bangladesh agriculture লবণাক্ত, হাওর ও পাহাড়ি জমিতে ফসল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, জানালেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী

bangladesh agriculture লবণাক্ত, হাওর ও পাহাড়ি জমিতে ফসল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, জানালেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী
05 Dec 2021, 08:35 PM

লবণাক্ত, হাওর ও পাহাড়ি জমিতে ফসল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, জানালেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন:  বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে। তাই  সবার জন্য  খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপকূলের লবণাক্ত, হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রতিকূল পরিবেশে ও জমিতে ফসল উৎপাদনে সরকার এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মহম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের আমলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে। সরকার এখন সকল মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে। কিন্তু ক্রমহ্রাসমান চাষযোগ্য জমি, বিপরীতে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই বা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

বাংলাদেশের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা  উপকূলীয় এলাকা। উপকূলীয় ১৮ টি জেলার ৯৩টিরও বেশী উপজেলার ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততায় আক্রান্ত। যার ফলে এই এলাকার ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়। 

রবিবার ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনার, শোকেসিং, সয়েল কেয়ার অ্যাওয়ার্ড ও মৃত্তিকা দিবস পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

 মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা  করে। এবারের বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো 'লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি'। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও টেকসই রাখতে হলে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য জাত এবং উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য, আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা অনেক ফসলের লবণাক্ত সহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবনে করতে সক্ষম হয়েছে। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি চাষীদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে।’ 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন, ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। 

শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘লবণাক্ততা-সহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে মানুষের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। দেশের লবণাক্ত এলাকায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই কৃষি অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত ইনোভেশন আনতে হবে। এ লক্ষ্যে মাটির অবক্ষয় রোধে বিনিয়োগ ও গবেষণা বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য সীমিত জমি থেকে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্যও মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। ক্রমাগত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ঔষধ ব্যবহারের কারণে দেশের নদী-নালা ও জলাশয়ে মাছসহ নানা জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, মানুষসহ উদ্ভিদের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। মাটির লবণাক্ততা মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাটির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।’

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো: বখতিয়ার, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল।

 

 

ads

Mailing List