মন্থনার ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি/দেবী চৌধুরানীর বাড়ি

মন্থনার ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি/দেবী চৌধুরানীর বাড়ি
25 Feb 2021, 09:30 PM

মন্থনার ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি/দেবী চৌধুরানীর বাড়ি

 

 

আনফোল্ড বাংলা ঢাকা ব্যুরো: বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরের ফতেহপুর চাকলার মন্থনা জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা অনন্তরাম তৎকালীন কোচবিহার মহারাজার একজন কর্মচারী ছিলেন।

তিনি একজন বারেন্দ্রীয় ব্রাক্ষণ। ১৭০৩-১৭০৪ খ্রি. এর দিকে কোচবিহার মহারাজা রূপ নারায়নের শাসন-কালে রংপুরের পীরগাছা এলাকায় একটি ছোট্ট তালুক লাভ করেন। তার নামানুসারে উক্ত তালুক (গ্রাম) খানির নাম ও অনন্তরাম হয়। আরেক সূত্রে জানা যায় অনন্তরাম এ বংশের ষষ্ঠ পুরুষ ছিলেন এবং বৈষ্ণব মিশ্র নামে একজন মৈথিলা ব্রাক্ষণ কোচবিহার মহারাজার দ্বারা পুরোহিত এ জমিদারির আদি পুরুষ ছিলেন। তারই বংশের চতুর্থ পুরুষ জিতুমিশ্র এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। অনন্তরামের পূর্ব পুরুষ সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানা যায় না।

 

 ১৭১১ সালের দিকে যখন মোগল বাহিনী ‘কাছওয়ারা’(সরকার কোচ বিহার) দখলে তৎপর হয়ে ওঠে তখন অন্যান্য কোচ কর্মচারীদের মতো অনন্তরাম ও মোগল পক্ষে যোগদান করে মন্থনা জমিদার বাড়িতে তার পূর্বপদ বহাল রাখেন। তার প্রতিষ্ঠিত জমিদারি পরবর্তীকালে মন্থনা অথবা দু আনা ফতেহপুর বলে আখ্যা লাভ করে। তদীয় পুত্র যাদবেন্দ্র নারায়ন একজন খ্যাতনামা বৈষ্ণব অনুসারী ছিলেন এবং যাদব রায় ও গোপাল নামে দুটি পারবারিক বিগ্রহের  প্রতিষ্ঠা করে এক দেবোত্তর এষ্টেট প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি ধর্ম প্রাণ ব্রাক্ষণদের জন্য বহু সম্পত্তি দান করেন। যাদবেন্দ্র রায়ের পুত্র রাঘবেন্দ্র নারায়ণ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না।

তবে রাঘবেন্দ্রের পুত্র নরেন্দ্র ১৭৬৫ খ্রি. উত্তরাধিকার বিহীন অবস্থায় মারা গেলে মৃত জমিদারের স্ত্রী জয় দুর্গা দেবী প্রায় তিন দশকের মতো মন্থনা জমিদারী পরিচালনা করেন। এই জয় দুর্গা দেবীই ইতিহাসে খ্যাতনামা দেবী চৌধুরানী নামে পরিচিত। যিনি তার জীবনদ্দশার অধিকাংশ সময় রংপুরের প্রজা বিদ্রোহীদের সাথে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। পীরগাছা জমিদার বাড়ি রংপুর ফতেপুর চাকলার প্রতিষ্ঠাতা অনন্তরাম। বর্তমানে অনন্তরাম একটি মৌজার নাম যার জে,এল, নং-১১৫, পীরগাছা জমিদার বাড়ি এ অনন্তরাম মৌজায় অবস্থিত। পীরগাছা জমিদার বাড়ি উপজেলা পরিষদ হতে ০.৫০ কি.মি. পূর্বদিকে অবস্থিত।

 

