বিজেপিতে টিকে থাকতে হলে লবিবাজীতে করতে হবে, যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক

বিজেপিতে টিকে থাকতে হলে লবিবাজীতে করতে হবে, যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক
02 Aug 2021, 07:55 PM

বিজেপিতে টিকে থাকতে হলে লবিবাজীতে করতে হবে, যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক

 


আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

 

"পুরুলিয়া জেলা বিজেপিতে চলছে লবিবাজী। এখানে টিকে থাকতে হলে লবিবাজীতে টিকে থাকতে হবে। অন্যদিকে ভোটে জেতার পর বিজেপির সাংসদ, বিধায়কদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না এলাকায়। বিজেপি দলে থেকে পাওয়া যাচ্ছে না উপযুক্ত মর্যাদা, মিলছে না যোগ্য সম্মান।" পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এবার এমনই একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর বিধানসভার আদ্রা মন্ডলের জেডপি ২৮ বি'এর যুব মোর্চার সভাপতি অভিষেক মাজী। যে মর্মে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি নীলোৎপল সিংহকে সোমবার দিন একটি ইস্তফা পত্রও দেন তিনি।

 

সোমবার দিন একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেকবাবু জানান, "বিজেপি দলে থেকে মানুষের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছিনা। দলে থেকে উপযুক্ত সন্মান পাচ্ছি না।দলীয় কর্মসূচির কোনও খবর পাচ্ছি না। একই সঙ্গে এলাকায় বিজেপি নেতৃত্ব এলে তাও জানতে পারছি না। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ভোটে জেতার পর এখন এলাকায় দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে না কাশীপুর বিধানসভার বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদাকে। যার ফলে বিজেপি দলটিকে এতদিন যারা বিশ্বাস করেছিলেন তারা বিজেপির ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। আর এতদিন বিজেপি করে একটাই বুঝলাম এখানে টিকে থাকতে হলে লবিবাজীতে টিকে থাকতে হবে। তাই এবার বিজেপি থেকে বিদায় নিলাম। তিনি আরও বলেন আমি কেন আগামী দিনে পুরুলিয়া জেলায় বিজেপিতে কেউই টিকে থাকতে পারবে না।

 


যদিও অন্যদিকে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি নীলোৎপল সিংহ জানান, অভিষেকের যদি কোনও ক্ষোভ থেকে থাকে তাহলে সেটা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে যদি সে ব্যক্তিগত কারণে দল ছাড়তে চাই তবে সে ছাড়তেই পারে। কারণ আমি মনে করি বিজেপি দল যদি তাদের সম্মান দিতে না পারে তাহলে ভারতবর্ষের কোনও রাজনৈতিক দলই তাদের সেই সম্মান দিতে পারবে না।

 


এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গুরুপদ টুডু বলেন, এটা নতুন কোনও বিষয় নয়, বিজেপিতে যারাই গিয়েছেন তারাই অপমানিত, লাঞ্চিত হয়েছে। এই দলে কাজ করার কোনও জায়গা নেই। এই দলে শুধুমাত্র উন্নয়নের নামে চলে ভাওতাবাজি। আজ মানুষ ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন ভোটে জেতার আগে মানুষকে কত স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কেরা। কিন্তু, ভোটে জেতার পর আজ তারা সকলেই নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য অভিষেক যদি স্বেচ্ছায় তৃণমূল কংগ্রেসে সামিল হতে চায় আমরা তাকে অবশ্যই দলে স্বাগত জানাবো।

ads

Mailing List