত করেন। তাঁদের তিন সন্তান- দুই পুত্র এক কন্যা। ২০০৯ সালে বড় ছেলে মারা যান। সন্তানহারা মা যোগাভ্যাসের মধ্যে দিয়ে শোক ভুলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ২০১৩ সালে আকস্মিক ভাবে ছোট ছেলের মৃত্যু ঘটে, ঠিক তার একমাসের মধ্যে দ্রৌপদীজী তাঁর মা আর ছোটভাইকে হারান। তাঁর ব্যক্তিজীবনে কফিনে শেষপেরেক পোঁতা হল যখন ২০১৪ সালে তিনি স্বামী শ্যামচরণকেও হারালেন। কয়েক বছরের মধ্যে একান্ত কাছের পাঁচজনকে হারিয়ে তিনি নিজেকে পুরোপুরি আধ্যাত্মিকতায় নিবিষ্ট করেন।

 

তবে ব্যক্তিগত ক্ষতি তাঁকে জীবনের লক্ষ্য 'মানুষের সেবা' থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল কলকাতার 'ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর কালচারাল রিসার্চ'-এর প্রেক্ষাগৃহে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের সাঁওতালি ভাষায় জীবনীগ্রন্থ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘বাবাসাহেব না থাকলে এভাবে এই অনুষ্ঠানে আমার আসার সৌভাগ্য হত না। তখন হয় জঙ্গলে কাঠ কাটতাম, নয়তো রাস্তা তৈরির কামিন হিসেবে কাজ করতাম’৷ বাবাসাহেবের কাজ, তাঁর অবদান যাতে পিছিয়ে পড়া সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছয় তাই তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বইটি 'অলচিকি' ভাষায় অনুবাদ করতে অনুরোধ করেছিলেন। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণে মাননীয়া দ্রৌপদীজী শপথ করেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যে ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেইরকম ভারতবর্ষ গঠনে সর্বতোভাবে চেষ্টা করবেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে স্বাধীনতা লাভের ৭৫ বছরে দেশকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণ করেছি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে’৷

 

কদিন পরেই দেশের স্বাধীনতা লাভের ৭৫ বছরের উদযাপনে আমরা সবাই আনন্দে মেতে উঠবো। সেই আনন্দের ঔজ্জ্যলতায় সমাজের অন্ধকার দিকটা বরাবরের মত উপেক্ষিতই থেকে যাবে। একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি নির্ভর জেটগতির দুনিয়াতেও মানুষকে জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা আর বিচ্ছিন্নতার অপমান ও কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে৷ আর সেই অপমান, যন্ত্রনা, সর্বোপরি সমুদ্রসম দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে পথ চলে যারা সমাজের তথাকথিত মূলধারার যোগ্য দাবিদার হয়ে ওঠে তখন তাদের আরেক প্রস্থ অপমান, তাচ্ছিল্য এবং মিমের শিকার হতে হয়। দ্রৌপদী মুর্মু দেখিয়ে দিলেন অনেক অপমান, উপেক্ষা, বঞ্চনা, জীবনযন্ত্রনা পেরিয়ে মনের জোর আর মানুষের সেবার মন্ত্রকে পাথেয় করে দোবরু পান্নার অরণ্যবাস থেকে রাইসিনা হিলস-এ পৌঁছনো যায়।

 

 

লেখক: অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক

তথ্যঋণ: ইন্টারনেট ও সংবাদপত্র

Mailing List