ভুটানে এখনও পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যু  মাত্র ১ জনের  

ভুটানে এখনও পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যু  মাত্র ১ জনের   
09 May 2021, 09:22 PM

ভুটানে এখনও পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যু  মাত্র ১ জনের

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন:  করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল ভারত। ভারতে গত কয়েকদিন ধরেই দৈনিক করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন ৪ লক্ষের বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা গিয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ।  

প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তানেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত। করোনা সংক্রমণ বাড়ছে নেপাল এবং শ্রীলঙ্কাতেও।

 

সেই সময় এক  উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ভুটান। সেখানে এখনও পর্যন্ত কোভিড আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১ জনের।

 

করোনা বাড়ছে পাহাড়ের কোলে থাকা নেপালে। বাংলাদেশে করোনার দাপট ঠেকাতে জারি করা হয়েছে লক ডাউন। আক্রান্ত বাড়ছে শ্রীলঙ্কাতে। সেখানে ১ লক্ষের বেশি আক্রান্ত। স্কুল বন্ধ, মানুষকে ঘরে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। আক্রান্ত বাড়ছে আরেক প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারেও।  

 

সেখানে অন্য চিত্র হিমালয়ের কোলে থাকা ছোট্ট দেশ ভুটানে।  ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই দেশে ২৭ মার্চ শুরু হয় টিকাকরণের কাজ।  আর,  শনিবার পর্যন্ত এই দেশে ৯৩ % প্রাপ্তবয়স্ককে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।  এই দেশে এই কদিনে ৪ লক্ষ ৭২ হাজার ১৩৯ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।  

ভুটানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাসো ডেচেন ওয়াংগমো জানিয়েছেন “দেশকে এবং দেশে মানুষকে রক্ষা করতে আমরা আমাদের কাজ করে চলেছি।”

 

আর এই দেশে তাই এখন পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন মাত্র এক জন।  

কোভিড সংক্রমণ শুরুর সময়ে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক যুবকের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয়। তার পর থেকে এ দেশে এক জনেরও করোনায় মৃত্যু হয়নি। দৈনিক সংক্রমণও আছে নিয়ন্ত্রণে। যেখানে  ভারতে দিন ৪ লক্ষের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, সেখানে ভুটানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১১।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, জনস্বাস্থ্যে বিশেষ জোর দেওয়ার কারণেই এই দেশে করোনা তেমন করে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

ভুটানে রয়েছেন ৩৩৭ জন চিকিৎসক,  আছেন প্রায় ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। তা-ও লড়াইয়ে সফল  ভুটান। কারণ তাদের প্রশাসনিক পরিকল্পনা।

২০১৯-এর ডিসেম্বর চিনে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। আর ভুটান করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে  গত বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়  থেকে। শুরু হয় পরীক্ষা। মার্চ মাসের ৬ তারিখে ভুটানে প্রথম আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। তার প্রায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা প্রায় ৩০০ জনকে চিহ্নিত করে পরীক্ষা শুরু হয়। পাঠানা হয় নিভৃতবাসে। এমন  প্রশাসনিক পদক্ষেপ এগিয়ে রেখেছে পাহাড়ে ঘেরা এই ছোট্ট দেশটিকে।

ভুটানের অর্থনীতি পর্যটন নির্ভর।  তা সত্ত্বেও গত বছরের মার্চ থেকে  বিদেশিদের আগমন বন্ধ করে ভুটান। প্রায় সমস্ত জিম, রেস্তরাঁ, শপিং মল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারে করা হয় কড়াকড়ি। যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছিলেন, তাঁদের জন্য সরকারি খরচে থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কোনও উপসর্গ দেখা দিলেই যাতে সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কোয়রান্টিন সেন্টারে যাওয়া যায়, তার ব্যবস্থাও করা হয়।

ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, এই সাথেই এই দেশে  চালু করা হয় ১৪ থেকে ২১ দিনের কোয়রান্টিনে থাকার নিয়ম। যাতে মান্যতম সংক্রমণেরও সম্ভাবনা না থাকে।   আর তাতেই এসেছে  এই সাফল্য। 

Mailing List