অধ্যাপক কাশীনাথ রায় ও নারীনেত্রী বুলা আহমেদ স্মরণে

অধ্যাপক কাশীনাথ রায় ও নারীনেত্রী বুলা আহমেদ স্মরণে
20 Jan 2021, 11:07 AM

অধ্যাপক কাশীনাথ রায় ও নারীনেত্রী বুলা আহমেদ স্মরণে

শেখর দত্ত

 

একই দিনে পর পর দুই সহপাঠী-সহযোদ্ধা বন্ধুর স্ত্রী ভগ্নিসম বুলা আহমেদ ও অনুজপ্রতীম সাথী কাশীনাথ রায়ের মৃত্যুর খবর শুনেছিলাম। কিন্তু  নিকট মৃতজনদের স্মৃতিচারণ করতে করতে এমন একটা মনের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যে, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু লেখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর টুকুটাকি নানা কাজে বেশ ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এই দুইজনের সম্পর্কে ফেসবুকে সকলের লেখা পড়ার পর গতকাল রাতে খাবার সময়ে ওদের দুইজনকে  নিয়ে কথা হচ্ছিল আভার সাথে। আভার বন্ধু বুলা। আর কাশীনাথ রায়কে সে সেই দূর  থেকে দেখেছে, কথা কখনও হয়নি। কথা বলতে বলতে আমি দু‘জনের স্মৃতি নিয়ে নানা কাহিনী ওকে বলতে লাগলাম।  সে আমাকে আজ আরো জোর দিয়ে বলল, সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে লেখা পড়ে কতজন! রাজনীতি নিয়ে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বরং ওদের জীবনের টুকরো টুকরো ঘটনা নিয়ে লেখ। ষাটের দশকের সোনালী অতীত সম্পর্কে বন্ধুদের জানাও।  তাতে কাজ হবে বেশি!

 

ঘুম থেকে উঠে রোদহীন-শূন্য- নিস্তব্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে আভার শেষ কথাটা মনে হতেই ভাবনায় এলো,  লেখার ওজন কোনটার বেশি আর কোনটার কম আর কাজের ওজন কখন কোনটা  বেশি আর কোনটা না করলেও চলবে, তা আসলে কোনো দিনই স্থির করতে পারিনি। ষাটের দশকে পরিবারের দুর্যোগ আর দেশের দুর্যোগ একসাথেই সামনে এসে মূর্তিমান ধরা দিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল দেশ আগে, পরিবার পরে। উল্টোটা কি হতে পারতো না!  অবশ্য সেটা হলে আর কাশীনাথ ও বুলা সম্পর্কে লেখার কথাই কেউ বলতো না।

 

নিঃসন্দেহে আমাদের প্রজন্মের সকলের, যার যার সাধ্যমতো ষাটের দশক ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাতির গৌরবময় সোনালী দিনগুলোর কথা লিপিবদ্ধ করে যাওয়া একান্ত প্রয়োজন। যা আগামী দিনগুলোতে হতে পারে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস। মৃত্যু  বিশেষত বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির মৃত্যু সবসময়েই নিষ্ঠুর ও বিষাদময়। কিন্তু এটাও ঠিক, কারো মৃত্যু হলে যতটা সেই ব্যক্তির জীবন ও কর্ম স্মরণে আসে, তা জীবিত থাকতে তেমনভাবে মনে ধরা দেয় না। জানি না এটাই স্বাভাবিক কি না!  এই সব নিয়ে আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে মনে হল আজ সকালটা ওই দুইজনকে নিয়ে ভেবেই নিজেকে ব্যস্ত রাখি না কেন!       

 

এক.

