অবৈধ বালি খনন এক রক্তাক্ত জগৎ! খুন করে মানুষ এবং পরিবেশকেও, লিখছেন পরিবেশবিদ প্রভাতকুমার শীট

অবৈধ বালি খনন এক রক্তাক্ত জগৎ! খুন করে মানুষ এবং পরিবেশকেও, লিখছেন পরিবেশবিদ প্রভাতকুমার শীট
09 Jul 2022, 12:10 PM

বালি আসলেনতুন সোনা’, ভারতে অবৈধ বালি খনন এক রক্তাক্ত জগৎ! খুন করে মানুষ এবং পরিবেশকেও

 

প্রভাত কুমার শীট

 

বালি উত্তোলন একটি পরিবেশগত সমস্যা। বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের বালি খনন নদীরপাড় অস্থিতিশীল করে তোলে, বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়, গ্রীষ্মকালীন পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। বালির চাহিদা দ্রুত নগরায়ন ও বিল্ডিং নির্মাণে দ্বারা পরিচালিত হয়। খনি শ্রমিক, সংগঠিত গোষ্ঠী ও সুসংগঠিত মাফিয়াদের হাতে নদী ও উপকূলের বালি উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ থাকে। বিরোধিতা করলে কর্মী, সাধারণ মানুষ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। ভারতে অবৈধ বালি খনন রক্তাক্ত জগত। ভারতে ২০১৯-২০২০ সালে ১৯৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক বালি সম্পদ নিয়ে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউ এন ই পি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দ্ব্যর্থহীন ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অবৈধ বালি খনন একটি প্রধান পরিবেশগত সমস্যা। এই প্রতিবেদন অনুসারে ভারত ও চীন দেশগুলির তালিকার শীর্ষে রয়েছে- যেখানে অবৈধ বালি উত্তোলনের হটস্পট। বিশ্বব্যাপী বালি ও নুড়ির চাহিদা বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন টন।  ১৯০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বালির চাহিদা বেড়েছে ২৫ গুণ। এটি ২০৬০ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ৮২ বিলিয়ন টনে। বর্তমান হারে বালি উত্তোলন চললে ২০৫০ সালের প্রথম দিকে ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

জলের পরে বালি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি এমন এক পর্যায়ে এসেছে যেখানে বালিকে "নতুন সোনা" বলা হয়। আর এই নতুন সোনার খোঁজে প্রতিযোগিতা নেমে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব। প্রাকৃতিক সম্পদ সরাসরি তুলে নিয়ে ব্যবহার করার লক্ষ্যে। এই বালি শিল্প ব্যাপকভাবে দ্রুত নগরায়নের কাজে লেগেছে। বিশ্বে প্রচুর মানুষ খুব সামান্য মজুরিতে কাজ করছে অর্থাৎ বৃহত্তর  কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটু গভীরে ঢুকলে এর ভয়ঙ্কর রূপ ফুটে উঠে, যেখানে সব আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটা কালো অর্থনৈতি ডালপালায় পরিণত হয়েছে। আইনের আওতার বাইরে থাকার ফলে যেমন খুশি বালি উত্তোলন করা যায়। নগরায়ন, শিল্পের বিকাশ ও বিল্ডিং নির্মাণের কারণে অবৈধ বালি খনন বেড়েছে বহু গুন। চীন ২০১৭ সালে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন টন সিমেন্ট ব্যবহার করে রেকর্ড করেছে। ২৭০ মিলিয়ন টন নিয়ে ভারত দ্বিতীয় ও ৮৬.৩ মিলিয়ন টন ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০৩০ নাগাদ বিশ্বব্যাপী সিমেন্ট উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৪.৮৩ বিলিয়ন টন প্রতিবছর। এর ফলে বালি চাহিদাও বেড়ে দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন টনে। বিশ্বে বালি মাফিয়ারা অবৈধ বালি খনন করে উন্নতি লাভ করেছে ও চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে দাম। অবৈধ এবং অবৈজ্ঞানিক ভাবে ক্রমাগত বালি তোলার ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বালির ব্যবহার মূলত নির্মাণ কাজে। যেহেতু কংক্রিটে ৭৫ শতাংশ  বালি থাকে। বাড়ি তৈরীর জন্য ২০০ টন বালি ও হাইওয়ে রাস্তার জন্য তিরিশ হাজার টন এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১২ মিলিয়ন টন বালির ব্যবহার হয়। বালির এই বিপুল চাহিদার কারণে বালির অবৈধ খনন বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সমস্যা আকার নিয়েছে। বিল্ডিং নির্মাণের কারণে শহরাঞ্চলগুলি তাপ দ্বীপের সৃষ্টি হচ্ছে। যা শহর ও শহরতলীর মধ্যে ৫-৭ ডিগ্রি তাপমাত্রার পাথর্ক্য দেখা যায়। নগরায়ন ও বিল্ডিং নির্মাণের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রী বাড়তে পারে একবিংশ শতাব্দীর শেষে। কারণ বিল্ডিং স্টকের ব্যবহারে ২০১০ - ২০৬০ মধ্যে ২৮২-৭০১ গিগাটন কার্বন উৎপন্ন হবে। তাছাড়াও এসি, ফ্রিজ, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তাঘাটে উন্নতি হয়েছে ১০০ গুন। গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণের ফলে বৃষ্টিপাতের খামখেয়ালিপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। পরিবেশবিদরা অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে হইচই করলে দোষারোপ করা হচ্ছে উন্নয়ন বিরোধী বলে। উন্নয়নকামী মানুষ প্রকৃতির অংশ হিসেবে নিজেকে চিনতে পারছে না। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদকে উত্তোলন করে চলেছে দিশাহীন ভাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই প্রগতিশীল মানুষ, প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে।

