প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপুল সংখ্যক আম গাছ কাটার অভিযোগ জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে

প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপুল সংখ্যক আম গাছ কাটার অভিযোগ জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে
21 Jan 2021, 06:07 PM

প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপুল সংখ্যক আম গাছ কাটার অভিযোগ জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে

 

মধুমিতা দে, মালদা

সরকারি উদ্যোগে যেখানে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জেলায়, সেখানে উল্টো পথে হাঁটছেন মুষ্টিমেয় মানুষ। প্রশাসনের নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপুল সংখ্যক আম গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়েছে ইংরেজবাজার থানার আমজামতলা এলাকায়। ঘটনাটি জানতে পেরেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মালদার বিভাগীয় বনাধিকারিক অংশু যাদব। তিনি বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে কোথাও কোনও সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না সেটা জানা নেই। তবে এরকম ঘটনার খবর শোনার পরই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অফিসার পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইংরেজবাজার ব্লকের যদুপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জহুরাতলা যাওয়ার রাস্তা দু'ধারে রয়েছে অসংখ্য আমবাগান। বহু পুরনো দিনের আম গাছে সারিবদ্ধ রয়েছে আমজামতলা, রায়পুর, কেষ্টপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। কিন্তু, এই সব এলাকায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পিচ এবং কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নতি হয়েছে। আর তারপরই বিভিন্ন জায়গার দাম বেড়েছে হু হু করে। আর সেই সুযোগেই এখন জমি মাফিয়াদের একাংশ আম গাছ প্রকাশ্য দিনের আলোতেই কেটে সাফ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মালদার পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়েছে।

আমজামতলা এলাকার একাংশ বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমি মাফিয়ারা এলাকায় লাঠিয়াল বাহিনী মোতায়েন করে বড় বড় গাছ দিনের আলোতেই কেটে সাফ করে দিচ্ছে। প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস কারও নেই। এইভাবে গাছ কাটা হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।  আম গাছ কেটে সেই জায়গাগুলো এখন প্লট করে বিক্রি করা হচ্ছে। এব্যাপারে প্রশাসনের কোনও নির্দেশ মানা হচ্ছে না। তাই বেআইনি এই কাজ ঠেকাতেই বনদপ্তর ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

গৌড়বঙ্গ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ারনেস সেন্টারের সম্পাদক তথা মালদার বিশিষ্ট আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় দাস বলেন, সরকার প্রশাসন যেখানে বলছে গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও। এমনকি ঘরে ঘরে সদস্য অনুযায়ী একটি করে গাছ লাগানোর প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু, ঠিক তার উল্টো দিকে মালদার ওইসব এলাকায় এখন দেদার ভাবে পুরনো দিনের আম গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। অথচ দুর্লভ প্রজাতির আম গাছ না কাটার বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু, সেই সব নির্দেশ অমান্য করে জমি মাফিয়াদের একাংশ এখন গাছ কেটে চড়া দামে জায়গা বিক্রি করছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এরকম গাছ কাটা বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার ডাক দেওয়া হবে।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝেমধ্যে গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু, যেখানে গাছ কাটা হবে, সেই এলাকার মধ্যে সেই পরিমাণ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। বয়স্ক পুরনো গাছ, যেসব গাছে রোগ পোকা বাসা ধরেছে অথবা ডালপালা ভেঙে পড়ছে, দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সেইসব গাছ কাটার অনেক সময় নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে, আমজামতলায় অসংখ্য আম গাছ কেটে ফেলার যে অভিযোগ বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে, তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে বনদপ্তরের বিভাগীয় বনাধিকারিক অংশু যাদব জানিয়েছেন।

 

Mailing List