জমিদার বাড়িতে বহু মন্দির ছিল। কালক্রমে তা ধবংস হয়ে গেছে। মন্থনা ছোট তরফের জমিদার ভিরেবেন্দ্র নারায়ণ কর্তৃক নির্মিত ত্রিবিগ্রহ (অন্নপূর্ণা, বিশ্বেশ্বর ও হরিহর শিব) মন্দির আজ ও রয়েছে যা বাংলার স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। এখানে জমিদার বাড়ি, মন্দির, বিশালাকার পুকুর ও অন্যান্য প্রত্মতাত্বিক নিদর্শন রয়েছে।পুরের ফতেহপুর চাকলার মন্থনা জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা অনন্তরাম কোচবিহার মহারাজার একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি একজন বারেন্দ্রীয় ব্রাক্ষণ। ১৭০৩-১৭০৪ খ্রি. এর দিকে কোচবিহার মহারাজা রূপনারায়নের শাসন-কালে রংপুরের পীরগাছা এলাকায় একটি ছোট্ট তালুক লাভ করেন। তার নামানুসারে উক্ত তালুক (গ্রাম) খানির নাম ও অনন্তরাম হয়। আরেক সূত্রে জানা যায় অনন্তরাম এ বংশের ষষ্ঠ পুরুষ ছিলেন এবং বৈষ্ণব মিশ্র নামে একজন মৈথিলা ব্রাক্ষণ কোচবিহার মহারাজার দ্বারা পুরোহিত এ জমিদারির আদি পুরুষ ছিলেন। তারই বংশের চতুর্থ পুরুষ জিতুমিশ্র এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। অনন্তরামের পূর্ব পুরুষ সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানা যায় না। ১৭১১ সালের দিকে যখন মোগল বাহিনী ‘কাছওয়ারা’ (সরকার কোচ বিহার) দখলে তৎপর হয়ে ওঠে তখন অন্যান্য কোচ কর্মচারীদের মতো অনন্তরাম ও মোগল পক্ষে যোগদান করে মন্থনা জমিদার বাড়িতে তার পূর্বপদ বহাল রাখেন। তার প্রতিষ্ঠিত জমিদারি পরবর্তীকালে মন্থনা অথবা দু আনা ফতেহপুর বলে আখ্যা লাভ করে। তদীয় পুত্র যাদবেন্দ্র নারায়ন একজন খ্যাতনামা বৈষ্ণব  অনুসারী ছিলেন এবং যাদব রায় ও গোপাল নামে দুটি পারবারিক বিগ্রহের  প্রতিষ্ঠা করে এক দেবোত্তর এষ্টেট প্রতিষ্ঠা করেন।

 

এছাড়াও তিনি ধর্ম প্রাণ ব্রাক্ষণদের জন্য বহু সম্পত্তি দান করেন। যাদবেন্দ্র রায়ের পুত্র রাঘবেন্দ্র নারায়ণ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তবে রাঘবেন্দ্রের পুত্র নরেন্দ্র ১৭৬৫ খ্রি. উত্তরাধিকার বিহীন অবস্থায় মারা গেলে মৃত জমিদারের স্ত্রী জয় দুর্গা দেবী প্রায় তিন দশকের মতো মন্থনা জমিদারী পরিচালনা করেন। এই জয় দুর্গা দেবীই ইতিহাসে খ্যাতনামা দেবী চৌধুরানী নামে পরিচিত। যিনি তার জীবনদ্দশার অধিকাংশ সময় রংপুরের প্রজা বিদ্রোহীদের সাথে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। পীরগাছা জমিদার বাড়ি রংপুর ফতেপুর চাকলার প্রতিষ্ঠাতা অনন্তরাম। বর্তমানে অনন্তরাম একটি মৌজার নাম যার জে,এল, নং-১১৫, পীরগাছা জমিদার বাড়ি এ অনন্তরাম মৌজায় অবস্থিত। পীরগাছা জমিদার বাড়ি উপজেলা পরিষদ হতে ০.৫০ কি.মি. পূর্বদিকে অবস্থিত। জমিদার বাড়িতে বহু মন্দির ছিল কালক্রমে তা ধবংস হয়ে গেছে। মন্থনা ছোট তরফের জমিদার ভিরেবেন্দ্র নারায়ণ কর্তৃক নির্মিত ত্রিবিগ্রহ (অন্নপূর্ণা, বিশ্বেশ্বর ও হরিহর শিব) মন্দির আজ ও রয়েছে যা বাংলার স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। এখানে জমিদার বাড়ি, মন্দির, বিশালাকার পুকুর ও অন্যান্য প্রত্মতাত্বিক নিদর্শন রয়েছে।

 

আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি যে আমি আজ ২০ বছর ধরে বাংলা ছবি করছি। এর মধ্যে বহুবার বহু জায়গা থেকে অনুরোধ এসেছে যে আমি বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা পরিত্যাগ করে অন্য দেশে, অন্য ভাষায় চিত্র রচনা করি। কিন্তু আমি সেই অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ আমি জানি, আমার রক্তে যে ভাষা বইছে, সে ভাষা হলো বাংলা ভাষা, আমি জানি যে সেই ভাষাকে বাদ দিয়ে অন্য ভাষায় কিছু করতে গেলে আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে, আমি কূলকিনারা পাব না, শিল্পী হিসেবে আমি মনের জোর হারাব।

 

