বজ্রপাত একটি আকস্মিক বিপর্যয়: সৃষ্টির প্রক্রিয়া, পূর্বাভাস ও বাঁচার উপায়

বজ্রপাত একটি আকস্মিক বিপর্যয়: সৃষ্টির প্রক্রিয়া, পূর্বাভাস ও বাঁচার উপায়
12 Jun 2021, 01:15 PM

বজ্রপাত একটি আকস্মিক বিপর্যয়: সৃষ্টির প্রক্রিয়া, পূর্বাভাস ও বাঁচার উপায়

 

ডঃ প্রণব সাহু

 

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে আমাদের যেতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ মতো জৈবিক বিপর্যয় আবার কখনও  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের মতো আবহাওয়াগত প্রাকৃতিক বিপর্যয় আমাদের স্বাভাবিক জনজীবনে বারংবার আঘাত এনে চলেছে। একদিকে কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে মৃত্যু এবং অচল সমাজ ব্যবস্থা অন্যদিকে ইয়াস সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও ক্ষুদ্র টর্নেডোর (Tornedo) প্রভাবে বিপুল পরিমাণে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং জীবনহানির মতো ঘটনা পরিবেশে নেমে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মূলত ইয়াস ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত প্রাকৃতিক  বিপর্যয় বারংবার  ও ভয়ংকর রূপে পরিবেশে দেখা দিচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বজ্রপাত (Lightning)।

 

বজ্রপাত ( Lightning) একটি আবহাওয়াগত আকস্মিক ও তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বর্তমানে এই বিপর্যয় সবথেকে চর্চার বিষয়। লক্ষ্য করলে দেখা যায় বিগত দশকে এই বজ্রপাতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরাঞ্চলে এর প্রভাব এবং প্রকোপ দুই বেশি। আমরা জানি ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের বোগারে'তে সবথেকে বজ্রপাত দেখা যায়, বছরে প্রায় ৩২০দিন। আবার আমাদের প্রতিবেশী ভূটান দেশে অধিক সংখ্যায় বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি দেখা যায়। তাই ভূটান কে বজ্রপাতের দেশ বলা হয়।

 

 সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষনীয় বিষয় দক্ষিণবঙ্গে, ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে, বাংলা ও উড়িষ্যার উপকূলীয় সংলগ্ন এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেড়েছে। এই গত দশ দিনে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রপাতের আঘাতে প্রায় ৩৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে সাত'ই জুন, ২০২১ সাতাশ জনের জীবনহানি ঘটে। প্রধানত দক্ষিণবঙ্গের জেলা গুলিতে এই বিপর্যয় নেমে আসে।

 

এই ধরনের আকস্মিক এবং তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রকৃতপক্ষে  পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে সর্তকতা জারি এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা সেভাবে গড়ে উঠেনি। একদিকে বজ্রপাতের সংখ্যা বা প্রবণতা যেমন বেড়েছে তেমনই পূর্বাভাস (Forecast) ও সতর্কতা বার্তা সেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। তাই জীবনহানির মতো ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে ।

 

এখন এই বজ্রপাত সৃষ্টির কারণ কী❓❓:

 

বজ্রপাত যাকে বলা হয় Lightning। তার সৃষ্টি বা সংঘটিত হওয়ার  কতগুলো প্রয়োজনীয় শর্ত বা পরিবেশ প্রয়োজন হয়। তা হল-

 

প্রথমতঃ বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা যথেষ্ট যোগান থাকবে এবং তা প্রায় ৮০ শতাংশের ওপর।

 

দ্বিতীয়তঃ বায়ুর উষ্ণতার পরিমাণ প্রায় ৩২ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের উপর।

 

তৃতীয়তঃ যথেষ্ট পরিমাণে বায়ুস্থিত কণিকার প্রাধান্যতা, মূলত ছাই, ভস্ম, ধূলিকণা ও নানান ধরনের দূষিত কণার উপস্থিতি।

 

