বোরখা ছুঁড়ে প্রতিবাদে ইরানের মহিলারা, পুলিশের গুলিতে নিহত অন্তত ৫০, তসলিমা নাসরিন বললেন, এমন একটা দিন আসবে এই উপ মহাদেশের মহিলারাও হিজাব, বোরখা খুলে ফেলবেন

বোরখা ছুঁড়ে প্রতিবাদে ইরানের মহিলারা, পুলিশের গুলিতে নিহত অন্তত ৫০, তসলিমা নাসরিন বললেন, এমন একটা দিন আসবে এই উপ মহাদেশের মহিলারাও হিজাব, বোরখা খুলে ফেলবেন
24 Sep 2022, 11:14 PM

বোরখা ছুঁড়ে প্রতিবাদে ইরানের মহিলারা, পুলিশের গুলিতে নিহত অন্তত ৫০, তসলিমা নাসরিন বললেন, এমন একটা দিন আসবে এই উপ মহাদেশের মহিলারাও হিজাব, বোরখা খুলে ফেলবেন

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: মাহশা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে জ্বলছে ইরান। প্রতিবাদে সোচ্চার মেয়েরা। প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে পথে নেমে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। সূত্রের খবর, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫০। বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ নিরাপত্তারক্ষীরও।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। হিজাব না পরে রাস্তায় বেরোনোর ‘শাস্তি’ হিসাবে মাহশা নামে তরুণীকে পুলিশ আটক করে। ১৩ সেপ্টেম্বর গাড়িতে চেপে সপরিবারে কুর্দিস্তান থেকে রাজধানী তেহরানে আসছিলেন ২২ বছরের মাহশা। গাড়ি আটকে ইরানের পুলিশ মাহশাকে গ্রেফতার করে হিজাব না পরার জন্য। পরে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তার পর থেকে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অসন্তোষের আগুন। রাস্তায় নেমে হিজাব পোড়ানো থেকে শুরু করে মাথার চুল কেটে ফেলা— বিভিন্ন ভাবে প্রতিবাদে পথে নেমেছে সে দেশের পুরুষ-মহিলা।

আর এই দৃশ্য প্রখ্যাত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেন, এখনও এই উপমহাদেশের মহিলারা এ নিয়ে কিছু করেনি। যদিও তাদের এই ঘটনায় লজ্জিত হওয়া উচিত। তারই সঙ্গে তসলিমা আশাবাদী, একদিন এমন দিন আসবে যেদিন মহিলারাই হিসাব, বোরখা খুলে ফেলবে। তসলিমা তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে লেখেন, ‘‘হিজাব বিরোধী আন্দোলনের ৫০ জনকে এই দু'দিনেই মেরে ফেলেছে ইরানের সিকিউরিটি ফোর্স। বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে ইরানের মেয়েরা, নিজেদের হিজাব পোড়াচ্ছে, নিজেদের চুল কাটছে, নিজেদের মত নিজেদের মতো করে প্রকাশ করছে, এতে কার কী জ্বলে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেল? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেয়েরা আজ রাস্তায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকলে, পেছনে যাওয়ার আর পথ না থাকলে,  মানুষ এভাবেই  সামনে এগিয়ে যায়। হারাবার কিছু না থাকলে মানুষ এভাবেই ঝাঁপিয়ে পড়ে  কিছু অন্তত পাওয়ার জন্য। তারা ধন সম্পদ চাইছে না। শুধু মান ইজ্জত চাইছে। নিজেদের প্রাপ্য অধিকারটুকু শুধু চাইছে। মানুষের মতো বাঁচার অধিকার। মাথা উচুঁ করে চলার অধিকার। নিজের শরীর নিয়ে অস্বস্তিতে না পড়ার অধিকার, নিজের চুল, নিজের মুখ, নিজের হাত পা  লুকিয়ে না রাখার অধিকার।

ইরানী মেয়েদের নিরলস সংগ্রাম দেখে উপমহাদেশের হিজাবি নিকাবী বোরখাওয়ালী মেয়েদের লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া উচিত। ঠিক ওদের মতো করে পুড়িয়ে দেওয়া উচিত তাদের হিজাব, নিকাব, বোরখা। আজ যদি না খুলে ফেলে হিজাব, একদিন আসবে, যেদিন তারা ইরানের মেয়েদের মতোই খুলে ফেলবে তাদের হিজাব। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পোড়াবে। কেউ কেউ অবশ্য পোড়ানোর সময়ও পাবেনা। তার আগেই ধর্মপুলিশের হাতেই জীবন হারাবে। মাসা আমিনীর জন্য যেমন মিছিল হচ্ছে, তাদের জন্যও হবে। এই উপমহাদেশেই হবে।’’

Mailing List