বৃষ্টিতে ভাসছে খানাকুল,  জল বন্দি মানুষকে উদ্ধার করতে নামল সেনা

বৃষ্টিতে ভাসছে খানাকুল,  জল বন্দি মানুষকে উদ্ধার করতে নামল সেনা
02 Aug 2021, 11:56 AM

বৃষ্টিতে ভাসছে খানাকুল,  জল বন্দি মানুষকে উদ্ধার করতে নামল সেনা

 

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন:  একে অতিরিক্ত এবং টানা বৃষ্টি। তার উপরে জল ছাড়া হয়েছে দামোদর থেকে। সব মিলিয়ে,  রূপনারায়ণ এবং দ্বারকেশ্বরের জলে প্লাবিত হুগলির খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ।  তাদের উদ্ধারে নামল সেনা। সোমবার সকাল থেকেই তাদের উদ্ধার করতে নেমেছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার।   সকাল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনকে করে নিয়ে আসা হয়েছে।  এখনও চলছে উদ্ধারকাজ।  এই প্রথম খানাকুলের  বন্যা প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্ধারে নামল বায়ুসেনার হেলিকপ্টার।

উল্লেখ্য, বছর কয়েক আগে, এই এলাকার লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের প্রতাপপুরে বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল একটি বাড়ি। ওই বাড়িতে যারা আটকে ছিলেন তাদের উদ্ধার করতেও নামানো হয়েছিল  বায়ুসেনার হেলিকপ্টার।

 

গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের।  ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।  জলের স্তর বেড়েছে বিভিন্ন নদীতে। দামোদর থেকে ছাড়া হয়েছে জল।  এর ফলে  জলের চাপ বাড়ছে নদীগুলিতে। সেই সঙ্গে চাপ কমাতে কোথাও জল ছেড়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে রূপনারায়ণ ও দ্বারকেশ্বরের জলে প্লাবিত খানাকুলের একাধিক গ্রাম। হু হু করে জল ঢুকছে গ্রামে। খানাকুলের জানাপাড়া, পালপাড়া, আদকপাড়া সহ আরও অনেকে এলাকাতেই বিঘার পর বিঘা  জমি ডুবে গিয়েছে জলে। ঘরের ভিতরেও জল ঢুকে যাওয়ায় বসবাস করাও দায় হয়ে গিয়েছে। মিলছে না পানীয় জল এবং খাবার। ঘরবাড়ি জলে তলিয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত স্থানীয়দের। বহু মানুষ জলবন্দি।  প্রাণে বাঁচতে অনেকেই আশ্রয় নেন উঁচু জায়গায়। 

আর  সোমবার সকাল থেকেই বাঁধের ধারে আটকে থাকা স্থানীয় মানুষদের উদ্ধারে তৎপর হয়েছে  বায়ুসেনাবাহিনীর কপ্টার।  খানাকুলের ধান্যঘরির বেড়াপাড়ার ১১ জনকে উদ্ধার করে  নিয়ে আসা হয়েছে আরামবাগের নিরাপদ আশ্রয়ে।  সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে ৩জন মহিলাকে, ৮ জন শিশু ও কিশোর।  অন্যান্য এলাকা থেকে জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা হয়।

হুগলি জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দিলীপ যাদব জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে বায়ুসেনার  হেলিকপ্টারে করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্ধার কাজ চলছে। ওই সব এলাকায় জলের স্রোত এতটাই বেশি স্পিডবোটে উদ্ধারকাজ চালানো কার্যত অসম্ভব। আপাতত কয়েকদিন অন্যত্র তাঁদের বসবাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তাঁদের জন্য খাবার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

একটানা জলের তলায় হাওড়া, হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রায় বন্যা পরিস্থিতি খানাকুলে। দ্বারকেশ্বরের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে এলাকা। পাঁশকুড়া, ঘাটালের অবস্থাও ঘোরালো। বিভিন্ন সড়কে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল।  আরামবাগের বন্দিপুরে দারকেশ্বর নদীর বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। জলবন্দি মানুষজনকে উদ্ধার করতে গিয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

অন্যদিকে, ভারী বর্ষণ ও ডিভিসি   থেকে জল ছাড়ার কারণে জল বাড়ছে ভাগীরথী নদীতে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কালনাতে নদীর দুই পাড়ের ভাঙনও। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জালুইডাঙা এবং নদীর ওপারে মনমোহনপুর ও কিশোরীগঞ্জ এলাকার মানুষজন ভাগীরথীর ভাঙনে জর্জরিত। নদীজলে তলিয়ে গিয়েছে বিঘের পর বিঘে চাষজমি। প্রচুর ঘরবাড়ি।

নসরতপুরের জালুইডাঙা, মনমোহনপুর, কিশোরীগঞ্জের বাসিন্দা ভাগীরথীর ভাঙনে আতঙ্কিত। আবার ডিভিসির  ছাড়া জলে প্লাবিত হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর এবং আমতা। জলের তলায় চলে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা জমি। বাড়ির ভিতরেও ঢুকেছে জল। ফলে চরম  সমস্যায় জলবন্দি মানুশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সব মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

ads

Mailing List