ছাত্র জীবনের পর কাশিনাথের সাথে একবার মাত্র সাক্ষাৎ হয়েছে। খুব অল্প সময়ের জন্য।  তবে কোথায় তা অনেক কষ্ট করেও মনে করতে পারলাম না। তাই বলতেই হয় অধ্যাপক কাশীনাথ রায় আমার অপরিচিত। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাশীনাথ আমার খুব পরিচিত, কাছের। একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রের কাছে কে এন রায় স্যারের পড়ানোর পদ্ধতি,  জ্ঞানের পরিধি, আত্মনিমগ্নতা, প্রচারবিমুখতা ও প্রশংসা নিয়ে কিছু কথা শুনে প্রশ্ন করেছিলাম, পুরো নামটা কি? কাশীনাথ রায় নাম শুনে খুব খুশি হয়ে উঠেছিলাম।

 

ষাটের দশকের প্রথম দিকের শেষ বছরে কাশীনাথ রায় ঢাকায় এসেছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। আমাদের এক বছর পর। আইয়ুবের সামরিক শাসন তখন উঠে গেছে। আমরা কেউ কেউ  পুরোমাত্রায় ছাত্র সংগঠন- আন্দোলনে মেতে উঠেছি। বাঙালি জাতীয়তাবাদী ও সমাজতন্ত্র নিয়ে ছাত্রসমাজের মধ্যে আলোড়ন চলছে। নতুন সেশনে ছাত্র ভর্তি হওয়ার সময়টা ছিল সংগঠন করা মৌসুম।  আমাদের অগ্রজ সাথীরা নতুন ছাত্রদের দলে  টেনে আনাকে বলতেন ‘ মুরগী ধরা’।  দেশের কাজ মানেই দল ভারী করা। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে তখন নতুনদের দলে টানার প্রতিযোগিতা চলতো।

 

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নির্মলেন্দু চক্রবর্তী ছিলেন ইংরেজি বিভাগের  শেষবর্ষের ছাত্র। জগন্নাথ হলের শ্রদ্ধেয় ছাত্রনেতা। তার মাধ্যমেই কথা হল ইংরেজি বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া কাশীনাথ রায়ের সাথে। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র, রাজশাহীর নাটেরে বাড়ি।  বোর্ডে কলা বিভাগে প্রথম হয়ে এসেছে। কথা বলে কম, কণ্ঠ গভীর। মাথাটা একটু ডানে কাত করে মুদু হাসে।  কেমন যেন আত্মমগ্ন।  বেশ সলজ্জ, প্রশংসা করলে লাল হয়ে ওঠে। অমায়িক, নম্র-ভদ্র।  নিজের সবটা প্রকাশ করতে উঠেপড়ে লাগে না। নৈকট্য হয় অথচ যেন হয় না। বাষট্টি -চৌষট্টির ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবে ওই বছর একঝাঁক ছাত্রকে জগন্নাথ হলে আমরা সংগঠনের সাথে যুক্ত করতে পেরেছিলাম। মলয় ভৌমিক ( অকাল প্রয়াত, কবি, রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্ত), রমনী মোহন দেবনাথ ( প্রখ্যাত ব্যাংকার), কুন্তল বিশ্বাস (প্রয়াত,  নেত্রকোনার রাজনীতিক), পাহাড়ী  বিশ্বাস ( প্রবাসী) প্রমুখ ( সব নাম মনেও করতে পারছি না)। 

 

এদের মধ্যে কাশীনাথ ছিল স্বতন্ত্র। ছাত্র ইউনিয়নে ছিল ওর অবস্থান। কিন্তু কখনও সংগঠন এবং এমনকি ছাত্র সংসদে নির্বাচন প্রার্থী হতে চাইতো না। হাসিমুখে অনুরোধ ফিরিয়ে দিত।  ছাত্র ইউনিয়নের নবীনবরণ উৎসব এবং এমনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় বক্তৃতাও  করেছে। মগ্ন হয়ে শুনতে হতো। জ্ঞান ও আবেগ একসাথে মেশানো।  হলের মিছিলে মাঝেমধ্যে অংশ নিত। একুশে ফেব্রুয়ারি এবং যতদূর মনেহয় ছাত্ররা শহীদ হওয়ার পর শোক মিছিলেও গেছে। তখন ছাত্রদের অনেককেই টিউশন করতে হতো। এখনও মনে পড়ে, মেধাবী ছাত্র কাশিনাথকে আমি তা জোগার করতে সাহায্য করেছিলাম। তখনই বুঝা গিয়েছিল, কশীনাথ রায় ছাত্র গুণমুগ্ধ শিক্ষক হবে।