চতুর্থতঃ বায়ুমন্ডলের মধ্যে উষ্ণ আর্দ্র বায়ু এবং শীতল বায়ুর মধ্যে অস্থিরতা।

 

পঞ্চমতঃ প্রায় ১২ কিমি থেকে ১৪ কিমি গভীরতা যুক্ত ঘন মেঘপুঞ্জ।

 

ষষ্ঠতমঃ নিম্বোকিউমুলাস মেঘের ঘনঘটা।

 

সপ্তমতঃ মেঘপুঞ্জে অতি শীতল জল কণার উপস্থিতি ।

 

এই সকল প্রয়োজনীয় শর্ত গুলি বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

 

বজ্রপাত সৃষ্টির প্রক্রিয়া (Genesis Mechanism of Lightning)-

 

 সাধারণত সমুদ্র ভাগ অথবা  জলাশয় থেকে আগত উষ্ণ আর্দ্র  বায়ু স্থলভাগে প্রবেশ করে হাল্কা হয়ে ওপরে ওঠে প্রসারিত হয় এবং দ্রুত শীতলীকরণ হতে থাকে।এর  ফলে উপস্থিত ঠান্ডা বাতাস ভারী হয়ে নিচে পুনরায় নেমে আসে। এই ভাবেই পরিচলন ক্রিয়ার  সৃষ্টি হয়। ভাসমান বায়ুস্থিত কণাগুলিকে কেন্দ্র করে জলীয় বাষ্প জলকণা পরিণত হতে থাকে। এবং সেই জলকণা গুলি অতি শীতলীকরণ এবং লীনতাপ ত্যাগ করে যার ফলে দ্রুত ঘনীভবন প্রক্রিয়া চলতে থাকে তখনই মেঘের মধ্যে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিরতা মাঝে জলকণা হাইড্রোজেন আয়ন(H+)এবং হাইড্রোক্সিল আয়নে ( OH-)ভেঙ্গে যায় এবং দুই বিপরীত  তড়িৎ আধান পজেটিভ আর নেগেটিভ অর্থাৎ ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক আধানের জন্ম নেয়।

 

মেঘের মধ্যে পরিচলন  ক্রিয়া চলতে থাকলে সেক্ষেত্রে সংঘর্ষ সংঘটিত হতে থাকে এবং বিপরীত তড়িৎ আধানের সংযুক্তিকরণ ঘটে তখনই  বিদ্যুতের ঝলকানি লক্ষ্য করা যায়।  তার ফলে কয়েক লক্ষ থেকে কোটি (প্রায় এক বিলিয়ন) ভোল্ট বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে থাকে এবং যার তাপমাত্রা প্রায় সত্তর হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই উচ্চ তাপমাত্রা ও লক্ষ লক্ষ ভোল্ট যুক্ত বিদ্যুৎ শক্তি সমতা রক্ষার জন্য শুণ্য (Zero) ভোল্ট যুক্ত ভূপৃষ্ঠের দিকে উলম্ব ভাবে নেমে আসে। সে ক্ষেত্রে কোনো সুপরিবাহী, তড়িৎ পরিবাহী অথবা জৈব বা সজীব অংশের মধ্য দিয়ে  পরিবাহিত হয় এবং তা ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে এবং সবকিছু ঝলসে পুড়ে ছাই করে দেয়। মূলত  উচ্চ ধাতব স্তম্ভ, উচ্চতা যুক্ত গাছ, বৈদ্যুতিক তার, ধাতব টাওয়ার অথবা ধাতব দন্ডের মাধ্যম ও সংযোগ করে ভূপৃষ্ঠে দিকে পরিবাহিত হয়।  এমনকি  ভূপৃষ্ঠের জলাশয়, ভেজা মাঠ  বিদ্যুৎ শক্তি কে আকর্ষণ করে।যার ফলে খোলা মাঠে বা ভেজা জমিতে বজ্রপাত হতে দেখা যায়।

 

 পূর্বাভাস ও সতর্কতাঃ

 

