ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ঔষধি তুলসি চাষে

ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ঔষধি তুলসি চাষে
03 Mar 2022, 09:32 PM

ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ঔষধি তুলসি চাষে

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন : আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে তুলসির গুরুত্ব বিশাল। কেবল তাই নয় রূপচর্চা থেকে শরীর চর্চা আমাদের রোজকার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তুলসি পাতার গুরুত্ব রয়েছে। মহার্ঘ তুলসীর উপকারিতা নিয়ে সারা দেশ জুড়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। প্রাচীন কাল থেকেই এই গুল্ম প্রকৃতির উদ্ভিদ তুলসি রকমারি ঔষধি গুনে পরিপূর্ণ। তাই তুলসীর মতো ঔষধি গাছ চাষ করার লাভ অনেক। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকেরা বিভিন্ন ধরণের ঔষধি গাছ চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন। দুটি ফসল চাষের মধ্যবর্তী সময়টিতে এই ধরণের চাষ খুবই লাভদায়ক হতে পারে।

 

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর এলাকা এই তুলসি চাষে বেশ অনেকটাই এগিয়ে, এই জেলায় মূলত লেবু তুলসী, মারোয়া তুলসী, বাবু তুলসী, বন তুলসী, জোয়ান তুলসী, রাম তুলসী, রাধা তুলসী ও কৃষ্ণ তুলসী চাষ করতে দেখা যায়।

 

বর্ষার মরশুম অর্থাৎ জুন থেকে আগস্ট মাস তুলসী চাষের জন্য সব চাইতে আর্দশ সময়। এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে তুলসীর বীজ বপন করতে হয়। সাধারণত এক হেক্টর জমির জন্য তুলসি বীজ লাগে ১০ কেজি। যেহেতু তুলসী গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই বেশী সেহেতু রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ করার খরচ প্রায় নেই বললেই চলে।

 

বেলে অথবা দোঁয়াশ মাটি সাধারণত তুলসী চাষের ক্ষেত্রে ভীষণ উপযোগী। সামান্য গোবর সার দিয়ে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে তুলসীর বীজ জমিতে বুনতে হয়। নতুন চারাগাছ লাগিয়ে তার তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তুলসী উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া কাটিং করে বছরভর তুলসী চাষ উৎপাদন করতে পারেন।

 

আমাদের রাজ্যে সাধারণত যে যে ধরণের তুলসি চাষ করা হয়ে থাকে তা হলো


লেবু তুলসী

ডিম্বাকৃত এই তুলসীর পাতা ৪৫ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার আকার হয় ৩.৯ থেকে ৫.২ সেন্টিমিটার। এটি বর্ষজীবী। যার উপকারিতা অপরিসীম।  রান্নায় লেবু তুলসী পাতা ব্যবহারে সুগন্ধ ছড়ায় তাছাড়া বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়েও যন্ত্রণা থেকে উপশম দেয় এই তুলসি

মারোয়া তুলসী

লম্বায় ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। মিথাইল ইউজিনল থাকে। মাথা ব্যথা যা সাইনাসের ক্ষেত্রে এই তুলসী পাতা নিংড়ে ব্যবহার করলে উপশম মেলে। ক্ষতিকারক মাছি তাড়াতে মারোয়া তুলসীর পাতা বেটে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ফসলের পোকা মারার জন্য কীটনাশক হিসাবেও এই তুলসির কার্যকরীতা অপরিসীম। বিশেষ করে শসা , কুমড়ো, পেঁপে এবং আম জাতীয় ফলে শত্রু পোকা ধ্বংস করে এই জাতের তুলসি । ফেরোমেন হিসাবে কাজ করে।

বন তুলসী

লম্বা ২০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার। পাতার দৈর্ঘ্য ২.৩ থেকে ৪.৭ সেন্টিমিটার। এই তুলসীর বীজ খালি পেটে খেলে চটজলদি পেট ফাঁপা নিবারণ হয়। বন তুলসীর শুকনো পাতা আগুনে পুড়িয়ে রাখলে মশা তাড়ানো সম্ভব।

বাবু তুলসী

৪৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। সাইনাসের যন্ত্রণা থেকে উপশম পাওয়া যায়।

রাম তুলসী

১৪০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার । পাতা ৪.১ থেকে ১০.৬ সেন্টিমিটার। উপকারিতা সকাল বেলায় খালি পেটে মধুর সঙ্গে খেলে শুকনো কফ এবং পেটের ব্যথা নিবারণ হয়।

আযোয়ান তুলসী

১২৫ থেকে ২৬০ সেন্টিমিটার। পাতা লম্বা ৬.৮ থেকে ১৯ সেন্টিমিটার। বিষাক্ত পোকা কামড়ের জ্বালা থেকে এই পাতার রস যথেষ্ট কার্যকরী।


এছাড়াও 'সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনাল এন্ড অ্যারোমেটিক প্ল্যান্ট' - লক্ষ্ণৌ এর বিজ্ঞাণীদের গবেষণায় এক নতুন ধরণের তুলসী গাছের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। রুলোপ-১৪ কিসান তুলসীর নতুন একটি ভ্যারাইটি তারা বার করেছেন। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা প্রতি হেক্টরে খরচা করে এই তুলসি চাষ করে উপার্জন করতে পারেন প্রায় ৩ লাখ টাকা।

Mailing List