পুরনো মেজাজে তৃণমূলে ফিরছে নাকি কেশপুরের মহম্মদ রফিক? মুখ্যমন্ত্রীর মেদিনীপুর সফরের আগেই উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি দেখে জোর জল্পনা

পুরনো মেজাজে তৃণমূলে ফিরছে নাকি কেশপুরের মহম্মদ রফিক? মুখ্যমন্ত্রীর মেদিনীপুর সফরের আগেই উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি দেখে জোর জল্পনা
06 May 2022, 01:15 PM

পুরনো মেজাজে তৃণমূলে ফিরছে নাকি কেশপুরের মহম্মদ রফিক? মুখ্যমন্ত্রীর মেদিনীপুর সফরের আগেই উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি দেখে জোর জল্পনা

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কেশপুরের সেই মহম্মদ রফিককে মনে পড়ে? বাম দুর্গ কেশপুরেও যিনি দৌর্দন্ডপ্রতাপ দেখিয়ে এক সময় প্রতিদিন খবরের শিরোনামে থাকতেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন।

তারপর তমাল নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। ফাস্ট বেঞ্চের ছাত্রটি ধীরে ধীরে পেছনের বেঞ্চে যেতে যেতে এক সময় ক্লাসরুমের বাইরে বেরিয়ে স্কুল পরিবর্তন করতেও বাধ্য হয়েছিল। গিয়েছিলেন কংগ্রেসে। কিন্তু না, বেশিদিন কংগ্রেসে থাকেননি। আবার ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। নিত্য মিটিং-মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। কেশপুরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে দলের অনুগত সৈনিকের মতোই কাজ করে চলেছেন। কিন্তু সেই পুরনো মহম্মদ রফিককে আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এক সময় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দলের হয়ে কাজ করা, দলের জন্য জেল খাটা থেকে শুরু করে সব করেছেন। কিন্তু এখন প্রবীণদের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, মহম্মদ রফিক হয়তো অনেক পুরনো তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতো হারিয়েই গিয়েছেন।

কিন্তু এবার ফের তাঁকে ঘিরেই শুরু হল জল্পনা। হাতে মাত্র আর ক’টা দিন বাকি। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম সফরে আসবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। আবার কী মহম্মদ রফিক পুরনো জায়গা ফিরে পাবে? দলনেত্রী নিজেও জানিয়েছেন, নবীনরা দলে এলেও প্রবীণরা গুরুত্ব পাবে না তা যেন না হয়। আর এমন সময়েই দেখা গেল দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা, মন্ত্রী, সাংসদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবি। যা ঘুরে বেড়াচ্ছে মহম্মদ রফিকের ফেসবুক জুড়ে। তা থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছে, মহম্মদ রফিক কী ফের পুরনো ছন্দে ফিরতে চলেছে। নাহলে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতামন্ত্রীদের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা কিভাবে হয়?  

যদিও মহম্মদ রফিক নিজে এ ব্যাপারে স্পিকটি নট। তিনি ধোঁয়াশা রেখে বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা-মন্ত্রীরা তো আমারও নেতা। আমি তাঁদের শ্রদ্ধা করি। তাঁরাও স্নেহ করেন। এর মধ্যে অন্য কোনও সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।

তারই সঙ্গে অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, ‘‘একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনায় সিবিআই ডেকেছিল। আমি গিয়ে সিইবআইয়ের সঙ্গে দেখাও করেছি। সে বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কিছু পরামর্শও ছিল। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জেলায় আসছেন। আমাদেরও তো কিছু করণীয় থাকে। তা নিয়েও কিছু কথা হল। কেশপুরে এ নিয়ে একটি কর্মী বৈঠকও ডাকা হয়েছে।’’

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার কেশপুর, নারায়ণগড়-সহ বেশ কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষত, যে সমস্ত এলাকাগুলিতে বিজেপি বেশ ভালো করে থাবা বসিয়েছিল। সেই সমস্ত জায়গায় এবারও দলের বিধায়ক জিতলেও ভোটের পরিমাণ কিন্তু কমেছে। কারণ, বিজেপি বেশ কিছু ভোট পেয়েছে। এর প্রধান কারণ কিন্তু দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। যাকে কাজে লাগিয়েই বিজেপি প্রভাব বিস্তার করেছিল। সম্প্রতি কলকাতা থেকেই একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছিলেন জেলার জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপাররা। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছে এই বিষয়টি। তিনি প্রকাশ্যেই জেলাশাসক রশ্মি কোমলকে আর একটু বেশি করে ঘুরতে বলেছেন। তারই সঙ্গে কেশপুর, নায়ারণগড়, দাঁতনের মতো এলাকাগুলির বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে জানতে চেয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার অবশ্য সদর্থক উত্তরই দিয়েছিলেন। অর্থাৎ যা থেকে পরিষ্কার, ওই সমস্ত এলাকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা থাকতেই পারে।

এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রী জেলায় আসার পর দলে সত্যিই মহম্মদ রফিকের গুরুত্ব বাড়ে কিনা। যদি না বাড়ে? এব্যাপারেও উদাসীন মহম্মদ রফিক। সরাসরি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে বলেন, ‘‘আগেই বলেছি, আমি দলের অনুগত সৈনিক। দলের কাজ আগেও করেছি, এখনও সেভাবেই করতে চাই। দলনেত্রী যে নির্দেশ দেবেন, তা পালন করাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি তার বাইরে কিছু বুঝি না। অকারণ, কোনও বিতর্ক তৈরি হোক, তাও চাই না।’’  

ads

Mailing List