 

 ভারতের মত উষ্ণ আর্দ্র দেশে বালির ব্যবহার ও বিল্ডিং নির্মাণের হার ও উষ্ণায়নের মাত্র এক ভয়ানক পরিনাম এর সংঙ্কেত দেয়। ভারতে গত দশ বছরে কংক্রিটের ব্যবহার ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর চীনে বেড়েছে ৫৪০ শতাংশ। বিশ্বে আধিকাংশ বিল্ডিং এর চাহিদা মেটায় নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের কোয়ারি বালি (যন্ত্রের সাহায্যে নিষ্কাশন)। নিষ্কাশনের  ফলে উপকূলীয় ক্ষয়, পানীয় জলের সমস্যা, দূষণ, বন্যা, খরা, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, সৈকত ভূমির ক্ষয় সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রানীর বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয় ও উন্নয়নের খামতি দেখা দিচ্ছে। বিশ্বের বেশিরভাগ বড় নদী গুলি তাদের প্রাকৃতিক বালি এবং নুড়ি সরবরাহ কমেছে ৫০ শতাংশ। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বা সেচের জন্য নদী গুলিকে বাঁধ দেওয়ার হয়েছে। পলি সরবরাহ হ্রাসের কারনে বিশ্বের ব-দ্বীপ গুলি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। প্রায় ২৫০বর্গ কিলোমিটার বদ্বীপ নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা ও ৫০০ মিলিয়ন বাসিন্দাদের উদ্বাস্তু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও ব-দ্বীপের বন্যার প্রবণতা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে একুশ শতকের মধ্যে।

গত কয়েক শতাব্দীতে মিসিসিপি ব-দ্বীপ এর সাথে যুক্ত ব-দ্বীপের জলাভূমির ২৫% সমুদ্রে হারিয়ে গেছে পর্যাপ্ত পলি সরবরাহের অভাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২১০০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১০০০০-১৩৫০০ বর্গ কিলোমিটার ব-দ্বীপ সমভূমির  অবনমন হবে। এই মিসিসিপি ব-দ্বীপকে সুরক্ষিত রাখতে ১৮-২৪ বিলিয়ন বালি ও পলির প্রয়োজন। যা বর্তমান অবস্থায় মিসিসিপি নদী থেকে বালি তোলা চেয়ে বহুগুণ বেশি। আবার গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ব-দ্বীপে নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত। প্রতি বছর গড়ে এক গিগাটনেরও বেশি পলি লোড হয়। বিগত কয়েক দশকে এই নদী গুলির উপর বড় ও মাঝারি ড্যাম তৈরি হওয়ায় পলি পরিবহন কমেছে। ব-দ্বীপের গঠন অস্থিতিশীল ও সমুদ্র জলতলের নিম্নে অবস্থিত সুন্দরবন অঞ্চলের বিভিন্ন ব-দ্বীপ। তাই অল্প জোয়ারী ধাক্কায় সমুদ্রের নোনা জল প্রবেশ করে, চাষের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় ও ভূগর্ভের জল মিশে। অবৈধ উপকূলীয় বালি উত্তোলনের ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের প্রভাব উপকূলীয় বন্যাকে ত্বরান্বিত করছে।

