তোলাবাজ ভাইপোকে নেতা মানব না বলেই দল ছেড়েছি, কেশপুরে ব্যাখ্যা দিলেন শুভেন্দু

তোলাবাজ ভাইপোকে নেতা মানব না বলেই দল ছেড়েছি, কেশপুরে ব্যাখ্যা দিলেন শুভেন্দু
21 Jan 2021, 04:36 PM

তোলাবাজ ভাইপোকে নেতা মানব না বলেই দল ছেড়েছি, কেশপুরে ব্যাখ্যা দিলেন শুভেন্দু

 

কৌশিক দত্ত, আনন্দপুর (পশ্চিম মেদিনীপুর)

 

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি সভাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে 'তোলাবাজ ভাইপো' বলে আক্রমণ করছেন শুভেন্দু। খেজুরির হেঁড়িয়ার সভাতে প্রথম বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুখে আনেন তিনি। এত দিন বলেছেন যে বালি, পাথর চোর, কয়লা পাচার চক্রের দলের সঙ্গে যুক্ত, তোলাবাজ ভাইপোকে জেলে ঢোকানো হবে।

 

আর, বৃহস্পতিবার দুপুরে কেশপুর বিধানসভার আনন্দপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যে স্টাইলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে গুন্ডা, বিজেপি নেতা  জে পি নাড্ডা, অমিত শাহ্, কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের ' বহিরাগত' বলে নাম ধরে আক্রমণ করার পাশাপাশি আক্রমণ করেছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে সেভাবেই আক্রমণ করলেন নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, " তোলাবাজ ভাইপো হটাও বলেছি বলে খুব রাগ হয়েছে।  এখন নাম ধরেই তো বলছি। পারলে আমার নামে কেস করো।"

 

আনন্দপুরের এই সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নিশানা করে বলেন, "কয়লা পাচার চক্রে বিনয় মিশ্র, লালাদের খোঁজ চলছে। গরু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এনামুল, এরা সবাই তৃণমূল।  খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।  আর একটা চৌকাঠ পার হলেই তোলাবাজ ভাইপোকে ধরা হবে।"

 

এই সঙ্গে কেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করেন তাও বলেন। শুভেন্দু বলেন, "একুশ বছর সঙ্গে ছিলাম। বলল তোলাবাজ ভাইপোকে নেতা বলতে হবে। কর্মচারী হিসেবে থাকতে হবে। বলে দিলাম যে সহকর্মী হিসেবে থাকতে পারি, কিন্তু কর্মচারী হিসাবে থাকতে পারব না।

 

শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নয়, এদিন নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। বলেন, "নন্দীগ্রামে, পুরুলিয়াতে এসে বলছেন যে পচা মাল বেরিয়ে গেছে। যদি পচা মালরা বের হয়ে যায় তাহলে পায়ে কাঁটা ফুটছে কেন? ব্যথা করছে কেন?"

জেলা সফরে এসে মেদিনীপুর থেকে ঘাটাল যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে, চন্দ্রকোনা এলাকায়, একজন জয় শ্রীরাম বলায় রেগে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন যে গালাগালি দেওয়া হচ্ছে । সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দু বলেন, "জয় শ্রীরাম বাজে কথা? পরমপুরুষ শ্রীরামকে নিয়ে বলা বাজে কথা?"

গত পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামের মতো কেশপুরেও দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রীকে, এভাবেই খোঁচা দিয়ে বলেন, " পাঁচ বছর আসেননি। ভোট নিয়ে ভোকাট্টা। আর এখন মুখে কেশপুর, নন্দীগ্রাম, গড়বেতার কথা!"  এলাকার বিধায়ক ও সাংসদকেও কেশপুর এলাকায় দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি ।

 

এই দিন তিনি বলেন, সাংসদ  সুনীল মন্ডল বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আরও চার-পাঁচ জন সাংসদ  তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে চলে যাবে।

 

আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন যে নন্দীগ্রামে আধ লাখ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে প্রাক্তন করে দেবেন। এই সভা থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন যে এবার খড়্গপুর আসনেও তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাবেন ।  "উপনির্বাচনে খড়্গপুর জিতিয়ে দিয়েছিলাম। এবার গোহারান হারাব। কে জিতিয়ে এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে শুভেন্দু অধিকারী এবার প্রমাণ করে দেবে।"

 

এই সঙ্গে বলেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন নিকৃষ্ট মানের, পচা মাল। তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই  জানিয়ে বলেন, " ওরা ভিতু। ওরা হ্যাট বললে ভ্যাট বলবেন। চোখ দেখালে আঙুল দেখাতে হবে।" এই সঙ্গে তিনি বলেন যে এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতে হবে।

Mailing List