গুলি করে ও নলি কেটে টোটো চালক খুনে গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক ও অনুগত ছাত্র! 

গুলি করে ও নলি কেটে টোটো চালক খুনে গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক ও অনুগত ছাত্র! 
04 Mar 2021, 08:59 PM

গুলি করে ও নলি কেটে টোটো চালক খুনে গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক ও অনুগত ছাত্র! 

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে গৃহ শিক্ষকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে পথের কাটা হয়ে উঠেছিলেন টোটো চালক স্বামী। তারই বদলা নিতে অনুগত ছাত্রকে দিয়ে ছাত্রীর বাবাকে গুলি করে খুন করানোর পর মৃত্যু নিশ্চিৎ করতে গৃহশিক্ষকই কেটে দেন ছাত্রীয় বাবার শ্বাসনালী। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বড়ধামাস গ্রাম নিবাসী টোটো চালক পিন্টু পাল(৩৪) কে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনার পুলিশি তদন্তে উঠে এল এমনই রোমহর্ষক ঘটনাপঞ্জি। জেরায় খুনের ঘটনার কথা কবুল কবার পরেই বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্বস্থলী থানা অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক জিতেন ঘোষ এবং তাঁর অনুগত ছাত্র দিব্যেন্দু ঘোষ ওরফে কালু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। এইদিনই ওই দুই অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে খুনের  ঘটনার পুননির্মান করায় পূর্বস্থলীর থানার পুলিশ। শুক্রবার দুই ধৃতকে পুলিশ কালনা আদালতে পেশ করবে। খুনিদের দৃষ্টান্ত মূলক সাজার দাবি তুলেছেন মৃতর পরিজন ও এলাকাবাসী।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রোমহর্ষক এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে। অন্যান্য দিনের মতো ওই দিনও টোটোচালক পিন্টু পাল সন্ধ্যার পর টোট নিয়ে বড়ধামাস গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে বাড়ির অদুরে তিনি তাঁর টোটোর ব্যাটারি চার্জে বসিয়ে দিয়ে এসে রাতের খাওয়া সারেন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে তিনি তাঁর টোটোটি  চার্জ দেওয়ার জায়গা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে যান। সেই রাতেই খুন হন টোটো চালক। টোটো চার্জ দেওয়ার জায়গার কাছেই  আততায়ীরা গুলিকরে ও শ্বাসনালী কেটে খুন করে পালায়।

 

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই হাতে আসতে শুরু করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

 

 

তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের কথায় জানা গিয়েছে,করোনা পরিস্থিতির সময়ে জয়পুরে সোনার কাজ ছেড়ে পূর্বস্থলীর বড়ধামাস গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে পিন্টু। তিনি বাড়ি ফিরে টোটো চালানো শুরু করেন। পিন্টু ভিন রাজ্যে থাকার সময়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর মেয়ের গৃহ শিক্ষক জিতেনের। তারই মধ্যে পিন্টু বাড়ি ফিরে আসায় সবথেকে বেশী রুষ্ট হন গৃহশিক্ষক। পথের কাঁটা সরাতে শেষশেষ পিন্টুর মেয়ের গৃহশিক্ষক জিতেন খুনের পরিকল্পনা কষে পিন্টুকে । এই কাজে তিনি তাঁর  সঙ্গী হিসাবে বেছে নেয় স্থানীয় লক্ষীপুর গ্রামের একসময়ের অনুগত ছাত্র কালু ঘোষ নামে এক যুবককে। তারা দুজনেই পিন্টুর গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু  করে। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে টোটো চার্জ দেওয়ার জায়গার কাছেই তারা পিন্টুকে খুন করে। এদিন পুননির্মানের সময়ে যুবক কালু ঘোষ ঘটনাস্থলে দাড়িয়েই পুলিশকে বলে, সেই প্রথম পিন্টুকে গুলি করে। দেহে গুলি  লাগার পর পিন্টু ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। তারপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে  জিতেন ঘোষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে  পিন্টুর গলার নলি কেটে দেয়। এরপর দুই জনেই ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেয়।

 

 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস এদিন জানিয়েছেন, ‘টোটোচালকে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পুননির্মান করা হয়েছে। অপরাধীরা তাদের অপরাধ কবুল করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পেশ করা  হবে। ’

Mailing List