 

 

 

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (ডব্লিউ ডব্লিউ এফ)  এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা, মেকং ও ইয়াংজি সহ এশিয়ার প্রধান নদী গুলিতে পলি স্তরে ৯০ শতাংশ হ্রাসের কারন হিসেবে বালি খনিকে দায়ী করেছে। ব-দ্বীপ অঞ্চল গুলি সংকুচিত হয়েছে।  স্থানীয় মানুষ বন্যা, চাষের জমি ক্ষতি, দূষিত পানীয় জল ও ফসলের ক্ষতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নাইজেরিয়া অস্ট্রেলিয়ার প্রভৃতি দেশে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তলদেশের কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে। হাইড্রলজিক্যাল পরিবর্তনের মাধ্যমে নদীর নিম্ন আববাহিকায় ভূমির ব্যবহারিক চরিত্র পরিবর্তন হচ্ছে। এশিয়ার মেকিং নদীতে অত্যধিক বালি খননে নদীর তল কমেছে যা সহজে নদীর পাড় অস্থিতিশীলতা  হয়, বিপদজনক নদীর পাড়ে ধস নামে ও বন্যার সৃষ্টি হয়। চীনের পুয়ন হ্রদ এলাকার নদী থেকে বালি উত্তোলনে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর প্রোফাইলের পরিবর্তন হয়েছে। ইয়াংজি, ইয়েলো, পার্ল নদী গুলি থেকে অত্যধিক বালি খনন করার বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। বন্যার সময় অতিরিক্ত জল শোষণ করার জলাশয়ের ক্ষমতা হারিয়েছে, মাছ ও অন্যান্য প্রজাতির আঁতুড়ঘরে অবনতি ঘটিয়ে চলছে উন্নয়ন। নদীর তলদেশে ডায়াটম, ম্যাক্রো ও মাইক্রো ইনভার্টেব্রেটস ও শৈবাল বা মাছের ডিমের মতো অণুজীবগুলি কমে গিয়েছে। পুইয়ং হ্রদে বালি উত্তোলনের ফলে লাল তালিকাভুক্ত ফিনলেস পোরপোইস বিলুপ্তির পথে। গঙ্গায় ডলফিনের কমে যাওয়া অথবা অরুনাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলায় কালো ঘাড়ের সারস অবলুপ্তির কারণ হিসেবে অত্যধিক নদীর বালি উত্তোলন ও নুড়ি খননকে দায়ী করা হয়েছে।

 চীন বালি ব্যবহারে ৬০ শতাংশ দায়ী। ২০১১ থেকে ২০১৩  তিন বছরের চীন একশত বছরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কংক্রিট ব্যবহার করেছে। এই বিল্ডিং নির্মাণ ও ভূমি পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ঢেলে দিয়েছে অর্থনৈতি। ভারত বালি খনন সমস্যার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। অবৈধ বালি থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৬১১ কোটি টাকা বালি মাফিয়াদের পকেট ভরে। দেশে ৪০০ এর বেশি নদী বালি মাফিয়াদের কবলে। গঙ্গা, যমুনা, কোশী, চম্বল, নর্মদা, সুবর্ণরেখা, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদী থেকে অত্যধিক বালি খননের ফলে পিষে ফেলছে ও বন্যার জন্ম দিচ্ছে। কেরালায় নদীগুলির অবৈধ বালি খননের ফলে ২০১৮ সালের বন্যা পরিস্থিতি ও ভয়াবহতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। পাম্পা, মনিমালা ও আচানকোইলে থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে শুকিয়ে গেছে এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত সত্বেও বন্যার পরে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিম্নগামী । নদীর উভয় তীরে দখলের ফলে নদীর প্রস্থ সংকুচিত হয়েছে। বড় আকারে বালি খনন শুধুমাত্র নদীতীর বা নদীর তলকে অস্থিতিশীল করে না বরং নদীর প্রাকৃতিক জল ও বালি-পলি প্রবাহকে রুদ্ধ করে। এতে বন্যার ঝুঁকি বহু গুণ বাড়ে। ভবিষ্যতে বন্যার তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা এবং তা বাড়বে গঙ্গা, কোশী, তিস্তা, সুবর্ণরেখা, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী  মতো বড় নদীগুলির উপত্যকায় । নদী গুলিকে হত্যা করছি অনিয়ন্ত্রিত বালি উত্তোলনের মাধ্যমে। বালি খনির ফ্রেমওয়ার্ক অনুসারে দেশে বালির ঘাটতি রয়েছে। প্রতি বছর বালির চাহিদা প্রায় ৭০০ মিলিয়ন টন। বছরে ৬-৭ শতাংশ হারে বাড়ছে। ভারতের পশ্চিম উপকূলে সমুদ্রসৈকত ও খাঁড়ি বরাবর অবৈধ বালি খনন উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।

