দুর্গাপুরে খোলা মুখ কয়লাখনিতে চাপা পড়ে মৃত্যু চার জনের

দুর্গাপুরে খোলা মুখ কয়লাখনিতে চাপা পড়ে মৃত্যু চার জনের
26 Jan 2022, 02:22 PM

দুর্গাপুরে খোলা মুখ কয়লাখনিতে চাপা পড়ে মৃত্যু চার জনের

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন :  দুর্গাপুর এলাকাতে একটি  খোলামুখ কয়লাখনি থেকে কয়লা বের করতে গিয়ে চাপা পড়ে মৃত্যু হল চারজনের।  যারা মারা গিয়েছেন তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলেও জানা গিয়েছে।  ওই ঘটনায়  গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও একজন। তাঁরা বেআইনিভাবে কয়লা বের করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোররাতে দুর্গাপুরের ফরিদপুর থানার লাউদোহার মাধাইপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।  

ওই কয়লাখনিটি ইসিএলের। ওই এলাকার ,  পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ইসিএলকেই।

 বিষয়টি নিয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (DC)  অভিষেক গুপ্তা বলেন, '' সেখান থেকে চারজনের দেহ ও একজনকে আহত অবস্থায়  উদ্ধার করা হয়েছে। কেন এই দুর্ঘটনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'' আহত কিশোরকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

ইসিএলের  মাধাইপুর  খনিতে জল জমার কারণে বর্তমানে কয়লা তোলার কাজ বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে চোরা পথে কয়লা কেটে বিক্রি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে সেই কাজ চলছে বলে অভিযোগ।  এ দিনও সেই একই কারণে ওই খনির কাছে গিয়েছিল ওই পরিবারের সদস্যরা।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত চারজনের নাম আনাহরি বাউড়ি (৫০), শ্যামল বাউরি (২৩), নটবর বাউরি( ২৫) ও পিঙ্কি বাউরি। আহত কিশোর বাউরি  চিকিৎসাধীন। আহত ও নিহত সকলেই মাধাইপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একই পরিবারের সদস্য।

এদিন ভোররাতে ওই পবিবারের লোকজন ওই  খোলামুখ খনি থেকে বেআইনিভাবে কয়লা বের করতে নেমেছিলেন। আচমকা খনিতে ধস নামায় পাঁচজনেই কয়লার নীচে চাপা পড়ে যান। ঘটনাটি প্রথমে স্থানীয়দের নজরে আসে।  পরে তাদেরকে তুলে আনা হয়।

  পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী গোটা ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তিনি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি ইসিএল (ECL) কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন,   ''খনিগুলি কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা, অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী রাখা উচিত ছিল। তাছাড়া জায়গাটা খুবই বিপজ্জনক। যে কোনও সময় নদীর জল খনির ভিতরে ঢুকে যেতে পারে। বালির নীচে কয়লা আছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। যে ঠিকাদার সংস্থা একাজ করছে তাদের উপযুক্ত পরিকল্পনা নেই।''  

আগেই কয়লা তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকেরই। তারপরেও এই ভাবে কয়লা তোলা বন্ধ হয়নি।

ads

Mailing List