 

তবে সবকিছু ছাপিয়ে মনে পড়ছে রুমের মধ্যে ওর ইংরেজি কবিতা মুখস্ত শুনতে পারা। সুস্পষ্ট ও নাটকীয় উচ্চারণ! যেন মনের গহীন থেকে উঠে এসে ভেঙ্গে ভেঙ্গে শ্রোতাদের মনের গহনে প্রবেশ করছে। নির্মলদা জীবনানন্দ দাসের রূপসী বাংলার কবিতাগুলো ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন। একরাতে নির্মলদা শুনিয়েছিলেন ওই কবিতার অনুবাদ আর কাশিনাথ সেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ।  ওই রাতে আর কে কে ছিল মনে নেই। 

 

কাশীনাথের মৃত্যুর পর জগন্নাথ হলের সাবেক কয়েকজন আমাকে টেলিফোন করে শোক প্রকাশ করেছে। আমাদের সময়ে অনেক পরের ছাত্র নেতা অনুজপ্রতীম সাথী অনুপম রায় লিখেছে, ‘স্যারের অবয়বে  আমি কবিতাকে হেঁটে যেতে দেখেছি। তিনি ছিলেন আমার কাছে চলমান কবিতা।’  ওর এই লাইন দুটো পড়ে সেই কবিতা পড়তে থাকা কাশীনাথের ছবিটা আমার মনে ভেসে উঠলো। চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো।  অনুপমকে ধন্যবাদ, সে আমার মনের কথাটা সুন্দর ভাষায় প্রকাশ করেছে।

 

অধ্যাপক কাশিনাথ রায়ের পরিবারের কাউকে আমি চিনি না। মৃত্যুর পর শুনেছি, ছেলে প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক। শুনে তৃপ্তি পেয়েছি। অনুজপ্রতীম প্রয়াত কাশিনাথের পবিত্র স্মৃতি স্মরণ করার সাথে সাথে পরিবারের সকলকে, সহকর্মী শিক্ষক- ছাত্রসহ শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক সমবেদনা।   

 

দুই.

ভগ্নীসম বুলার সাথে সম্পর্ক তিন প্রজন্ম ধরে। ষাটের দশরে মাঝামাঝি। ছাত্র ইউনিয়ন সম্মেলন হবে  দিনাজপুরে। সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা, ডাকসুর সহ-সভাপতি মাহফুজা খানম ( যতটুকু মনে পড়ছে) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আমি  গেলাম দিনাজপুর ছাত্র ইউনিয়ন সম্মেলনে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় সামনের চেয়ারে বসেছিলেন এক বয়স্কা মহিলা। সুন্দরী- তৎপর - মমতাময়ী -মাতৃরূপী মুখম-ল। অনুষ্ঠান শেষে সবাই তাঁকে ঘিরে ধরেছে। দিনাজপুরের ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদভাই আমাদের ষ্টেজ থেকে নামিয়ে প্রথমেই উনার কাছে নিয়ে গেলেন। সবাই দিনাজপুরের মিষ্টি গলায় উনাকে ডাকছেন মা বলে।  তিনি কাউকে পিঠে, কাউকে গালে আদর করে আশীষ-চুম্বন দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