আমি ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি যে পূর্ববঙ্গ নাকি আমার দেশ। আমার ঠাকুরদাদা উপেন্দ্রকিশোর রায়ের নাম হয়তো আপনারা কেউ কেউ শুনেছেন। আমার তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি, কিন্তু শিশুকাল থেকে আমি তাঁর রচিত ছেলেভোলানো পূর্ববঙ্গের কাহিনি ‘টুনটুনির বই’ পড়ে এসেছি, ভালোবেসে এসেছি। তাঁর রচিত গানে আমি পূর্ববঙ্গের লোকসংগীতের আমেজ পেয়েছি। যদিও আমি এ দেশে আসিনি, আমার দেশে আমি কখনো আসিনি বা স্থায়ীভাবে আসিনি। এসব গান, এসব রূপকথা শুনলে আমার মনে হতো যে এ দেশের সঙ্গে আমার নাড়ির যোগ রয়েছে। যখন আমার পাঁচ কি ছয় বছর বয়স, তখন আমি একবার ঢাকা শহরে এসেছিলাম। দু-তিন দিন মাত্র ছিলাম। আমার মামার বাড়ি ছিল ওয়ারীতে, র্যা ঙ্কিন স্ট্রিটে। সে বাড়ি এখন আছে কি না জানি না। সে রাস্তা এখন আছে কি না জানি না। বাড়ির কথা কিছু মনে নেই। মনে আছে শুধু যে প্রচণ্ড বাঁদরের উপদ্রব। বাঁদর এখনো আছে কি না, তা-ও আমি জানি না। তারপর মনে আছে পদ্মায় স্টিমারে আসছি। ভোরবেলায় ঘুম ভেঙে গেছে, মা আমাকে বাইরে ডেকে এনে দেখাচ্ছেন যে পদ্মার ওপর সূর্যোদয় হয়েছে। আর দেখাচ্ছেন যে পদ্মা ও মেঘনার জল যেখানে এসে মিশেছে, সেখানে এক নদীর জলের রঙের কত তফাত। সেই থেকে বারবার মনে হয়েছে যে একবার নিজের দেশটা দেখে আসতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু সে আশা, বিশেষত দেশ বিভাগের পর ক্রমেই দুরাশায় পরিণত হতে চলেছিল। হঠাৎ কিছুদিন আগে ইতিহাসের চাকা ঘুরে গেল, আমার কাছে আমার দেশের দরজা খুলে গেল এবং আজ শহীদ দিবসে এসে, আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে, ঢাকা শহরে এসে আমার স্বপ্ন অন্তত কিছুটা অংশে সফল হলো। এবার আমি অনেক জরুরি কাজ রেখে চলে এসেছি। এবার আর বেশি দিন থাকা সম্ভব হচ্ছে না; কিন্তু আমার ইচ্ছা আছে, আমার আশা আছে, অদূর ভবিষ্যতে আমি আবার এ দেশে ফিরে আসব। এ দেশটাকে ভালো করে দেখব। এ দেশের মানুষের সঙ্গে এমনভাবে জনসভায় নয়, সামনাসামনি, মুখোমুখি বসে কথা বলে তাদের সঙ্গে পরিচয় করব। এ আশা আমার আছে। আমি আর বিশেষ কিছু বলতে চাই না। সংগীতের অনুষ্ঠান রয়েছে, আপনারা যে আমার কাজের সঙ্গে পরিচিত বা আমার কাজ সম্পর্কে যে আপনাদের কৌতূহল আছে, সে খবর আমি এর আগেই পেয়েছি। কয়েক বছর আগে যখন মহানগর ছবি এখানে দেখানো হয়েছিল, তাতে এখানকার জনসাধারণ কী ধরনের আগ্রহ, কৌতূহল প্রকাশ করেছিলেন এবং তার ফলে কী ঘটনার উদ্ভব হয়েছিল, সে খবর আমার কানে যখন প্রথম পৌঁছায়, আমি সে কথা বিশ্বাস করিনি কিন্তু তারপর এখান থেকে বহু পরিচিত-অপরিচিত ব্যক্তি, বন্ধু আমাকে চিঠি লিখে খবরের কাগজের খবর কেটে পাঠিয়েছিলেন। ছবি কেটে পাঠিয়ে আমাকে জানিয়েছিলেন সে ঘটনার কথা। তখন বিশ্বাস হয়েছিল এবং বিস্ময়ে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভাবতে পারিনি যে এটা হতে পারে। একজন শিল্পী হিসেবে এর চেয়ে বড় সম্মান, এর থেকে গর্বের বিষয় আর কিছুই হতে পারে না।

ads

Mailing List