মাদাম কুরি প্রথম মহিলা হিসেবে নোবেল পান, তিনিই আবার রেকর্ড গড়ে পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন - দু’টি বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন!  সব মিলিয়ে একই পরিবারে পাঁচজন নোবেল জয়ী!

মাদাম কুরি প্রথম মহিলা হিসেবে নোবেল পান, তিনিই আবার রেকর্ড গড়ে পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন - দু’টি বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন!  সব মিলিয়ে একই পরিবারে পাঁচজন নোবেল জয়ী!
10 Nov 2022, 02:42 PM

মাদাম কুরি প্রথম মহিলা হিসেবে নোবেল পান, তিনিই আবার রেকর্ড গড়ে পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন - দু’টি বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন!  সব মিলিয়ে একই পরিবারে পাঁচজন নোবেল জয়ী!

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: মারি কুরি (Marie Curie)।  যাকে বিশ্ব মাদাম কুরি নামেও চেনেন। যিনি বিশ্বের প্রথম মহিলা হিসেবে নোবেল পুরষ্কার পান। আবার তিনিই বিশ্বের এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি দু’টি বিষয়ে দু’টি নোবেল পান। না, এখানেই শেষ নয়, তাঁর পরিবার অর্থাৎ তিনি, তাঁর স্বামী ও এক কন্যা-প্রত্যেকেই নোবেল জয়ী! ছোট মেয়ে অবশ্য বিজ্ঞানের পথে যাননি। তবে তাঁর স্বামী নোবেল পেয়েছিলেন। যার অর্থ একটি পরিবারেই পাঁচটি নোবেল! এমন অবিস্মরণীয় কীর্তি আর দ্বিতীয়টি নেই।

১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর মাদার কুরি জন্মেছিলেন রাশিয়ার দখলে থাকা কংগ্রেস পোলান্ডের ওয়ারশ-তে। ওয়ারশ'র ফ্লাইং ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা। ওয়ারশতেই ব্যবহারিক বিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ শুরু। 1891 সালে, যখন তাঁর বয়স 24 বছর, তিনি প্যারিসে যা‌ন পড়াশোনার জন্য। সেখানে তাঁর বড় বোন ব্রনিসলাওয়া ছিলেন। যেখানে তিনি তাঁর উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং পরবর্তী বিজ্ঞান চর্চা চালিয়ে গিয়েছিলেন। 1895 সালে তিনি ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী পিয়েরে কুরিকে বিয়ে করেন এবং স্বামী-স্ত্রী মিলেই "তেজস্ক্রিয়তা" তত্ত্বের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আর সেই সাফল্যের জন্যই 1903 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান তিনি। একইসঙ্গে তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরিও অবশ্য ওই বিভাগেই নোবেল পান। 1906 সালে পিয়েরে কুরি প্যারিসের একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরবর্তীকালে পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম উপাদানগুলির আবিষ্কারের জন্য 1911 সালে রসায়নেও নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন মাদাম কুরি।

এ তো গেল স্বামী-স্ত্রীর তিনটি নোবেলের কথা। এবার আসা যাক, তাঁর দুই সন্তানের কথা। 1897 সালে আইরিন এবং 1904 সালে ইভ নামে দুই সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। ছোট মেয়ের জন্মের দু’বছর পরেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। তবু সন্তানদের মানুষ করার পাশাপাশি নিজেও গবেষণার কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। বড় মেয়ে আইরিন 1935 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন।  ইভ তার পরিবারের একমাত্র সদস্য ছিলেন যিনি একজন বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নেননি এবং নোবেল পুরস্কার পাননি, যদিও তার স্বামী হেনরি রিচার্ডসন লাবুইস জুনিয়র, ইউনিসেফের পক্ষে 1965 সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার সংগ্রহ করেছিলেন। কুরি পরিবারের পাঁচটি নোবেল পুরস্কারের উত্তরাধিকার।

মাদাম কুরি দু’টি নোবেলের পাশাপাশি একাধিক পুরষ্কারও পেয়েছিলেন। 1920 সালে তিনি প্যারিসে কুরি ইনস্টিটিউট এবং 1932 সালে ওয়ারশতে কুরি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। দু’টিই  চিকিৎসা গবেষণার প্রধান কেন্দ্র হয়। ম্যারি কুরি 1934 সালে ফ্রান্সের প্যাসি (হাউট-সাভয়ে) এর সানসেলেমোজ স্যানাটোরিয়ামে মারা যান। পরীক্ষাগারে পরীক্ষার সময়ই তেজস্ক্রিয় পদার্থ বিকিরণের ফলে গভীর অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।  নোবেল পুরষ্কার ছাড়াও, 1995 সালে তিনি প্যারিস প্যান্থিয়নে সমাধিস্থ হওয়া প্রথম মহিলা হয়েছিলেন। সেই সূযোগ পেয়েছিলেন তাঁর যোগ্যতার জন্য। পোল্যান্ড 2011 সালকে আন্তর্জাতিক রসায়ন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল মেরি জন্যই।

Mailing List