আমরাও পরিচিত হলাম মায়ের সাথে। তিনি একইভাবে আমাদেরও আদরের পরশ দিলেন। বাস্তবে এমন কমন মা-আম্মা, খালা-মাসি, দিদি- বৌদি- ভাবীরা ছিলেন কমবেশি ঢাকাসহ সারা  দেশজুরে। তাঁরা সকলেই ছিলেন আমরা যারা ‘ ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছি’, দেশের কাজ করছি; তাদের সহায় ও ভরসা। এদের মধ্যে দিনাজপুরের মা ছিলেন অনন্যা। সবগুলো ছেলে- মেয়ে ছিলো সংগ্রামে-আন্দোলনের কমবেশি আমাদের সাথে। বিশেষভাবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অগ্রণী। সবচেয়ে বড় হেনাভাই। এমন পরোপকারী মানুষ বিরল।  মোহাম্মদ ফরহাদের একনিস্ট বন্ধু। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি আমাদের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

 

ফরহাদভাইয়ের মৃত্যুর পর জীবিত থাকাকালিন ঢাকা এলে আমার সাথে দেখা করতেনই। মাঝে মাঝে দিনাজপুর থেকে টেলিফোন করতেন। আর তরুআপা! উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শুরুর ক্ষণে ২০ জানুয়ারি আসাদ শহীদ হলে বিকেল  পৌনে ৩টার সময়  ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে শোকসভা শেষে  কালো পতাকা ও আসাদের রক্তভেজা শার্ট   নিয়ে যে বিশাল মৌনমিছিল ঢাকার রাস্তায় বের হয়, তার অগ্রভাগে কালো পতাকা হাতে নিয়ে  ছিল সংগ্রামী তরুআপা (প্রয়াত)। যতটুকু মনে পড়ে বুলা আহমেদ ছিলো জগন্নাথ কলেজের ছাত্রী।  সংগ্রাম আন্দোলনের সাথী। আর ফ্লোরা ( প্রয়াত)  ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী। আগরতলার ক্রাফ্ট হোস্টেলে তিনি বেশ কিছুদিন ছিলেন। তখন আলাপ পরিচয় হয়েছিল।    

 

প্রয়াত বুলার স্বামী সহপাঠী- সহযোদ্ধা বন্ধু ও মন্ত্রী  ইয়াফেসের সঙ্গে সম্পর্কও আমার তিন প্রজন্মের। নটরডেম কলেজে  একসাথে পড়তাম। ফয়জুল আকবর ( ছাত্র নেতা , ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, প্রয়াত), হুমাউন  ( ইঞ্জিনিয়ার), মাহমদুল ( ইঞ্জিনিয়ার), দীপক দাস ( ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) , সোমেশ্বর চক্রবর্তী (অধ্যাপক), আখতার ( ডাক্তার, বীর প্রতীক, প্রয়াত),  ইয়াফেস, আমিসহ কয়েকজনের একটা  নৈকট্য-বলয়  গড়ে উঠেছিল। আমরা  ছিলাম খুবই বন্ধুবৎসল। তখন আমরা কেউ  রাজনীতির সাথে  ছিলাম না, কিন্তু ধর্ম- জাত ইত্যাদির বালাই আমাদের ছিল না। এখনও মনে পড়ে, চৌষট্টি দাঙ্গা যখন বাধে বাধে অবস্থা, তখন ফয়জুল আকবর- ইয়াফেস ওরা সব দল বেধে রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ ছাত্রাবাসে আমাদের সুরক্ষা দিতে গিয়েছিল।

 

ইয়াফেস ওসমান  ছিলো মুক্তিযোদ্ধা। বেতিয়ারায় পাক হানাদার ও দালালদের অ্যাম্বুসে পড়ে সমুখ যুদ্ধ থেকে যারা বেঁচে এসেছেন তাদের একজন; ওই গ্রুপের নেতা।  বুলা আহমদে যুক্ত ছিল কলকাতায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আবুল হাসনাত (প্রয়াত) ভাইয়ের সাথে। পাকিস্তান আমলে ওরা দুজনেই ছিল আন্দোলনের সাথে সাথে সংগ্রামের গানের জগতের সঙ্গে যুক্ত।

