কেউকেটা হলেই এক সেকেন্ডেই ‘ঘ্যাচাং ফু’ করে দেওয়া হবে, মেদিনীপুরের দলীয় কর্মীসভায় সাফ বার্তা মমতার

কেউকেটা হলেই এক সেকেন্ডেই ‘ঘ্যাচাং ফু’ করে দেওয়া হবে, মেদিনীপুরের দলীয় কর্মীসভায় সাফ বার্তা মমতার
18 May 2022, 12:37 PM

কেউকেটা হলেই এক সেকেন্ডেই ‘ঘ্যাচাং ফু’ করে  দেওয়া হবে, মেদিনীপুরের দলীয় কর্মীসভায় সাফ বার্তা মমতার

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কাজ করতে হবে মানুষের জন্য, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই। আর কেউ যদি তা না করে নিজের জন্য কাজ করতে চান তাহলে এক সেকেন্ডেই ‘ঘ্যাচাং ফু’ করে দেওয়া হবে। দলের নেতা কর্মীদের কাজ করতে হবে দলের নিয়ম নীতি মেনেই। আর কেউ যদি না করেন তাহলে ‘এক সেকেন্ডেই তাঁর নাম কেটে দেওয়া হবে’। মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বুথস্তরীয় কর্মী মহাসম্মেলনে’ দলের নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের এই বলেও সতর্ক করে দিলেন  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করার পরে এদিন মেদিনীপুরর কলেজ ময়দানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সম্মেলনে কর্মীদের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি তাঁর বক্তব্যে দলের বুথস্তরের কর্মীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন। সেই সঙ্গে বলেন, "কোনও জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে গেলে বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গেও দেখা করব। যারা মাঠে বসে থাকে তাঁরা বড় কর্মী। যাঁরা মঞ্চে বসে থাকেন তাঁরা বড় নন। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ নেতা কাজের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়। যে কাজ করে সেই নেতাদের আমি পছন্দ করি। সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় কাজ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে হবে। যে মানুষের পাশে দাঁড়ায় সেই আসল নেতা।"

 তারপরেই দলের বিধায়ক, জেলা পরিষদ সদস্য, পঞ্চায়েত সদস্যদের জন্য তাঁর আরও কড়া বার্তা । তিনি বলেন, “ আমি নই, আমরা। এই শ্লোগান নিয়েই কাজ করতে হবে। জিতে গেলাম আর মনে করলাম যে ‘আমি’ তা করলে চলবে না। কেউ যদি মনে করেন আমি কেউকেটা হয়ে গেলাম তাহলে একেবারে ‘ঘ্যাচাং ফু’ করে দেব। এক সেকেন্ডে নাম কেটে দেব।” তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আমার সৃষ্টি। কেউ যদি এর বদনাম করতে চাই, তা মানা হবে না ।”

সেই সঙ্গে মমতা বলেন, “কেউ যদি দলের নিয়ম না মেনে, দলের নির্দেশ না মেনে কাজ করেন তাহলে তাঁদের জন্য বলব ‘দরজা খোলা আছে’। তাঁদের বলব ঘরে বসে যান, আর বেশি কিছু আশা করি না।”

মূলত বেশ কয়েকজন নেতা বিধায়ক, সভাধিপতি বা অন্যান্য পদ পাওয়ার পর আর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলে অভিযোগ উঠছে। এমনকী, কিছু ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠছে। শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই নয়, দলীয় কর্মীদের প্রতিও ব্যবহার খারাপের অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও তেমন অভিযোগ গিয়েছে। তা জানার পরেই এভাবে কড়া বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলেই জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অবশ্য স্বভাবতই খুশির হাওয়া নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।

ads

Mailing List