বজ্রপাতের নিঁখুত পূর্বাভাস দেওয়া  কঠিন। এতটাই আকস্মিক এবং তাৎক্ষণিক ঘটনা সেক্ষেত্রে সঠিক ভাবে পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তবুও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া প্রয়োজন আছে।

 

 সেক্ষেত্রে বজ্রপাতের পূর্বাভাস হিসেবে দুটো ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

প্রথমতঃ  বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে-

মূলত আবহাওয়া যন্ত্রপাতি ও উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে সংগ্রহিত তথ্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে ১২ ঘন্টা আগে রেডিও, টিভি ও অনান্য মাধ্যমের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া। আবহাওয়া দপ্তর অফিস থেকে জলীয় বাষ্প, উষ্ণতার পরিমাণ, বায়ুস্থিত কণিকা এবং বাতাসের গতি প্রকৃতি ইত্যাদির উপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া এবং স্থানীয় অঞ্চলের ৬ ঘন্টা আগে পূর্বাভাস দেওয়া ।

 

দ্বিতীয়তঃ মানুষের নিজস্ব উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা-

পরিবেশ সম্পর্কে  ও বায়ুমণ্ডলের প্রকৃতি সম্পর্কে বিশেষ অনুধাবন  ও উপলব্ধির মাধ্যমে এই পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ বজ্রপাতে সৃষ্টি র জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত গুলি র খুব বেশি লক্ষ্য করে যেতে হবে। মূলত উষ্ণতা ও আর্দ্রতার পরিমাণ খুব বেশি থাকলে শরীরে ঘাম হতে থাকে, গুমোট ভাব হয়, বেলা বাড়ার সাথে সাথে এক অসস্তি পরিবেশ তৈরি হয়। এবং অপরাহ্ণের শেষ বেলায় ধীরে ধীরে মেঘ জমতে থাকে এবং ঘন কালো মেঘ ছেয়ে আসে । বাতাসের সমান্তরাল প্রবাহ বন্ধ হতে থাকে।এই সময় বুঝতে হবে ১ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টা র মধ্যে বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আঞ্চলিক ভাবে লোকাল রেডিও বার্তা, মোবাইল বার্তা, এবং মাইকিং করে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

 

 বিশেষত এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময়ে হঠাৎ করে জলীয় বাষ্পের যোগান বেড়ে গেলে স্হানীয় নিম্নচাপ কে কেন্দ্র উষ্ণ আর্দ্র বায়ু ওপরে উঠে মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয় যা কালবৈশাখী সময়ে।

 

আবার মৌসুমী বায়ুর আগমনের প্রাককালে (জুন মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে) জলীয় বাস্পের যোগান বাড়তে থাকে এবং পরিচলন বায়ুস্রোত ক্রিয়ার ফলে বজ্রবিদ্যুৎ সহকারে বৃষ্টি হতে হতে স্থলভাগে প্রবেশ করে যাকে বলা হয় মৌসুমী বায়ুর বিস্ফোরণ (Burst of Monsoon)।

 

এই প্রসঙ্গে বলা যায় ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রচুর জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢোকে, জলাশয় গুলি জলমগ্ন হয় এবং আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং পরবর্তী দশ-পনেরো দিন ধরে বজ্রপাতের আদর্শ অবস্থা তৈরি হয়। যার কারণে বারংবার এবং অতিমাত্রায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে চলেছে।

 

সতর্কতা ও সচেতনতাঃ

 

১। প্রধানত: গ্রীষ্মকালে ও বর্ষা আগমনের প্রাক্কালে বিকেল বেলায় ঘন কালো নীচু স্তরের মেঘের অবস্থান ও প্রকৃতি দেখে  এক ঘণ্টা র মধ্যে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়া।

 

২। নিজের অবস্থান থেকে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা মাত্র'ই আধঘণ্টার মধ্যে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়া।

 