 

এসব ভাবতে ভাবতে মনে হলো, দিনাজপুরের মায়ের সাথে যেমন ছিল আমাদের নিবিড় সম্পর্ক, তেমনি ইয়াফেসের বাবা দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, জাতির অন্যতম বিবেক শওকত ওসমানের সাথেও ছিল আমাদের পরিবারের নিকট সম্পর্ক।  গোপীবাগের মুক্তোদের বাসায় আশির দশকের মাঝামাঝি যখন আমরা ছিলাম, তখন দুই দিন তিনি প্রাতঃভ্রমণ শেষে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন। প্রথম দিন ঠিকানা খুঁজে বেশ সকালে এসে আমাদের যে আনন্দ দিয়েছিলেন, তা বিস্মৃত হবার মতো নয়। দুই দিনই চা-বিস্কুট ছাড়া কিছু খেতে চাননি।

 

বুলা আভার বন্ধু আর ইয়াফেস আমার। স্থপতি ইয়াফেস আমাদের মনমতো মিরপুরের রূপনগরে বাড়ির ডিজাইনটা করে দিয়েছিল। এদিক থেকে আমরা ওর কাছে কৃতজ্ঞ। ১৭ বছর ওই বাড়িতে থেকেছি। ওই বাড়িটা সঙ্গত নানা কারণে বিক্রি করে দিতে হয়েছে।  ওই বাড়ির স্মৃতির সাথে বুলা-ইয়াফেস মিশে আছে।

 

আমাদের দুই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের সম্পর্কটা কাকতালীয়। বুলা-ইয়াফেস দম্পতির একমাত্র ছেলে সুমিত আর আমাদের বড় ছেলে শান্তনু ছিল একই বয়সের ,  ক্লাশমেট। সুমিত অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী আর শান্তনু সিংগাপুর প্রবাসী। ওদের মাঝে সম্পর্ক এখনও অটুট। তিন প্রজন্মের সম্পর্ক নিঃসন্দেহে অনন্য এবং গর্ব করার মতোই বটে।

 

মন্ত্রী হবার পর ইয়াফেসের সাথে আমার যোগাযোগ একেবারেই কমে গেছে। ব্যস্ত মানুষ সে। বুলার অসুস্থতা ও হাসপাতালে থাকার খবর আমরা সুমিতের কাছ থেকে জেনেছি। প্রায় প্রতিদিন সুমিতের কাছ থেকে টেলিফোন বা মেসেজে বুলার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে আমরা জানতাম।

 

বুলার মৃত্যুতে ইয়াফেস নিঃসন্দেহে দুঃখ-বেদনা ও একাকীত্বের মধ্যে পড়বে। কিন্তু জানি, মনের জোর ওর প্রবল। ঠিকই কাটিয়ে উঠবে শোক। মন্ত্রী হিসাবে অনেক দায়িত্ব যে ওর। ওর সাফল্য ও সুস্থ্যতা কামনা করছি।

 

সুমিত মাকে দেখতে করোনা-দুর্যোগের মধ্যে ঢাকা এসেছিল। অষ্ট্রেলিয়া গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন ছিল। তা শেষ হতেই মায়ের মৃত্যুর খবর শুনেছে। মায়ের মৃত্যুক্ষণে সে কাছে থাকতে পারেনি। শেষ দেখাও দেখতে পারেনি। ওর প্রতি সহানুভুতি, ভালবাসা ও কল্যাণ কামনার  শেষ নেই আমাদের। অস্ট্রেলিয়ায় ওর স্ত্রী-পুত্রের জন্য  জানাই সমবেদনা। ওর দেখতেই পারলো না যথাক্রমে মা ও দাদীকে। 

 

অধ্যাপক কাশিনাথ রায় ও নারীনেত্রী বুলা আহমদের স্মৃতির প্রতি জানাই অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।

 

লেখক - বাংলাদেশের একজন প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠক।

Mailing List