কেমন হয় মহিষাদল রাজবাড়ির ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপুজো?

কেমন হয় মহিষাদল রাজবাড়ির ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপুজো?
08 Sep 2022, 06:11 PM

কেমন হয় মহিষাদল রাজবাড়ির ঐতিহ্যপূর্ণ দুর্গাপুজো?

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: রাজা কল্যাণ রায়চৌধুরীর থেকে জনার্দন উপাধ্যায় উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে মহিষাদলের জমিদারি কিনে নেন। আর তারপর ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা আনন্দলাল উপাধ্যায়ের স্ত্রী জানকীদেবীর হাত ধরে শুরু হল মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। কারণ রাজার কোনও পুত্রসন্তান ছিল না।

প্রতিমা ডাকের সাজে সজ্জিত। দেবীর পুজো সম্পূর্ণ বৈষ্ণব পদ্ধতিতে। রীতি মেনে আজও মহালয়ার পরদিন অর্থাত্‍ প্রতিপদের দিন কুলদেবতা মদনগোপাল জিউয়ের মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় পুজো। এই ঘট পঞ্চমী অবধি থাকবে দুর্গামন্ডপের পাশে বেলতলায়। ঘট উঠে যাওয়ার পর ওখানে মাটির একটি মঞ্চ তৈরী করে নানারকম শস্য ছড়িয়ে দেবেন মহিষাদল রাজবাড়ীর বর্তমান শরিকেরা। পুজো শেষে দেখা হয়, ওই শস্যগুলো থেকে কেমন পরিমাণ গাছ হয়েছে। অতীতে এই পরিমাণের ওপর নির্ভর করেই বছরের রাজস্ব নির্ধারণ করা হত। আজ জমিদারি চলে গেলেও এই প্রথাটি রয়ে গিয়েছে।

আগে অবশ্য আচারে আরও বাহুল্য ছিল। সে সময় তিথি অনুযায়ী সেই পরিমাণ চালের অন্নভোগ নিবেদন করা হত দেবীকে। অর্থাত্‍ সপ্তমীতে সাতমণ চালের ভোগ, অষ্টমীতে আটমণ এবং নবমীতে নয় মণ চালের ভোগ। সন্ধিপুজোর সময় দাগা হত কামানও। শেষে দশমীর দিন রীতিমত গার্ড অব অনার দিয়েই দেবীকে নিয়ে যাওয়া হত গেঁওখালির রূপনারায়ণ নদীতে। আর তারপর দেবীকে কনকাঞ্জলীতে যে যা দিতেন, দ্বিগুণ ফিরিয়ে দেওয়া হত রাজবাড়ীর তরফে।আগে ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে পুজো করা হত। এখন রাজদিঘীতে ফোটা নীল শালুকেই কাজ সারতে হয়। রাজবাড়ীরপ্রাচীন ভবনও আজ অবলুপ্ত। আড়ম্বরে ঘাটতি পড়লেও মহিলাদল রাজবাড়ির পুজোর ঐতিহ্য কিন্তু আজও ষোলো আনা। এছাড়া বাড়তি হিসেবে পেয়ে যাবেন রাজবাড়ির মিউজিয়াম এবং মেদিনীপুরের গ্রাম্য প্রকৃতি। এর মাঝে দুটো দিন কাটিয়ে আসলে মন্দ লাগবে না।

কীভাবে যেতে হবে: কলকাতা দূরত্ব মোট ১১০ কিলোমিটার। বাই রোড যেতে চাইলে বম্বে রোড ধরে চলে আসুন নন্দকুমার মোড়ে। সেখান থেকে কাপাসারিয়া মোড় ৮ কিলোমিটার। আর এই কাপাসারিয়া থেকে ৫ কিলোমিটার গেলেই মহিষাদল। রাত্রিবাস করতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে- ৯৮৩০২৭৫৯২৮।

Mailing List