সুখের ঠিকানার দেশও হয়?

সুখের ঠিকানার দেশও হয়?
01 May 2022, 10:10 AM

সুখের ঠিকানার দেশও হয়?

 

কাঞ্চনকুমার ভৌমিক

 

ভুটানে নাগরিকদের জাতীয় পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। ছেলেদের পোশাক "ঘো" আর মেয়েদের "কিরা"।

ভূটানের জিরো কার্বন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবই আজ শিক্ষনীয়। ‘সুখের মডেল’ অনুসরণ করছে জাতিসংঘ।

টাকা পয়সা দিয়ে কি সুখ কেনা যায়? যদি তা হত তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ হত ইউরোপ এবং অ্যামেরিকার মানুষরা৷ কিন্তু বাস্তব সত্য হল ভুটানের মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ৷ অথচ দেশটি পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম৷

ভুটান। ছোট্ট দেশটিতে রয়েছে সুখের ঠিকানা৷ কারণ, এই দেশটি গড় জাতীয় উৎপাদন নয়, বরং ‘গড় জাতীয় সুখ'এর মানদণ্ডে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে৷

জাতিসংঘ এখন অনুসরণ করছে ভুটানের পদক্ষেপ৷ আর্থ ইন্সটিটিউটের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুটান এগিয়ে যাচ্ছে এমন একটি লক্ষ্যের দিকে যা অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন৷ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের একটি সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘সাধারণ মানুষরা যেন ভালভাবে এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেটাই করা হচ্ছে৷ সবার মাঝে যেন প্রশান্তি থাকে আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য এমন হতে হবে যা দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনে৷''

শুধু টাকা-পয়সা এবং ধন দৌলত সুখ দিতে পারে – এমনটা বিশ্বাস করে না ভুটানের মানুষ৷ তাঁদের কাছে অপার্থিব এবং আধ্যাত্মিক সুখ অনেক বেশি গুরুত্ব পায়।

ভুটানের মানুষের কাছে মানসিক প্রশান্তি অত্যন্ত জরুরি৷ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া, শিক্ষা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, সবার সঙ্গে সখ্যতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল – এসব বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে থাকে ভুটানের মানুষরা৷

তবে একথা ঠিক যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইউরোপ এগিয়ে রয়েছে, তাদের মধ্যেও রয়েছে সুখী কয়েকটি দেশ৷ ডেনমার্ক এগিয়ে রয়েছে অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে৷ কিন্তু তারপরেও যারা জরিপ চালিয়েছেন তারা জানিয়েছেন, ধনী দেশ হলেও ডেনমার্কের চেয়ে ভুটানের মানুষরা অনেক বেশি সুখী৷

ভুটানের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হল কৃষি৷ এর পাশাপাশি রয়েছে পর্যটন।

 

লেখক: কৃষিবিজ্ঞানী। ভারত।

ads

Mailing List