 এই রাজ্য অবৈধ বালি উত্তোলনের বির্পজনক  অবস্থা। অজয়, দামোদর, কংসাবতী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী সহ দক্ষিণ বঙ্গের নদীগুলির স্বাস্থ্য ভলো নয়।  লিস, ঘিস, তিস্তা, জয়ন্তী, জলঢাকা,  কালজানি সহ উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে একই সমস্যা রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাত হলে বিপদজনক হবে। যন্ত্রের সাহায্যে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গর্ত খুঁড়ে বালি তোলা হচ্ছে। বর্ষার সময়ে গর্তে ঘূর্নি তৈরি হয়। নদী পাড় ভাঁঙে, নদীর গতিপথ বদলে যেতে পারে। টানা ৪-৫ দিন মৌসুমি বৃষ্টিপাত চললে নদীতে পাড় ভাঙ্গন ও ভয়াভয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে শিলাবতী, কেলেঘাই, দামোদর, জলঢাকা, রায়ডাক মতো নদী উপত্যকায়। নদী থেকে নির্বিচারে বালি তোলার কারণে গ্রীষ্মকালীন পানীয় জলের সংকট দেখা দেবে। মানুষ পুঁজিবাদী ও প্রযুক্তির হাত ধরে বালি সম্পদ লাগামছাড়া উত্তোলনের ফলে আগামী দিনগুলিতে আরও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হবে। অবৈধ বালি খনন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব গুলি পাশাপাশি উপকূলবর্তী ম্যানগ্রোভের ক্ষতি ও জলবায়ুর পরিবর্তনে আশঙ্কা রয়েছে।  নদীগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের রুজি-রোজগারের জায়গা, তাকে ধ্বংস না করে উন্নয়নের চাহিদা মেটাতে কতগুলো স্থিতিশীল উন্নয়ন পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে, যথা:

 

১) নদীর গুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক অডিট করা। কোথায়, কখন ও কত পরিমাণে বালি তোলা যাবে তার তালিকাভুক্ত ও মূল্যায়ন দরকার।

 

২) সমুদ্র উপকূলীয় বালিয়াড়ি গুলিকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। যাতে সামুদ্রিক ঝড় ,জলোচ্ছ্বাস, সুনামির হাত থেকে উপকূলীকে রক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

 

৩) বিল্ডিং ডিজাইনেরও পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। যাবে বালির চাহিদা ও উত্তোলনে কমানো যায়।

 

৪) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মরুভূমির বালি ব্যবহারে আওতায় আনতে হবে।

৫) সরকারিভাবে বালির খনি মনিটরিং করা এবং বেসলাইন সমীক্ষার মাধ্যমে নির্দেশিকা প্রকাশ করতে হবে। 

 

৬) ফসলের অবশিষ্ট অংশ (খড়) এবং কৃষি বর্জ্য থেকে ইট তৈরি করে প্রাচীর ও ছাদ নির্মাণের ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

৭) সম্ভব হলে সিমেন্ট ও কংক্রিট এর ব্যবহার কমিয়ে, পৌর বর্জ্য ব্যবহার করে বিল্ডিং বা রাস্তা বানানোর সামগ্রী তৈরি করা যেতে পারে।

 

লেখক: রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়, মেদিনীপুর, মেদিনীপুর জেলা।

 

Mailing List