কলকাতা একদিন তিলোত্তমা হবে, স্বপ্ন দেখালেন মোদি

কলকাতা একদিন তিলোত্তমা হবে, স্বপ্ন দেখালেন মোদি
07 Mar 2021, 08:33 PM

কলকাতা একদিন তিলোত্তমা হবে, স্বপ্ন দেখালেন মোদি

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, কলকাতাঃ ‘সিটি অব জয়’কে ‘সিটি অব ফিউচার’ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে কলকাতাকে আক্ষরিক অর্থেই তিলোত্তমা হিসাবে তৈরি করার স্বপ্ন দেখালেন প্রধানমন্ত্রী। জানালেন,  এই রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতাকে আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলবে বিজেপি। শিল্প হোক বা পরিকাঠামো ঘাটতি থাকবে না কোনও কিছুতেই।

 

কলকাতাকে ডাকা হয় নানা নামে, কেউ বলেন মিছিল নগরী, কেউ বলেন সিটি অব জয়। আবার এই রাজ্যের ক্ষমতায় আসার আগে কলকাতাকে লন্ডনে পরিণত করার কথা দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন রাজীব গান্ধী একবার মন্তব্য করেছিলেন, “কলকাতা ইজ এ ডাইং সিটি” বা কলকাতা একটি মৃতপ্রায় নগরী বলে। এবং কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে। আর রবিবার, ব্রিগেড থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখালেন এই শহরকে ‘সিটি অব ফিউচার’ হিসাবে গড়ে তোলা হবে।

গত মাসে দু’দফায় রাজ্যে এসে বাংলার কৃষিজীবীদের ‘না-পাওয়া’ কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যে ক্ষমতা দখল করলে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার আশ্বাসও দিয়েছেন। আর রবিবার বললেন,  কলকাতার বস্তিবাসীরা পাবেন পাকা বাড়ি। ‘সিটি অব জয়’ কলকাতা হয়ে উঠবে ‘সিটি অব ফিউচার’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় স্মার্ট সিটি হবে। সেখানে পড়াই-কামাই এবং মানুষের চিকিৎসার জন্য দাওয়াইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পরিকাঠামোর উন্নতি হবে। গ্রাম ও শহরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও সংস্কার করা হবে।’’  তিনি বলেন, “কলকাতা সিটি অব জয়। কলকাতার অতীত ঐতিহ্যও রয়েছে। সম্ভাবনাও রয়েছে। কলকাতার সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রেখে সিটি অব ফিউচার তৈরি করার মতো সুযোগ রয়েছে। এই শহরের  সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রেখে একে ‘সিটি অফ ফিউচার’ না বানাতে পারার কোনও কারণ নেই। আমার এই শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তির বিস্তার, স্টার্টআপের পরিবেশ, সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করব।”

কলকাতা শহরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কী কী  উদ্যোগ নিয়েছে তার উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কলকাতা মেট্রোর কাজের গতি আরও বাড়ানো হয়েছে। কলকাতার সৌধগুলিকে সাজিয়ে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টার ‘কসুর’ করেনি। কলকাতায় উন্নয়নের ডবল ইঞ্জিন লেগে গেলে বাকি বাধাগুলিও দূর হয়ে যাবে। যে বাধা আমরা এখন প্রতি পদে অনুভব করি।”

তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজ্যের সরকারের জন্য তারা চেষ্টা করেও প্রতিটা ধাপে বাধার সম্মুখীন হন। বলেন, “এদের কমিশনবাজির জন্য কলকাতা বিমানবন্দর সংক্রান্ত সব কাজ দীর্ঘ দিন ধরে আটকে রয়েছে।  এই রকম বন্ধ হয়ে থাকা কাজ বিজেপি সরকার দ্রুত শেষ করবে । স্মার্টসিটি প্রকল্পগুলি নতুন গতি পাবে। শহরে নতুন ফ্লাইওভার তৈরি হবে। অসম্পূর্ণ ফ্লাইওভার সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে।”

এই সাথে জানান, কলকাতার বস্তিবাসীদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পাকা ঘর দেওয়া হবে। ঠেলাচালকদের দেওয়া হবে স্বনির্ভর নিধি।  তিনি বলেন,“ কলকাতার সঙ্গে বাংলার অন্যান্য শহরে আত্মনির্ভর ভারতকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি রয়েছে। শহরের পরিকাঠামোগুলিকে আধুনিক করা হবে। যাতে শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ ও বন্দরে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তাতে উৎসাহ দেওয়া হবে। কৃষক ও মৎস্যজীবীরা লাভবান হবেন।”            

 

কলকাতায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সাথে সাথেই এই শহরের সব অর্থেই, সব দিকেই উন্নয়ন করার কথা শুনিয়ে  প্রধানমন্ত্রী  বলেন, “দিন কয়েক আগেই দেশের সেরা শহরের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতার মানুষরা চান তাদের শহরও এই তালিকায় থাকুক।সেই কাজ আমরা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করব।” 

 

এর সাথেই তিনি জানিয়েছেন, এই রাজ্যের সব দিকেই উন্নয়ন,  বিকাশ করা হবে। “ টি থেকে ট্যুরিজম, মাছ থেকে ভাত, পশ্চিমবঙ্গে মাটি ও সমুদ্র সব কিছু আছে। আমরা সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন করব। যাতে রাজ্যের সব মানুষের উন্নয়ন করা। এই সব কাজ করা হবে স্বচ্ছতার সাথেই।”  

Mailing List