৩। মাঠ, ঘাট, রাস্তার মাঝে যেখানে'ই নিজের অবস্থান রয়েছে, তার থেকে পাঁচ'শ মিটার বা এক কিলোমিটারের কাছাকাছি স্থানে বজ্রপাত হলে অপেক্ষাকৃত শুকনো স্থানে কানে আঙুল দিয়ে চোখ বন্ধ করে পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে বসে পড়তে হবে।

 

৪। বজ্রপাতের সময় পুকুর, জলাশয়, নদী বা সমুদ্র উপকূল ইত্যাদি জায়গা গুলি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

 

৫। জলমগ্ন মাঠে অথবা ভেজা মাঠে না থাকা সব থেকে নিরাপদ।

 

৬। বজ্রপাতের সময় নদী অথবা পুকুরে মাছ ধরার কাজ করা চলবে না।

 

৭। উঁচু গাছের তলায় না দাঁড়ানো এবং গাছে হেলান না দিয়ে দাঁড়ানো বজ্রপাতের সময় আদর্শ সতর্কতা।

 

৮। ধাতব স্তম্ভ, আর্থিং তার ও ভেজা বিদ্যুতের খুঁটি তে হাত না দেওয়া।

 

৯। বারান্দা বা উঠানে না বসা, যদি বসতে হয় কাঠের অথবা প্লাস্টিক চেয়ারে জুতো পরে বসে থাকা।

 

১০। শিশু ও বয়স্কদের বাড়ির ভেতরে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা।

 

১১। বাড়ি র দরজা জানালা বন্ধ করে রাখা। ভেজা লোহার দরজা -জানালা হাত না দেওয়া।

 

১২। সমস্ত প্রকার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি না চালানো। সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ রাখা।

 

১৩। বাড়ি ছাদে না দাঁড়ানো, মোবাইলে কথা না বলা, বিদ্যুতের ঝলকানি ছবি সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয় গুলি থেকে দূরে থাকতে হবে।

 

১৪। বাড়ির লাগোয়া উঁচু গাছ লাগানো, মোবাইল টাওয়ার অথবা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক টাওয়ার প্রতিস্থাপন থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

১৫। বজ্রপাতের সময় মোটর সাইকেল, বাস,গাড়ি যে কোন যানবাহন চালানো র ক্ষেত্রে পাঁচ'শ মিটার বা এক কিলোমিটার দূরে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা মাত্র'ই রাস্তা'র ধারে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। বিদ্যুতের ঝলকানি তে চোখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনা র সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

 

১৬। গ্রাম ও শহরের উঁচু ধাতব ও বাতি স্তম্ভ, মোবাইল টাওয়ার, সুউচ্চ আবাসন, কার্যালয় এবং সমস্ত রকম নির্মিত বাড়ি গুলি তে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র আবশ্যিক বসাতে হবে। তা সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থা'র মাধ্যমে।

 

১৭। প্রতিটি শহর এবং গ্রামীণ ব্লকে একটি করে আবহাওয়া অফিস বা বিপর্যয় মোকাবেলা কেন্দ্র গুলি তে আধুনিক যন্ত্রপাতি বসিয়ে আবহাওয়া র অবস্থার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

 

১৮। মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় আধঘণ্টা অন্তর অন্তর স্থানীয় ভাবে বজ্রপাতের পূর্বাভাস ও সতর্কতার বার্তা দিতে হবে। তা সবাই কে মেনে চলার পরামর্শ দিতে হবে এবং নিজেদের মানতে হবে।

 

বজ্রপাত একটি আকস্মিক ও তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তাই আগাম সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া প্রায় সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষত আমাদের দেশে সর্বত্রই আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সেই সঙ্গে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি তাছাড়া আমাদের বজ্রপাত সম্পর্কে সম্যক ধারণা বিশেষ নেই। তাই সতর্কতা অবলম্বন বিশেষ ভাবে প্রয়োজন।

 

লেখক- অধ্যাপক প্রণব সাহু, বিভাগীয় প্রধান, ভূগোল বিভাগ

সেবা ভারতী মহাবিদ্যালয়, কাপগাড়ি, ঝাড়গ্রাম।

সম্পাদক,  ট্রপিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ(TIEER)

Mailing List